এটি প্রায়ই দেখা যায় যে, যারা নিজেদের ধর্মীয়ভাবে প্র্যাক্টিসিং বলে দাবি করেন, তারা গরিবিকে প্রশংসা করেন এবং যারা ব্যবসা, বানিজ্য করে বা ধনী—তাদেরকে অবজ্ঞার দৃষ্টিতে দেখেন, এমনকি কখনো কখনো নেতিবাচকভাবে মন্তব্য করেন। এটি শয়তানের একটি গোপন ফাঁদ, যা সে অনেক মানুষের অন্তরে পেতে রাখে। কিছু মানুষ দাবি করে যে, গরিবি মানুষকে আধ্যাত্মিক জ্ঞানে উন্নীত করে। এটি সত্য থেকে বহু দূরে। যদি কেউ দাবি করে যে সে আধ্যাত্মিক জ্ঞানে উন্নীত হয়েছে, কিন্তু তার জীবন কুরআন ও সুন্নাহর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়, তাহলে সে ব্যক্তি ও তার কথা প্রত্যাখ্যাত হবে। তাসাউফের জ্ঞান রাসূলুল্লাহ ﷺ এর হাদিস দ্বারা সুরক্ষিত ও সীমাবদ্ধ।
তাসাউফের ইমামগণ বলেন যে, তাসাউফের মূলনীতি তিনটি বিষয়ের উপর প্রতিষ্ঠিত:
১. আল্লাহর কিতাবের প্রতি আত্মসমর্পণ।
২. রাসূলুল্লাহ ﷺ এর সুন্নাহ অনুসরণ।
৩. হালাল রিজিক।
এই প্রবন্ধটি গরিবিকে অতিরিক্ত গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়টি আলোচনার উদ্দেশ্যে লেখা, যাতে করে মুসলিমদের স্বনির্ভরতা, উপার্জনের গুরুত্ব এবং যুহদের (সংযম) সঠিক ধারণা তুলে ধরা যায়। এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা, কারণ এই ভুল ধারণাগুলো অনেক মুসলিমকে তাদের প্রকৃত সম্ভাবনা (potential) বাস্তবায়ন থেকে পিছিয়ে রাখছে।
দারিদ্র্য এমন কিছু নয় যা কাম্য বা প্রশংসনীয় এবং এটি কখনোই এমন কিছু নয় যার দিকে মানুষ আকর্ষিত হবে। যুহদের ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল رحمه الله প্রায়ই তাবেঈ আবু কিলাবা আল-বাসরী এর আয়ূব আস-সাখতিয়ানি-কে বলা একটি বাণী উদ্ধৃত করতেন:
الغناء من العافيه
“সম্পদশালীতা সুস্থতারই অংশ।”
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: “উপরের হাত নিচের হাতের চেয়ে উত্তম। উপরের হাত হলো দানের হাত, আর নিচের হাত হলো গ্রহণকারী হাত।” [বুখারী]
তিনি ﷺ আরও বলেছেন: “শক্তিশালী মুমিন আল্লাহর কাছে দুর্বল মুমিনের চেয়ে অধিক প্রিয়, যদিও উভয়ের মধ্যেই কল্যাণ রয়েছে। তোমার জন্য যা উপকারী, তা অর্জনের জন্য আগ্রহী হও, আল্লাহর সাহায্য চাও, এবং হতোদ্যম হয়ো না।” [মুসলিম]
রাসূলুল্লাহ ﷺ দোআ করতেন: “হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে আশ্রয় চাই জাহান্নাম থেকে, কবরের আজাব থেকে, সম্পদের পরীক্ষার অনিষ্ট থেকে এবং দারিদ্র্যের পরীক্ষার অনিষ্ট থেকে।”
ওয়াহব ইবন মুনাব্বিহ, যিনি আবু হুরায়রা رضي الله عنه এর ছাত্র ছিলেন, তিনি বলতেন: “দারিদ্র্য নিঃসন্দেহে সবচেয়ে বড় মৃত্যু।”
সা‘দ رضي الله عنه বর্ণনা করেন: রাসূলুল্লাহ ﷺ আমাকে দেখতে এলেন যখন আমি মক্কায় অসুস্থ ছিলাম। আমি বললাম, “আমার কিছু সম্পদ রয়েছে। আমি কি সবটুকু দান করে দিতে পারি?” নবি বললেন, “না।” আমি বললাম, “তার অর্ধেক?” নবি বললেন, “না।” আমি বললাম, “তাহলে এক-তৃতীয়াংশ?” নবি বললেন, “হ্যাঁ, এক-তৃতীয়াংশ, কিন্তু এটাও অনেক বেশি। তুমি যদি তোমার উত্তরাধিকারীদের ধনী অবস্থায় রেখে যাও, এটা তাদের দরিদ্র রেখে মানুষের কাছে হাত পাতিয়ে যাওয়ার চেয়ে উত্তম। তুমি যা তাদের জন্য ব্যয় করো, সেটি তোমার জন্য সদকা— এমনকি তুমি তোমার স্ত্রীকে যে লোকমা খাওয়াও তাও।” [বুখারী]
সম্পদ কী?
আরবিতে সম্পদের জন্য ব্যবহৃত শব্দ হলো “মাল”। এর আভিধানিক অর্থ হলো: এমন বস্তু, যার প্রতি মানুষের স্বাভাবিক ঝোঁক থাকে, যা কেউ অধিকারে নেয় এবং যার মালিক হতে চায়। এর সংজ্ঞা হলো: “এমন কিছু, স্থাবর বা অস্থাবর, যার প্রতি মানুষের প্রাকৃতিক ঝোঁক থাকে এবং যা প্রয়োজনের সময় জমা করে রাখা যায়।” [আল-কামুস আল-ফিকহি]
ইমাম আশ-শাফিয়ী বলেছেন, “মাল হলো এমন বস্তু যার পার্থিব মূল্য রয়েছে এবং যা বিক্রয়যোগ্য।” [আল-আসবাহ ওয়ান-নাযায়ির]
সাধারণভাবে মাল বলতে বোঝানো হয়: এমন সবকিছু যা কোনো ব্যক্তি বা কোনো সম্প্রদায়ের মালিকানায় থাকে, যেমন উপকারী বস্তু, পণ্যমূল্য, স্থাবর সম্পত্তি, টাকা-পয়সা কিংবা জন্তু-জানোয়ার। [আল-কামুস আল-ফিকহি]
“مِلْك” (মিল্ক) বা মালিকানা বলতে ফকীহগণ বুঝিয়েছেন: “একটি আইনি সম্পর্ক যা কোনো ব্যক্তি ও কোনো বস্তুর মধ্যে থাকে, যার মাধ্যমে সে ঐ বস্তুর উপর একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ পায় এবং অন্যরা তা নিয়ে নড়াচড়া করতে পারে না।” অর্থাৎ, “মালিকানা” (مِلْك) -এর দৃষ্টিকোণ থেকে ব্যক্তি যা হালালভাবে উপার্জন করে তার মালিক হয় এবং তার উপর নির্ভর করে ব্যবহারের অধিকার লাভ করে—যা শরীয়তের সীমার মধ্যে থেকেই সম্পাদিত হয়।
সারাংশে, সম্পদ হলো এমন কিছু মূল্যবান জিনিস যার ওপর একজন ব্যক্তির মালিকানা আছে অথবা বৈধভাবে মালিকানা অর্জন করা যায়।
উপার্জন (كَسْب) কী?
উপরোক্ত মাল-এর সংজ্ঞা থেকে বোঝা যায়, কাসব বা উপার্জন হলো: হালাল ও নৈতিক উপায়ে সম্পদের মালিকানা অর্জন করা, যার মাধ্যমে ব্যক্তি নিজে, তার পরিবার এবং সম্প্রদায়ের জন্য খরচ করতে পারে। এই ব্যয় বা ইনফাক আল্লাহর পথে একটি জিহাদের অংশ।
এই বিষয়গুলো ইমাম আল-মুহাসিবী খুব সুন্দরভাবে সংক্ষেপে বলেছেন: “তুমি যখন বাজারে যাওয়ার বা জীবিকা অর্জনের ইচ্ছা করো, কোনো পেশা গ্রহণ করো, অথবা কোনো বৈধ কাজে অংশগ্রহণ করো আল্লাহর রাসূল ﷺ এর আমল অনুসরণের উদ্দেশ্যে, তোমার নিজের ও পরিবারের জন্য হালাল রিজিক কামানোর জন্য, মানুষের মুখাপেক্ষী না হয়ে চলার জন্য, তোমার ভাই ও প্রতিবেশীদের প্রতি দয়াশীল হতে, যাকাত প্রদান করতে এবং অন্যান্য বাধ্যতামূলক দায়িত্ব পূরণ করতে—তাহলে এই কাজগুলো করতে গিয়ে আশা রাখো, তুমি এমন অবস্থায় আল্লাহর সঙ্গে সাক্ষাৎ করবে যেন তোমার মুখ হবে পূর্ণিমার চাঁদের মত উজ্জ্বল।” [আল-মাকাসিব ওয়াল-ওয়ারা]
হালাল সম্পদ ও যুহদের মাঝে ভারসাম্য স্থাপন
শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে আমাদের আলেমগণ হালাল উপার্জনের গুরুত্বের ওপর আলোকপাত করেছেন, এবং একইসাথে তাকে সংযুক্ত করেছেন ওয়ারা‘ (সতর্কতা), যুহদ (বৈরাগ্য), তাওয়াক্কুল (আল্লাহর উপর ভরসা), তা‘আত (আজ্ঞাপালন), এবং আমাদের সমাজের কল্যাণে কাজ করার মতো ধারণার সঙ্গে। অনেকে মনে করে থাকেন, যারা বৈরাগ্য ও হালাল উপার্জনের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখার কথা বলেন, তারা বুঝি এমন এক যুগে লিখেছেন যখন দুনিয়ার ভোগবিলাস তেমন ছিল না, বা তারা পাহাড়ের গুহায় বসবাস করা সন্ন্যাসীর মতো জীবন যাপন করতেন। অথচ বাস্তবতা একেবারেই ভিন্ন।
এই আলেমগণ ও তাদের রচনাবলি সেই সমাজেরই অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিলেন যেখানে তারা বসবাস করতেন। লক্ষণীয় বিষয় হলো, যেসব বিখ্যাত গ্রন্থ যুহদ ও হৃদয় নরমকারী বিষয়ে লেখা হয়েছে, সেগুলোর অনেকটাই রচিত হয়েছিল আব্বাসীয় শাসনের চূড়ান্ত সময়ে—যখন বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে বিপুল সম্পদ বাগদাদে আসছিল। তখনকার আলেমগণ একদিকে যেমন রিবার ব্যাপারে কঠোরভাবে সতর্ক করতেন, অন্যদিকে সবাইকে হালাল উপার্জনের জন্য পরিশ্রম করতে উৎসাহিত করতেন। সেই একই সময়ে তারা লক্ষ্য করলেন, নতুন আসা বিলাসবহুল জিনিসপত্রে মানুষ মুগ্ধ হয়ে পড়েছে। এর প্রেক্ষিতেই আত্মসংযম (আল-যুহদ) ও আত্মার সংবেদনশীলতা (আর-রাকায়িক) বিষয়ে গ্রন্থ রচিত হতে থাকে, যেমন—কিতাব আল-যুহদ ইমাম আবদুল্লাহ ইবন মুবারাক (রহি.), ইমাম আহমদ ইবন হাম্বল (রহি.) এবং ইমাম হান্নাদ ইবন আস-সারি (রহি.) কর্তৃক। এসব গ্রন্থের উদ্দেশ্য ছিল মানুষকে স্মরণ করিয়ে দেওয়া যে, দুনিয়ার অর্থনীতি নিয়ে ব্যস্ত থাকার পাশাপাশি আত্মার সংস্কারের দিকেও মনোযোগ দেওয়া জরুরি।
এইসব হালাল উপার্জন ও যুহদ বিষয়ক রচয়িতাগণ শুধু সমাজের অংশই ছিলেন না, বরং তারা উচ্চপদস্থ শিক্ষকও ছিলেন। যেমন—ইমাম ইবন আবি আদ-দুনইয়া’র ইসলাহ আল-মাল এবং ইমাম আবু উবাইদের কিতাব আল-আমওয়াল। এসব গ্রন্থে সম্পদ, সম্পত্তি এবং রাষ্ট্রীয় রাজস্ব সম্পর্কে কুরআন ও সুন্নাহভিত্তিক দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরা হয়েছে। আবু উবাইদ ছিলেন ইবন আবি আদ-দুনইয়ার শিক্ষক। তারা উভয়েই খলিফার রাজপুত্রদের শিক্ষক ছিলেন—যাদের কেউ কেউ পরে খলীফা হয়েছিলেন, যেমন আল-মু‘তাদিদ (মৃ. ২৮৯ হি.) এবং তার পুত্র আলি (মৃ. ২৯৫ হি.)। রাষ্ট্রের সম্পদ ও প্রশাসনের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব তাদের উপরই ছিল।
আল্লাহ তাআলা নিজেই বলেন, উপার্জন করা জরুরি, তবে তা যেন ইবাদতের ক্ষতির কারণ না হয়—
فَإِذَا قُضِيَتِ ٱلصَّلَوٰةُ فَٱنتَشِرُوا۟ فِى ٱلْأَرْضِ وَٱبْتَغُوا۟ مِن فَضْلِ ٱللَّهِ وَٱذْكُرُوا۟ ٱللَّهَ كَثِيرًۭا لَّعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ - وَإِذَا رَأَوْا۟ تِجَـٰرَةً أَوْ لَهْوًا ٱنفَضُّوٓا۟ إِلَيْهَا وَتَرَكُوكَ قَآئِمًۭا ۚ قُلْ مَا عِندَ ٱللَّهِ خَيْرٌۭ مِّنَ ٱللَّهْوِ وَمِنَ ٱلتِّجَـٰرَةِ ۚ وَٱللَّهُ خَيْرُ ٱلرَّٰزِقِينَ
“অতঃপর যখন সালাত শেষ হয়ে যায়, তখন তোমরা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়ো এবং আল্লাহর অনুগ্রহ অন্বেষণ করো এবং আল্লাহকে অধিক পরিমাণে স্মরণ করো, যাতে তোমরা সফল হতে পারো। কিন্তু যখন তারা কোনো বাণিজ্য বা খেলার আনন্দ দেখে, তখন তারা তার দিকে ছুটে যায় এবং তোমাকে দাঁড় করিয়ে রেখে যায়। বলো, ‘আল্লাহর কাছে যা আছে, তা (তোমাদের এই) খেল-তামাশা ও বাণিজ্য থেকেও উত্তম।’ আর আল্লাহ হচ্ছেন উত্তম রিজিকদাতা।” [সূরা আল-জুমু‘আ, ১০–১১]
এই বিষয়ে আরও কিছু বিখ্যাত গ্রন্থ হলো:
- ইমাম আশ-শাইবানী (মৃ. ১৮৯ হি.) – কিতাব আল-কাসব
- ইমাম আল-মুহাসিবী (মৃ. ২৪৮ হি.) – আল-মাকাসিব ওয়াল-ওয়ারা‘
- আল-হাকিম আত-তিরমিজি (মৃ. ২৫৫ হি.) – আদাব আল-মুরীদীন ওয়া বায়ান আল-কাশ
- ইমাম আবু বকর আল-খাল্লাল (মৃ. ৩১১ হি.) – আল-হাৎথ ‘আলা আত-তিজারা
- ইমাম ইবন আবি আদ-দুনইয়া (মৃ. ২৮১ হি.) – ইসলাহ আল-মাল
- ইমাম আবু তালিব আল-মাক্কী (মৃ. ৩৮৬ হি.) – কুত আল-কুলুব
- ইমাম আর-রাগিব আল-ইসফাহানী (মৃ. ৪৪৩ হি.) – আয-যারী‘আ ইলা মাহাসিন আশ-শারিয়া
- ইমাম আল-গাযালী (মৃ. ৫০৫ হি.) – কিতাব আদাব আল-কাস্ব ওয়াল-মা‘আশ
সম্পদের গুরুত্ব বনাম অপচয়
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন, “সেই সত্তার কসম যার হাতে আমার প্রাণ, তোমাদের কেউ যদি তার পিঠে কাঠের বোঝা বহন করে তা বিক্রি করে, তবে তা সেই ব্যক্তির জন্য উত্তম হবে এমন ব্যক্তির তুলনায়, যে একজন মানুষের কাছে হাত পাতে, অথচ সে তাকে দেবে কিনা তা নিশ্চিত না।” [বুখারী]
আনাস ইবন মালিক رضي الله عنه থেকে বর্ণিত: একজন ব্যক্তি বলল, “হে আল্লাহর রাসূল, আমি কি আমার উট বাঁধব এবং আল্লাহর উপর ভরসা করব, না কি উট ছেড়ে দিয়ে ভরসা করব?” তিনি ﷺ বললেন, “তোমার উট বাঁধো এবং আল্লাহর উপর ভরসা করো।” [তিরমিজি]
এটি আমাদের নবি ﷺ-এর প্রদত্ত এক সোনালী নীতিমালা। একজন ব্যক্তি ঘরে বসে কেবল এই বলে যে “আল্লাহ আমাকে রিজিক দেবেন” বলে বসে থাকলে হবে না। হারাকা তে বারাকা, অর্থাৎ কর্মে বরকত। আল্লাহ যে উপায় নির্ধারণ করেছেন, তা ব্যবহার না করে তাওয়াক্কুল করা, প্রকৃত তাওয়াক্কুল নয়। এমনকি অলৌকিক ঘটনায়ও, মূসা عليه السلام-কে লাঠি মারতে হয়েছিল, তারপর সমুদ্র দ্বিখণ্ডিত হয়েছিল। মারইয়াম عليه السلام-কে গাছ ঝাঁকাতে হয়েছিল, তারপর ফল পড়েছিল।
উমর ইবন আল-খাত্তাব رضي الله عنه বলেন, “তোমাদের কেউ যেন রিজিক কামনায় কাজ করা থেকে বিরত না থাকে, আর আল্লাহর নিকট দোয়া করতে থাকে, অথচ সে জানে যে আকাশ থেকে স্বর্ণ ও রূপা বর্ষিত হয় না।”
কাযি ইয়ায رحمه الله বলেন, “না নবিগণ এবং না সাধারণ কেউ এমনটি করতেন। নবিগণ উপার্জনের জন্য কাজ করতেন। রাসূলুল্লাহ ﷺ কাজ করতেন, আবু বকর ও উমরও করতেন। তারা কখনও বলেননি, ‘আমরা ঘরে বসে থাকব যতক্ষণ না আল্লাহ রিজিক পাঠান।’ বরং আল্লাহ পবিত্র কুরআনে বলেন: ‘আর আল্লাহর অনুগ্রহ অনুসন্ধান করো।’ [সূরা আল-জুমু‘আ, ১০]
অতএব, জীবিকা অর্জন করা অবশ্য কর্তব্য।”
জীবনের জিনিসপত্র ব্যবহার ও আল্লাহর উপর ভরসা পরস্পরবিরোধী নয়। বরং তারা পরিপূরক। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, “প্রথমে তোমার উটটি বেঁধে রাখো, তারপর আল্লাহর উপর ভরসা করো।”
এক ব্যক্তি ইমাম আহমদ رحمه الله -কে জিজ্ঞেস করল, “ভ্রমণকারী ব্যক্তির জন্য কোনটি উত্তম—পাথেয় সঙ্গে নেওয়া, না আল্লাহর উপর ভরসা করা?” ইমাম আহমদ সুন্দরভাবে উত্তর দিলেন, “পাথেয় সঙ্গে নেওয়া এবং আল্লাহর উপর ভরসা করা।”
ধন-সম্পদের গুরুত্ব
যুবায়ের ইবনুল আওয়াম رضي الله عنه বলেন, “ধন-সম্পদ মানুষকে সক্ষম করে তোলে—
- ভালো (দানশীল) কাজ করতে,
- আত্মীয়তার সম্পর্ক দৃঢ় করতে (আর্থিকভাবে একে অপরকে সহায়তা করে),
- আল্লাহর পথে ব্যয় করতে,
- ভালো চরিত্র ধরে রাখতে (ছোট মানসিকতায় না পড়ে),
- দুনিয়াতে সম্মান পেতে (অন্যের ওপর নির্ভরশীল না হয়ে), এবং
- দুনিয়ার হালাল আনন্দ উপভোগ করতে।” [মাওসুআহ ইবনু আবি দুনইয়া]
আল্লাহ বলেন,
يَـٰبَنِىٓ ءَادَمَ خُذُوا۟ زِينَتَكُمْ عِندَ كُلِّ مَسْجِدٍۢ وَكُلُوا۟ وَٱشْرَبُوا۟ وَلَا تُسْرِفُوٓا۟ ۚ إِنَّهُۥ لَا يُحِبُّ ٱلْمُسْرِفِينَ
হে আদমসন্তানগণ! প্রত্যেক মসজিদে তোমরা তোমাদের শোভা (পরিচ্ছন্নতা ও উত্তম পোশাক) গ্রহণ করো। আর খাও ও পান করো, কিন্তু অপচয় করো না। নিশ্চয়ই তিনি অপচয়কারীদের পছন্দ করেন না। [সূরা আল-আ‘রাফ, ৩১]
আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস رضي الله عنهما বলেন, “তুমি যা চাও তা খাও, এবং যা চাও তা পরিধান করো—যতক্ষণ তুমি দুটি জিনিস থেকে বাঁচো: ‘অপচয় ও অহংকার।” [ইবনু আবি শাইবাহ]
দুটি বিষয় খেয়াল রাখতে হবে:
- আল্লাহ তাঁর বান্দার মাঝে তাঁর অনুগ্রহের ছাপ দেখতে পছন্দ করেন।
- আল্লাহ অপচয় ও সম্পদের অপব্যবহার অপছন্দ করেন।
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, “নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দার মাঝে তাঁর অনুগ্রহের ছাপ দেখতে পছন্দ করেন। তিনি তাকে পছন্দ করেন না যে দুঃখ ও হতাশায় নিমজ্জিত হয়ে থাকে।” [আল-মু‘জাম আল-কবীর]
একবার ইমাম হাসান আল-বাসরী رحمه الله -কে জিজ্ঞেস করা হলো, “হে আবা সাঈদ! আপনি কি মনে করেন, আমি যদি আমার স্ত্রীকে ২০ দিরহাম মূল্যের সুগন্ধি কিনে দেই, তাহলে কি এটা অপচয় হবে?” তিনি উত্তর দিলেন, “না (এটা অপচয় নয়)।” [ইবনু আবি দুনইয়া]
অপচয় বা বাড়াবাড়ি একটি আপেক্ষিক বিষয়। আমাদের আয় বা অবস্থার বিবেচনায় যেটা অপচয় হতে পারে, অন্যের জন্য তা নাও হতে পারে। যদি আমরা বলি অপচয় মানে সীমা অতিক্রম করা, তাহলে সেই সীমা বিভিন্ন ব্যক্তি অনুযায়ী পরিবর্তিত হয়। হতে পারে, আল্লাহ তাকে অনেক দিয়েছেন, এবং তার জন্য এটি জীবনযাত্রার অংশ মাত্র। অতএব অপচয় নির্ভর করে কাজের নয়, বরং কার কাজ—তার অবস্থান, তার উপর।
এই বিষয়ে স্কলাররা বিস্তারিত আলোচনা করেছেন—যেমন, বিয়েতে সামাজিক মর্যাদা ও উপযুক্ততা নিয়ে।
একবার কল্পনা করুন—ইমাম মানসুর আল-বুহূতি رحمه الله লিখেছেন, স্বামীকে স্ত্রীর জন্য কফির ব্যবস্থা করা উচিত, “যদি স্ত্রী কফি পান করতে অভ্যস্ত হন এবং সাধারণত তা ছাড়া থাকতে পারেন না, এবং এটি সমাজের সংস্কৃতির অংশ হয়—তাহলে তা স্বামীর জন্য আবশ্যক।” [হিদায়াত আর-রাগিব]
ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম رحمه الله বলেন, “যখন ধন-সম্পদ তোমার হাতে থাকে কিন্তু মনে থাকে না, তখন তা তোমার ক্ষতি করতে পারে না—যদিও তা প্রচুর পরিমাণে হয়। আর যদি তা তোমার মনে থাকে, তবে তা তোমার ক্ষতি করবে— যদিও তোমার হাতে কিছুই না থাকে।” [মাদারিজ আস-সালিকীন]
ইমাম মুজাহিদ رحمه الله বলেন, “যদি কেউ তার সম্পদ যথাযথভাবে ব্যয় করে, তবে সে অপচয়কারী নয়। কিন্তু সে যদি মাত্র এক ‘মুদ’ (অল্প পরিমাণ) অন্যায়ভাবে ব্যয় করে, তবে সে অপচয়কারী।”
ইমাম কাতাদাহ رحمه الله বলেন, “অপচয় হলো—আল্লাহর অবাধ্যতায়, অন্যায়ভাবে, এবং খারাপ উদ্দেশ্যে সম্পদ ব্যয় করা।” [তাফসীর ইবনু কাসীর]
সম্পদশালী সাহাবাদের জীবন
চলুন, আমাদের প্রিয় নবি ﷺ এর সাহাবীদের দিকে তাকাই—মানবজাতির শ্রেষ্ঠ মানুষদের দিকে। তাঁরা কতটা ধনী ছিলেন, আর তাঁদের সম্পদ দিয়ে কী করেছেন।
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, “আবু বকর رضي الله عنه এর সম্পদের মত অন্য কোনো সম্পদ আমার উপকারে আসেনি।” [আহমাদ]
বলা হয়ে থাকে, নবি ﷺ তাঁর সম্পদ এমনভাবে ব্যবহার করতেন, যেন তা তাঁর নিজেরই। বলা হয়, আবু বকর رضي الله عنه যখন ইসলাম গ্রহণ করেন তখন তাঁর কাছে ৪০,০০০ দিনার ছিল, যা তিনি সম্পূর্ণ দান করে দেন। এক দিনার = ৪.২৫ গ্রাম খাঁটি সোনা। অর্থাৎ তিনি আজকের হিসাবে প্রায় এক মিলিয়ন ডলার দান করেন। এটি কোনো এককালীন ঘটনা নয়— বরং আবু বকরের رضي الله عنه জীবনের একটি ধারা ছিল—সবকিছু রাসূলুল্লাহ ﷺ এবং উম্মাহর জন্য উৎসর্গ করে দেওয়া।
আয়েশা رضي الله عنها বলেন, “আবু বকর ছিলেন কুরাইশদের মধ্যে সবচেয়ে দক্ষ ব্যবসায়ী—যতক্ষণ না তিনি রাষ্ট্রক্ষমতায় জড়িত হন।”
তাবুক যুদ্ধের আগে মদিনায় অর্থনৈতিক মন্দা ও নিরাপত্তাহীনতা দেখা দেয়। উসমান ইবনু আফফান رضي الله عنه ১০,০০০ সোনার দিনার, ৩০০ পূর্ণরূপে সজ্জিত উট এবং ৫০টি ঘোড়া অনুদান দেন। তিনি প্রায় ৩০০ জন সাহাবীর জন্য সম্পূর্ণ রসদ সরবরাহ করেন। একদিন এত কিছু দান করার পর নবি ﷺ বলেন, “উসমান এর পর যা-ই করুক, তার কোনো ক্ষতি হবে না।” [তিরমিজি]
খলিফা উমরের رضي الله عنه শাসনামলে মদিনায় তীব্র দুর্ভিক্ষ দেখা দেয়, মানুষ গাছের পাতা খেতে বাধ্য হয়। উসমানের ১০০০ উটের একটি কাফেলা খাদ্যসামগ্রী নিয়ে আসছিল। ব্যবসায়ীরা কিনতে চাইলেও উসমান বললেন, “আমি আল্লাহর কাছ থেকে আরও ভালো প্রতিদান পেয়েছি—তিনি সাতশো গুণ প্রতিদান দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।” তিনি সম্পূর্ণ কাফেলাটি দান করে দেন।
আবু জাফর বলেন, “যখন উসমান ইবনু আফফান শহীদ হন, তখন তাঁর খেজুর বাগান থেকে বার্ষিক আয় ছিল ১,০০,০০০ দিনার।” আজও উসমান رضي الله عنه এর ওয়াক্ফ থেকে আয় আসে এবং তা মুসলিমদের সেবায় ব্যয় করা হয়। কী চমৎকার একটি লিগ্যাসি! কেবল ব্যবসায়িক উদ্যোগ থেকেই, তাঁর ধর্মীয় অবদানের কথা আর না-ই বা বললাম!
আবদুর রহমান ইবন আওফ رضي الله عنه সাহাবীদের মধ্যে অন্যতম ধনী ছিলেন। তিনি মাত্র কয়েক দিনার নিয়ে শুরু করেন এবং জীবনের শেষে তাঁর সম্পদের মূল্য ছিল আজকের মূল্যে কয়েকশো বিলিয়ন ডলার। তিনি একবার একটি জমি ৪০,০০০ দিনারে বিক্রি করেন এবং পুরো অর্থ ব্যয় করে দেন—বনু যাহরা গোত্র, মুসলিমদের দরিদ্রদের, এবং রাসূল ﷺ এর স্ত্রীদের জন্য। তাবুক যুদ্ধের সময় যখন খরা চলছিল, তিনি ২০০ উকিয়্যাহ সোনা দান করেন। ১ উকিয়্যাহ = ৪০ দিরহাম। একবার তাঁর একটি কাফেলা মদিনায় প্রবেশ করে এত শব্দ ও ধুলা তুলেছিল যে মানুষ ঘর থেকে বের হয়ে দেখে—৭০০ উটভর্তি পণ্যসামগ্রী নিয়ে তাঁর কাফেলা শহরে ঢুকছে। এটি দেখে তিনি সব কিছু দান করে দেন—আয়েশা رضي الله عنها থেকে আখিরাতের একটি হাদিস শোনার পর।
বলা হয়ে থাকে, আবদুর রহমান ইবন আওফ رضي الله عنه তাঁর সম্পদের এক-তৃতীয়াংশ ঋণ দিতেন, এক-তৃতীয়াংশ দিয়ে মানুষের দেনা শোধ করতেন, এবং বাকি অংশ দিয়ে নিজের পরিবার ও বন্ধুদের দেখাশোনা করতেন। এটাই হলো ‘উচ্চ মানসিকতা’ বা elite mentality। আপনি আপনার দক্ষতার ওপর বিশ্বাস রাখেন, এবং একই সাথে আপনি জানেন, দান করা মানেই প্রকৃত বিনিয়োগ করা—যার রিটার্ন আল্লাহর কাছে ৭০০ গুণ।
এত সম্পদ থাকার পরও — ইমাম আহমদ رحمه الله বর্ণনা করেন, সাঈদ ইবন জুবাইর رحمه الله বলেন,
আবদুর রহমান ইবন আওফ رضي الله عنه , যিনি ধনী সাহাবীদের একজন ছিলেন, তাঁকে তাঁর দাসদের মধ্য থেকে আলাদা করে চিনতে পারা যেত না। [কিতাবুয-যুহদ, ইমাম আহমদ]
এরা সবাই সেই মানুষ, যাঁদেরকে জান্নাতের সুসংবাদ দেওয়া হয়েছে। তাঁদের কাজ করা বাধ্যতামূলক ছিল না। তাঁরা দান না করলেও চলত। কিন্তু তাঁরা করেছেন, এবং এমনভাবে দান করেছেন—যা আজ আমরা পড়লে মস্তিষ্ক হিম হয়ে যায়। একটি ভাবনার খোরাক: কোনো মানুষ এমন উদারতা দেখাতে পারে তখনই, যখন সে আর্থিকভাবে শক্তিশালী হয় এবং আল্লাহর প্রতি অটুট বিশ্বাস রাখে।
বলা হয়েছে:
لا يمكنك أن تصب شيئاً من قدحٍ فارغ
“তুমি একটি খালি পাত্র থেকে কিছু ঢালতে পারবে না।”
প্রকৃত ‘যুহদ’ (Zuhd)
আজকাল মোটিভেশনাল বিষয়গুলো বেশি জনপ্রিয়, কারণ অনেকেই চিন্তাশীল না হয়ে আবেগ দিয়ে চালিত হন। আবেগের তাড়নায় কিছু আমল শুরু করা, তারপর আবার ছেড়ে দেওয়া—এটা আত্মিক উন্নতির জন্য ক্ষতিকর।
যখন পাশ্চাত্য আমাদের ‘minimalism’ শেখায়, আমরা বিস্ময়ে অভিভূত হই। তারা বলে এটিই সুখের চাবিকাঠি। কিন্তু যখন আমরা যুহদের কথা বলি, তখন অনেকে বলে, আমরা মুসলিমদের গরিব করতে চাই, মুসলিমদের পশ্চাদপদ করতে চাই। আমাদের জাগতে হবে এবং অন্ধ অনুকরণ থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।
এক ব্যক্তি যুহদ-জীবন যাপন করতে পারেন, সরল জীবনযাপন করতে পারেন, এবং তবুও সমাজের ধনী ব্যক্তি হতে পারেন। এখানে কোনো বিরোধ নেই—যতক্ষণ টাকা তাঁর হৃদয়ে প্রবেশ না করে।
শায়খুল ইসলাম ইবনু তাইমিয়্যাহ رحمه الله বলেন, “সম্পদের সাথে আমাদের আচরণ হওয়া উচিত ঠিক যেমন আমাদের টয়লেটের সাথে হয়।” তিনি বললেন, “আমরা যখন দরকার পড়ে তখনই টয়লেট ব্যবহার করি, কিন্তু আমাদের হৃদয়ে তার কোনো স্থান থাকে না।”
এক ব্যক্তি সুফিয়ান ইবন উইয়াইনা رحمه الله-কে জিজ্ঞেস করেন, “কেউ কি যুহদবান হতে পারে যখন তার কাছে ১০০ দিনার থাকে?” তিনি উত্তর দেন: “হ্যাঁ।” লোকটি জিজ্ঞেস করলো, “কীভাবে?” তিনি বললেন: “যদি তার সম্পদ শেষ হয়ে যায়, সে চিন্তিত হয় না, যদি তা বেড়ে যায়, সে আনন্দিত হয় না, আর মৃত্যুর মাধ্যমে সেটি হারিয়ে গেলেও সে দুঃখিত হয় না।”
ইমাম সুফিয়ান আস-সাওরি رحمه الله , আর্থিকভাবে স্বাধীন হওয়ার গুরুত্ব বোঝাতে বলতেন, “আমাদের সময়ে টাকা একটি অস্ত্র।” কল্পনা করুন, আমাদের সময়ে, যেখানে চারদিকে রিবা (সুদ)-র ছড়াছড়ি, সেখানে এটি কতটা সত্য এবং আরও শক্তিশালী। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, “(কিয়ামতের দিন) সত্যবাদী ও বিশ্বস্ত ব্যবসায়ী হবেন নবি, সিদ্দিক ও শহীদদের সঙ্গী।” [তিরমিজি]
তিনি ﷺ আরও বলেছেন, “কাউকে হিংসা করা যাবে না—শুধু দু’জনকে ছাড়া: এক. সেই ব্যক্তি, যাকে আল্লাহ সম্পদ দিয়েছেন, এবং সে তা সঠিকভাবে ব্যয় করে; দুই. সেই ব্যক্তি, যাকে আল্লাহ হিকমাহ (ধর্মীয় জ্ঞান) দিয়েছেন, এবং সে এর দ্বারা ফয়সালা করে ও অন্যদের শিক্ষা দেয়।” [বুখারী]
তাহলে যুহদ (Zuhd) কী?
‘যুহদ’ শব্দের ভাষাগত অর্থ হলো—বিরত থাকা, ত্যাগ করা।
ইমাম আহমদ رحمه الله বলেন, যুহদের তিনটি স্তর আছে—
- সাধারণদের যুহদ: হারাম জিনিস ছেড়ে দেওয়া।
- উচ্চ পর্যায়ের যুহদ: মুবাহ (যা নিষিদ্ধ নয়, বৈধ) জিনিস ত্যাগ করা।
- সবচেয়ে পরহেযগারদের যুহদ: এমন কিছু ছেড়ে দেওয়া যা আল্লাহর স্মরণ থেকে বিরত রাখে। এটাই সবচেয়ে উচ্চ স্তরের যুহদ।
ইসলামে রাহবানিয়্যাহ (সন্ন্যাসবাদ) নেই। এটা হারাম। আমরা কঠিন দুনিয়া থেকে পালিয়ে নির্বাণ লাভের জন্য গুহায় চলে যাই না। বরং, এই দুনিয়াই আখিরাতের চাষের জমি। আমরা নিজেদের নফসকে যুহদের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ দিই, যাতে আমাদের হৃদয় কেবল দুনিয়ার প্রতি ঝুঁকে না পড়ে। তাসাউফের ব্যাপারে কোনো কিয়াস বা সার্বজনীন নীতি নেই। বরং এটি একজন এক্সপার্ট শায়েখের দ্বারা ব্যক্তি ভিত্তিক নির্ধারিত পথ—যা সবার জন্য এক নয়। কেন? কারণ প্রত্যেক ব্যক্তি আলাদা এবং আল্লাহ তাদের ভিন্নভাবে পরীক্ষা ও গঠন করেন।
কখনো একজন ব্যক্তি সম্পদে উন্নতি করে, আবার অন্যজন দারিদ্রে উন্নতি করে। ‘দুনিয়া’ কেবল টাকা, গাড়ি বা বাড়ির নাম নয়। এটি মানুষের সাথে আমাদের সম্পর্ক ও মিথস্ক্রিয়াকেও অন্তর্ভুক্ত করে। এইজন্যই আমাদের আছে—ইতিকাফ (আত্মিক একান্তবাস)।
শাইখ ড. ইব্রাহীম নুহু حفظه الله বলেছেন, “আমাদের সমাজে কিছু মানুষ আছে যারা ভালো খাবার খায় না, ভালো পোশাক পরে না। তারা মনে করে এটি হচ্ছে যুহদ (সংসার বিরাগ)। কিন্তু যুহদ মানে হচ্ছে সেই দুনিয়াবি বিষয় থেকে দূরে থাকা যা তোমার আখিরাতের পথে বাধা সৃষ্টি করে। এটা ভালো, হালাল খাবার, সুন্দর ঘরবাড়ি বা যা কিছু একজন মানুষকে আল্লাহ দিয়েছেন—এসবের সাথে এর কোনো সম্পর্ক নেই। আল্লাহ যখন কোনো বান্দাকে কিছু দেন, তখন আল্লাহ চান যে এটি সেই বান্দার উপর প্রকাশিত হোক, কারণ এটা হচ্ছে আল্লাহর নিয়ামতের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ।
আপনি যদি দুনিয়ার উপকরণ ব্যবহার না করেন, তাহলে এগুলো সৃষ্টি করা হলো কেন? আপনি আসলে কাকে অনুকরণ করছেন?
যদি বলেন, ‘আমি রসুলুল্লাহ ﷺ-কে অনুসরণ করছি‘, তাহলে আমরা বলব—তাঁর সুন্নাহ আমাদের শেখায়, তিনি তাঁর জন্য যা পাওয়া যেত তার মধ্যে সর্বোত্তম খাবার খেয়েছেন এবং শ্রেষ্ঠ পোশাক পরেছেন। রসুলুল্লাহ ﷺ ভালো খাবার খেয়েছেন, তবে বাড়াবাড়ি করেননি। তিনি ﷺ এমনকি নির্দিষ্ট এক প্রকার গোশতকেও পছন্দ করতেন। তিনি ছিলেন যুহহাদ-দের ইমাম। তিনি ﷺ এতটা বাড়াবাড়ি করেননি যে, জিনিসপত্রের জন্য ঋণ নিতেন। যখন রসুলুল্লাহ ﷺ-কে কিছু উপস্থাপন করা হতো, তখন তিনি যা ভালোবাসতেন এবং উত্তম ছিল তা-ই গ্রহণ করতেন। রসুলুল্লাহ ﷺ-এর সুন্নাহ থেকে জানা যায়, তিনি সম্ভব হলে সবসময় তাজা খাবার খেতেন যা পরের দিন পর্যন্ত সংরক্ষণের প্রয়োজন হতো না। রসুল ﷺ আমাদের শেখাচ্ছেন সবচেয়ে উত্তম পন্থা—তা হলো প্রয়োজন অনুসারে গ্রহণ করা।
ইসলাম সহজ। ধার্মিক ব্যক্তি হওয়া মানে এই নয় যে, আপনি সবসময় মসজিদেই বসে থাকবেন। না, ভালো মুসলিম মানে হচ্ছে, মসজিদে প্রথমে থাকা, পাশাপাশি সমাজে সক্রিয় হওয়া, আল্লাহ যেসব নেয়ামত দিয়েছেন তা ব্যবহার করা এবং সমাজে কল্যাণ ছড়িয়ে দেওয়া।
‘আল ওয়ারা’’ এর অর্থ হলো এমন কিছু থেকে বিরত থাকা যা আখিরাতকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। আর যুহদ হলো এমন কিছু বর্জন করা যা আখিরাতে কোনো উপকারে আসবে না। যুহদ আরও বিস্তৃত এবং এটি একটি প্রশংসনীয় গুণ হিসেবে গ্রহণযোগ্য।
অন্য দিক
এই আলোচনার উল্টো দিক হচ্ছে—যখন আমরা সম্পদ অর্জনের আকাঙ্ক্ষায় এত গভীরে ঢুকে পড়ি যে, আমাদের লোভ আমাদের উপর আধিপত্য বিস্তার করে। আমরা তখন সন্দেহজনক লেনদেনে জড়িয়ে পড়ি এবং কখনও কখনও সুদের মতো হারাম কাজেও জড়িয়ে পড়ি।
রসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, “নিশ্চয়ই হালাল স্পষ্ট এবং হারাম স্পষ্ট। এদের মাঝখানে রয়েছে কিছু সন্দেহজনক বিষয়, যা অনেকেই জানে না। যে ব্যক্তি সন্দেহজনক বিষয়গুলো এড়িয়ে চলে, সে নিজের দ্বীন ও সম্মানের পবিত্রতা রক্ষা করে। আর যে ব্যক্তি এতে জড়িয়ে পড়ে, সে হারামের মধ্যে পতিত হয়। ব্যাপারটি এমন যে, এক রাখাল এক নিষিদ্ধ অঞ্চলের পাশ দিয়ে পশু চরায়— তাঁর পশু সেই নিষিদ্ধ অঞ্চলে প্রবেশ করবেই (এটাই স্বাভাবিক)। প্রত্যেক রাজারই একটি নিষিদ্ধ এলাকা থাকে, আর আল্লাহর নিষিদ্ধ এলাকা হচ্ছে তাঁর হারামকৃত বিষয়সমূহ।” [বুখারি]
বছরের পর বছর এই হাদিস ব্যাখ্যা করতে গিয়ে আমাদের প্রিয় উস্তায, শাইখ ড. ইব্রাহীম নুহু حفظه الله বলেন, “দুনিয়ার সকল কিছু হালাল, যতক্ষণ না শরিয়ত তা হারাম ঘোষণা করে। আর দ্বীনের সব কিছু হারাম, যতক্ষণ না শরিয়ত তা হালাল করে। হালাল যা কিছু তা স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে, আর হারাম বিষয়ও ব্যাখ্যামূলকভাবে পরিষ্কার করা হয়েছে—হোক তা কুরআনে সরাসরি বা পরোক্ষভাবে, কিংবা সুন্নাহতে সরাসরি বা ইঙ্গিতে। কোনো মূল্যবান জিনিসই বাদ পড়েনি যা পরিষ্কার করে ব্যাখ্যা করা হয়নি।”
“দ্বীনের ব্যাপারে সাবধান থাকা সর্বদা উত্তম। যা স্পষ্ট, তা গ্রহণ করো এবং যা অস্পষ্ট, তা থেকে বহু দূরে থেকো, যে যত কথাই বলুক না কেন। সন্দেহজনক বিষয় এলে আলেমদের জিজ্ঞাসা করো। আর যেসব বিষয়ে এখনো কিছুই ঘটেনি, তা নিয়ে আলোচনা করো না, মানুষকে বিভ্রান্ত করো না। ঘটমান বিষয়ে মনোনিবেশ করো।”
“সন্দেহজনক বিষয় এড়িয়ে চলা— এটা একজন মানুষের সম্মান রক্ষার মাধ্যম। আজকাল মানুষ যেকোনো উপায় খুঁজে বের করে, যেকোনো ফতোয়া বের করে শুধুমাত্র সন্দেহজনক ব্যবসায় যুক্ত হওয়ার জন্য। কিন্তু মনে রেখো, অতিরিক্ত বিরত থাকাও ক্ষতিকর—এটিও চরমপন্থা। যদি কোনো জিনিস তোমার কাছে অনেক গুরুত্বপূর্ণ হয়, তাহলে তুমি সর্বোচ্চ চেষ্টা করে তা রক্ষা করবে, তাই না? তুমি চাও না এটি ক্ষতিগ্রস্ত হোক বা এমন অবস্থায় পড়ুক যাতে ক্ষতি হতে পারে। এই হচ্ছে আল্লাহর সাথে তোমার সম্পর্ক। তোমার দ্বীন রক্ষা করো, কারণ এর চেয়ে বেশি মূল্যবান কিছু নেই।”
“যদি কেউ কোনো কাজ করে নিজের ইজতিহাদে, অথচ কোনো আলেমকে জিজ্ঞেস না করে—তাহলেও সে গোনাহগার হবে, এমনকি তার ইজতিহাদ ঠিক হলেও। আর যেসব বিষয় এখনো ঘটেনি, তা নিয়ে আলোচনা করবে না, মানুষকে বিভ্রান্ত করবে না। বাস্তব বিষয় নিয়ে মনোযোগী হও।”
আল্লাহ কুরআনে আমাদের নির্দেশ দেন:
فَاسْأَلُوا أَهْلَ الذِّكْرِ إِن كُنتُمْ لَا تَعْلَمُونَ
“তোমরা যদি না জানো, তাহলে যিকিরের অধিকারীদের (আলেমদের) জিজ্ঞাসা করো।” [সূরা আন-নাহল]
“যখন কোনো আলেম কোনো বিষয়কে মাকরূহ (অপছন্দনীয়) এবং হারাম (নিষিদ্ধ) এর মধ্যে পার্থক্য করেন, তখন তা থেকে দূরে থাকো—এটাই তোমার জন্য সর্বোত্তম। তুমি যদি তা বর্জন করো, তাহলে তোমাকে প্রশ্ন করা হবে না; কিন্তু তুমি যদি তা করো এবং তা ভুল প্রমাণিত হয়, তাহলে প্রশ্নের মুখে পড়তে হবে। আর যখন কোনো বিষয় মুস্তাহাব (সুপরামর্শযোগ্য) এবং ওয়াজিব (আবশ্যিক) এর মধ্যে পার্থক্য করা হয়, তখন তোমার সাধ্য অনুযায়ী তা করো—তাহলে সবসময় সফল হবে।”
“জেনে রাখো, শায়তান ধাপে ধাপে দরজা খুলে দেয়। আমরা যদি সেই পথই বন্ধ করে দিই যেটি হারামের দিকে যায়, তাহলে আমরা হারাম থেকে নিরাপদ থাকবো। সেই পথগুলো বন্ধ করে দাও, ধৈর্য ধারণ করো—না হলে ভবিষ্যতে এবং আখিরাতে কষ্ট পাবে।”
“কোনো ব্যক্তি ততক্ষণ পূর্ণ তাকওয়ার স্তরে পৌঁছায় না যতক্ষণ না সে এমন বিষয় থেকেও বিরত থাকে যা তার জন্য বৈধ। এটি নিজেকে হারামের পথে যাওয়ার হাত থেকে রক্ষা করার একটি প্রশিক্ষণ।”
বর্ণনা করা হয়েছে যে, আবদুল্লাহ ইবন মাসউদ رضي الله عنه বলেন, “আল্লাহ যা ফরজ করেছেন তা পূর্ণ করো—তাহলে তুমি সবচেয়ে পরহেজগারদের অন্তর্ভুক্ত হবে। আল্লাহ যা হারাম করেছেন তা থেকে বিরত থাকো—তাহলে তুমি সবচেয়ে সাবধানী মানুষ হবে। আর আল্লাহ তোমার জন্য যা নির্ধারণ করেছেন তাতে সন্তুষ্ট থাকো—তাহলে তুমি সবচেয়ে ধনীদের অন্তর্ভুক্ত হবে।” [কিতাবুয-যুহদ]
শাইখ ড. ইব্রাহীম আরও উপদেশ দেন, “তুমি যা করতে যাচ্ছো তা আলেমদের জিজ্ঞাসা করো। যদি ব্যবসা করো, তাহলে সেই ব্যবসা কীভাবে চলছে তা আলেমকে দেখাও, তারপর সামনে এগিয়ে যাও। এমনটা করো না যে, তুমি প্রচুর মুনাফা করে ফেলেছো, কিন্তু সেটা রিবা (সুদ) মিশ্রিত—তখন এসে জিজ্ঞাসা করছো কী করতে হবে। দুনিয়া অত্যন্ত মনোমুগ্ধকর, তাই আমাদের সাবধান থাকতে হবে যেন আমরা কোনো মধুর ফাঁদে পড়ে না যাই, যা আমাদের ক্ষতি করতে পারে।
“ভালো কাজ করা এবং অনেক লাভ করা—এটা দোষের কিছু নয়। বরং এটি ভালো। সমস্যা হচ্ছে ভুল উপায়ে, হারাম ব্যবসার মাধ্যমে উপার্জন করা।
“মনে রেখো! যেকোনো হারাম উপার্জন—তা যতই বড় হোক না কেন—অবশেষে তা বিনষ্ট হবে অথবা তোমার উপর বিপদ ডেকে আনবে। কোনো লেনদেন যদি রিবা যুক্ত হয়, তাহলে তাতে বরকত উঠে যায়। যে রিবা নেয়, সে যেন আল্লাহ ও তাঁর রসুলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে। কে এই যুদ্ধে জিততে পারে? কেউ না। যদি আল্লাহ তোমাকে সাহায্য না করেন, তাহলে আল্লাহ তোমাকে তোমার কাজ দিয়ে ধ্বংস হতে দিবেন।
“এই হাদিসটিকে আমি আমার পক্ষ থেকে তোমাদের জন্য উপহার হিসেবে দিচ্ছি—বিশেষ করে তাদের জন্য যারা ব্যবসায় প্রবেশ করতে চায়। আল্লাহর কসম, আল্লাহর কসম, আল্লাহর কসম! তোমার জন্য যা লেখা হয়েছে, তা কখনোই তোমাকে এড়িয়ে যাবে না।”
আপনার রিজিক আকাশে আল্লাহ্ নির্ধারণ করে রেখেছেন। এটা জানলে আপনি স্বস্তি পাবেন যে, আপনার জন্মের দিন থেকে মৃত্যু পর্যন্ত যা কিছু ঘটবে, সবকিছু আল্লাহ্ নির্ধারণ করে রেখেছেন, কারো কোনো হস্তক্ষেপ ছাড়াই।
জাবির رضي الله عنه থেকে বর্ণিত, রসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, “হে মানুষ! আল্লাহকে ভয় করো এবং জীবিকা অর্জনে মধ্যপন্থা অবলম্বন করো, কেননা কোনো প্রাণী মৃত্যুবরণ করবে না যতক্ষণ না তার রিজিক সে পূর্ণরূপে পেয়ে যায়, যদিও তা আসতে দেরি হয়। অতএব আল্লাহকে ভয় করো এবং জীবিকা অর্জনে মধ্যপন্থা অবলম্বন করো; যা হালাল তা গ্রহণ করো এবং যা হারাম তা ত্যাগ করো।” [ইবনু মাজাহ]
আপনার রিজিক নির্ধারিত হয়েছে মহাবিশ্ব সৃষ্টির ৫০,০০০ বছর পূর্বে, যেখানে তাকদির লেখার কলম শুকিয়ে গেছে এবং কিতাব বন্ধ হয়ে গেছে। এটা জানলে আমরা আমাদের দ্বীন বিক্রি করা থেকে বিরত থাকতে পারি। যারা টাকা-পয়সার জন্য তাদের দ্বীন বিক্রি করে, তারা দুনিয়া ও আখিরাতে উভয় জায়গাতেই ক্ষতিগ্রস্ত। রিজিক কোথা থেকে আসে এটা জানলে, একজন মানুষ তার সম্মান, ধার্মিকতা ও নৈতিকতা বজায় রাখতে পারে।
যেটা হালাল পথে আসার কথা ছিল, সেটা যদি হারাম পথে গ্রহণ করা হয়—যেমন চুরি, প্রতারণা, ঘুষ—তাহলে এর কোনো মানে নেই। এটা ধৈর্য ধারণ করা এবং কঠোর পরিশ্রম করার বিষয়। নিঃসন্দেহে, একজন ব্যক্তির অবস্থা ভালো দিন ও খারাপ দিনের মধ্যে পরিবর্তিত হয়। আল্লাহ জানেন তিনি কী করছেন যখন তিনি আপনার রিজিক বিলম্বিত করেন। আল্লাহ বলেন:
مَا أَصَابَ مِن مُّصِيبَةٍ فِي الْأَرْضِ وَلَا فِي أَنفُسِكُمْ إِلَّا فِي كِتَابٍ مِّن قَبْلِ أَن نَّبْرَأَهَا إِنَّ ذَٰلِكَ عَلَى اللَّهِ يَسِيرٌ
“পৃথিবীতে বা তোমাদের নিজেদের মাঝে কোনো বিপদই আসে না, কিন্তু তা একটি কিতাবে লেখা থাকে, তা সৃষ্টির আগে থেকেই — নিঃসন্দেহে এটা আল্লাহর জন্য সহজ।” [সূরা হাদীদ, ২২]
সবসময় মনে রাখবেন! যা কিছু আপনি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য ত্যাগ করবেন, আল্লাহ্ তার পরিবর্তে আরও উত্তম কিছু দেবেন। এতে কোনো সন্দেহ নেই। আসল বিষয় হলো আমাদের ঈমানের দৃঢ়তা এবং আমরা কতটা পরিশ্রম করতে প্রস্তুত তা। ইমাম মালিক ইবন দিনার رحمه الله বলেছেন, “একজন মানুষের জন্য একটি হারাম দিরহাম ত্যাগ করা, এক লক্ষ দিরহাম সদকা দেয়ার চেয়ে উত্তম।” ইমাম ইউনুস ইবন উবায়দ رحمه الله বলেছেন, “দুইটি জিনিসের চেয়ে সম্মানজনক আর কিছু নেই: একটি হালাল দিরহাম (যা বৈধভাবে উপার্জিত ও ব্যয় করা হয়েছে) এবং একজন ব্যক্তি যিনি রসূলুল্লাহ ﷺ এর সুন্নাহ অনুযায়ী আমল করেন।” [সিয়ার আ‘লাম আন-নুবালা]
ফুটনোট:
[১] “অনুগ্রহের ছাপ” বলতে এখানে বোঝানো হয়েছে আল্লাহর অনুগ্রহ ও নিয়ামত যেন মানুষের জীবন, অবস্থান ও আচরণে সুস্পষ্টভাবে প্রকাশ পায়—যাতে দেখা যায়, আল্লাহ তাঁর বান্দাকে দয়া করে উত্তম নিয়ামত দিয়েছেন, তাঁর প্রতি সদয় হয়েছেন। এর অর্থ হলো:
- উপার্জন ও ব্যবহার: যেমন হালাল অর্থ উপার্জন করে তা সমাজের কল্যাণে ব্যয় করা,
- পরিচ্ছন্নতা ও পরিমিত ব্যয়: পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পোশাক পরা, অত্যুক্তি না করা,
- যোগ্য ব্যবহারে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা।
অপরদিকে, ইচ্ছাকৃতভাবে নিজের জীবনকে খুবই গরিবির বা কষ্টের বলে উপস্থাপন করা, যেন মানুষ দেখে যে এই ব্যক্তি খুব দুঃখে আছে, গরিব — যদিও তার সামর্থ্য আছে ভালোভাবে চলার, আল্লাহ্ এটি পছন্দ করেন না। এটি অপমান ও কৃতজ্ঞতা-হীনতারই ইঙ্গিত বহন করে। [অনুবাদক]








No Comment! Be the first one.