বিশ্বের প্রাচীনতম কুরআনের পান্ডুলিপি খুঁজে পাওয়া গেছে বার্মিংহাম বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগারে। গবেষকদের দাবি অনুযায়ী, ৯৫% এরও বেশি নির্ভুলতায় পরীক্ষায় দেখা গেছে যে এই পান্ডুলিপির চামড়া (যার ওপর লেখা হয়েছে) ৫৬৮ থেকে ৬৪৫ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে কোনো এক সময়ের। যদি এটি সত্য হয়, তাহলে এর অর্থ দাঁড়ায় এটি রাসূলুল্লাহ ﷺ–এর সময়ের খুব কাছাকাছি সময়ে লেখা হয়েছে এবং খুব সম্ভবত কোনো সাহাবিই এটি লিপিবদ্ধ করেছেন। স্বাভাবিকভাবেই এই সংবাদ ছড়িয়ে পড়ার পর মুসলিমরা পৃথিবীজুড়ে অত্যন্ত উৎসাহের সাথে প্রতিক্রিয়া জানাতে শুরু করে এবং বর্তমান মুসহাফের সাথে শব্দে শব্দে মিল দেখে অনেকেই বিস্ময় প্রকাশ করে। আমিও যদিও সেই উত্তেজনা অনুভব করেছিলাম, কিন্তু আমার মনে এক ধরনের দুশ্চিন্তা কাজ করছিল। আমরা আসলে ঠিক কিসে খুশি হয়েছিলাম? পাণ্ডুলিপির আবিষ্কারে, না কি তাতে বর্তমান মুসহাফের সাথে মিল আছে এই কারণে? এই আবিষ্কার আসলে আমাদের জন্য আল্লাহর প্রতিশ্রুতির প্রতি বিশ্বাস বাড়ানোর একটি উৎস হওয়া উচিত ছিল। যদি আমরা দ্বিতীয়টি (অর্থাৎ মিল পাওয়াটা) উদ্যাপন করে থাকি, তাহলে আমাদের উচিত নিজের অবস্থান নিয়ে লজ্জিত হওয়া, কারণ এতে বোঝা যায় আমরা এই কিতাবের সত্য সম্বন্ধে সম্পূর্ণ নিশ্চিত ছিলাম না।
আল্লাহ আমাদের মাঝে আলেমদের দ্বারা অনুগ্রহ করেছেন এবং এই উৎসাহ-উল্লাসের মাঝে শাইখ হাইসাম আল হাদ্দাদ ও শাইখ আসিম আল হাকিম একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলেছেন। হ্যাঁ, এটি হয়তো ইতিহাসে প্রাপ্ত সর্বপ্রাচীন পাণ্ডুলিপি, কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে এর প্রামাণিকতা কোথায়? প্রামাণিকতা ও যাচাইকরণ (তাহকীক) এমন একটি বৈশিষ্ট্য যা আমাদেরকে পূর্ববর্তী ধ্বংসপ্রাপ্ত জাতিসমূহ থেকে আলাদা করেছে।
আমাদের পক্ষেও বিশেষজ্ঞগণ রয়েছেন। যেমন: আল-হালৌজি বলেন, কুরআনের এই অধ্যায়গুলোতে ব্যবহৃত কালি পরীক্ষা করা উচিত ছিল। তাঁর মতে, যেই চামড়ায় লেখা হয়েছে সেটি হয়তো ওই সময়কার, কিন্তু সেটি প্রমাণ করে না যে লেখাটিও সেই সময়ে লেখা হয়েছিল।
সৌদি আরবের প্রত্নতত্ত্ববিদগণ বলেন, সূরা আলাদা করতে যে লাল কালি ব্যবহার করা হয়েছে, তা রাসূলুল্লাহ ﷺ–এর সময়ে ব্যবহৃত হতো না। এমনকি “বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম”–ও লাল কালিতে লেখা হতো না।
উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগার অনুষদের ডিন আদনান আল শরীফ বলেন, “এই পান্ডুলিপি সম্ভবত উসমান ইবন আফফান رضي الله عنه–এর সময়কার, যিনি রাসূল ﷺ–এর মৃত্যুর বহু বছর পর খলিফা হন। কারণ রাসূল ﷺ–এর সময় কুরআন বর্তমানের মতো সুসংগঠিত ও পরিপূর্ণ মুসহাফ আকারে ছিল না এবং তখন কোনো রঙ ব্যবহার করা হতো না।”
এখন দেখা যাক কিভাবে কুরআন ইতিহাসের সবচেয়ে প্রামাণিক গ্রন্থ এবং এই আবিষ্কারের প্রকৃত তাৎপর্য কী। কুরআন আল্লাহর পবিত্র বাক্য, এটি সৃষ্টি নয়, বরং আল্লাহর কালাম। এতে এমন কিছু নেই যা ঐশী নয়। এটি চিরন্তন হিদায়াত, বিধান, হৃদয় ও আত্মার অনুপ্রেরণা এবং পরিপূর্ণ জীবন যাপনের পূর্ণাঙ্গ দিকনির্দেশনা। আল্লাহ যুগে যুগে তাঁর রহমত ও ইনসাফের কারণে মানবজাতির জন্য নবী পাঠিয়েছেন এবং তাঁদের মাধ্যমে কিতাব নাজিল করেছেন। যেমন: তাওরাত মুসা عليه السلام–এর ওপর, যবূর দাউদ عليه السلام–এর ওপর, ইনজীল ঈসা عليه السلام–এর ওপর এবং শেষ কিতাব কুরআন মুহাম্মাদ ﷺ–এর ওপর। কিন্তু মানুষ পাপপ্রবণ হওয়ায় ও নিজের খেয়াল-খুশিকে প্রাধান্য দিয়ে এসব কিতাবে বিকৃতি এনেছে এবং আল্লাহর কিতাবের সাথে নিজেদের মনগড়া কথা মিশিয়েছে। ফলে আল্লাহর গজব তাদের ওপর নেমে এসেছে।
কিন্তু যেহেতু মুহাম্মাদ ﷺ সর্বশেষ রাসূল, আল্লাহ নিজ দায়িত্ব নিয়েছেন কুরআনকে সংরক্ষণের:
إِنَّا نَحْنُ نَزَّلْنَا الذِّكْرَ وَإِنَّا لَهُ لَحَافِظُونَ
“নিশ্চয়ই আমরাই এই ‘যিকর’ (কুরআন) অবতীর্ণ করেছি এবং আমরাই এর সংরক্ষক।” [সূরা আল-হিজর, ১৫:৯]
কুরআন যখন সংরক্ষিত, তখন শয়তান মানুষকে কীভাবে বিভ্রান্ত করবে? সে এবার মানুষকে কুরআনের ব্যাখ্যা ও অর্থ নিয়ে বিভ্রান্ত করতে শুরু করল, সাহাবায়ে কেরাম رضي الله عنهم যেভাবে বুঝেছিলেন সেই মূল ব্যাখ্যা থেকে মানুষকে সরিয়ে দিল। মানুষ আজ নিজের বোঝা ও অনুভূতি দিয়ে ব্যাখ্যা দেয়, অথচ কুরআন ও হাদীসের প্রকৃত বোঝার সাথে তার সম্পর্কই নেই। তাহকীক বা যাচাই–এর চেতনা আজ আমাদের মাঝে বিলুপ্ত হতে বসেছে। আর এটাই শয়তানকে সুযোগ করে দিচ্ছে।
১৪০০ বছর ধরে বারবার চেষ্টা করা হয়েছে কুরআনের বিশ্বাসযোগ্যতাকে আঘাত করতে। কেউ একে মুহাম্মাদ ﷺ–এর কবিতা বলেছে, কেউ তাঁর সাহাবাদের রচনা। কেউ কেউ অনুরূপ কিছু বানানোর চেষ্টা করেছে, কিন্তু ব্যর্থ হয়েছে। কারণ, আল্লাহ নিজেই বলেন:
قُلْ فَأْتُوا بِسُورَةٍ مِثْلِهِ
“বল, তাহলে এর মতো একটি সূরা নিয়ে এসো…” [সূরা ইউনুস, ১০:৩৮]
بَلْ كَذَّبُوا بِمَا لَمْ يُحِيطُوا بِعِلْمِهِ
“বরং তারা অস্বীকার করেছে এমন বিষয়কে যা তারা জ্ঞান দ্বারা পরিবেষ্টন করতে পারেনি…” [সূরা ইউনুস, ১০:৩৯]
কুরআনের সংরক্ষণ প্রক্রিয়া:
প্রথম থেকে কুরআন নবী ﷺ নিজ হাতে লেখেননি, বরং সাহাবাদের দিয়ে লিখিয়ে নিয়েছেন—যাদের মধ্যে প্রধান ছিলেন যায়দ ইবন সাবিত رضي الله عنه। আরও অনেক সাহাবি লিখেছেন—উবাই ইবন কা‘ব, ইবন মাসঊদ, মুয়াবিয়া, খালিদ ইবন ওয়ালিদ, আজ-যুবায়র ইবন আওয়াম رضي الله عنهم।
কুরআনের আয়াতগুলো চামড়া, হাড়, খর্জুর পাতার ডাঁটা ইত্যাদির ওপর লেখা হতো। নবী ﷺ নিজের মুখে শুনে যাচাই করতেন কোনো ভুল হয়েছে কি না। এরপর কিভাবে কোন সূরার কোথায় স্থান পাবে সেটিও নির্দেশ দিতেন।
এইসব ছিল শুধু কোনো এলোমেলো কাজ নয়, বরং আল্লাহর পক্ষ থেকে ছিল। নবী ﷺ–এর জীবনের শেষ দিকে হজরত জিবরাইল عليه السلام প্রতি বছর তাঁর সঙ্গে কুরআনের মুরাজআ করতেন একটি নির্দিষ্ট ক্রমানুসারে। অনেক সাহাবি পুরো কুরআন মুখস্থ করেছিলেন, এবং সেটিই বংশপরম্পরায় চলে এসেছে।
এভাবেই কুরআন শুধু কাগজে নয়, বরং হৃদয়ে, মুখে এবং আমলে সংরক্ষিত আছে। আলহামদুলিল্লাহ।
القرآن الكريم–এর লিপিবদ্ধকরণ ইয়ামামাহ যুদ্ধের পরে, আবু বকর رضي الله عنه-এর খেলাফতের সময়ে সম্পন্ন হয়। সেই যুদ্ধে বহু হাফেজ সাহাবি শহীদ হন এবং আশঙ্কা দেখা দেয় যে, যদি কুরআনের পূর্ণ প্রকাশিত অংশকে লিখিতভাবে সংরক্ষণ করা না হয়, তবে তা হাফেজ সাহাবিদের মৃত্যুর সাথে সাথে হারিয়ে যেতে পারে। তাই উমর رضي الله عنه-এর পরামর্শে, কুরআনকে একটি মুসহাফ আকারে লিখে সংরক্ষণের প্রস্তাব আসে। এই দায়িত্বে যাইদ ইবন সাবিত رضي الله عنه-কে নিযুক্ত করা হয় এবং তিনি একটি কমিটির নেতৃত্ব দেন যারা বিভিন্ন স্থানে সংরক্ষিত কুরআনের অংশসমূহ একত্র করেন।
তাদের নীতিমালা ছিল—শুধুমাত্র সেই অংশই গ্রহণ করা হবে যা রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর উপস্থিতিতে লিখিত হয়েছিল এবং অন্তত দুই বিশ্বস্ত সাক্ষী তা শুনেছিলেন এমন প্রমাণ দিতে পারলে তবেই তা অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এই কাজ সম্পন্ন হলে এবং সাহাবায়ে কেরামের সম্মতিতে সেটিকে অনুমোদন দেওয়া হলে, তা খেলিফা আবু বকর رضي الله عنه-এর কাছে সংরক্ষণে রাখা হয়। এরপর তা উমর رضي الله عنه-এর হাতে আসে, এবং পরে তাঁর কন্যা ও রাসূল ﷺ-এর স্ত্রী হাফসা رضي الله عنها-র কাছে সংরক্ষিত থাকে।
তৃতীয় খলিফা উসমান رضي الله عنه, হাফসা رضي الله عنها-এর কাছ থেকে মূল পান্ডুলিপিটি আনিয়ে নেন এবং সেটির অনুলিপি প্রস্তুতের আদেশ দেন। এই কাজে নিযুক্ত ছিলেন: যাইদ ইবন সাবিত, আবদুল্লাহ ইবন যুবায়ের, সাঈদ ইবন আল-আস এবং আবদুর রহমান ইবন হারিস ইবন হিশাম رضي الله عنهم। কাজ শেষ হলে উসমান رضي الله عنه মূল পান্ডুলিপিটি হাফসা رضي الله عنها-র কাছে ফিরিয়ে দেন এবং অনুলিপিগুলো ইসলামের প্রধান প্রধান প্রদেশে পাঠিয়ে দেন যেন পুরো উম্মাহ একতাবদ্ধ থাকে।
১৪০০ বছর আগের তৈরি সেই প্রাথমিক কুরআনের তিনটি অনুলিপি এখনো বিদ্যমান। একটি রয়েছে ইস্তাম্বুলের টপকাপি সরায় মিউজিয়ামে, আরেকটি তাশখন্দ শহরের জাদুঘরে (উজবেকিস্তান)—এটি উসমান رضي الله عنه কর্তৃক পাঠানো কপিগুলোর একটি। সম্ভবত বার্মিংহাম আবিষ্কারের চেয়েও প্রাচীন একটি অনুলিপি ইয়েমেনের সানআ’-তে রয়েছে। ইউনেস্কোর Memory of the World প্রোগ্রামের মতে, এটি হলো “উসমানি মুসহাফ”।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, আজ পৃথিবীর যেকোনো প্রান্তের কুরআনের কপি এই প্রাচীন মুসহাফগুলোর সঙ্গে একবিন্দুও ভিন্ন নয়।
এবং কেনই-বা ভিন্ন হবে? রাসূল ﷺ-এর যুগ থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত প্রতিটি যুগেই লক্ষ লক্ষ হাফেজ ছিলেন—যারা কুরআনকে শব্দে শব্দে মুখস্থ রেখেছেন। কেউ যদি কুরআনের একটি শব্দেও পরিবর্তন আনতে চায়, সেই হাফেজরা সঙ্গে সঙ্গেই তা চিহ্নিত করে ফেলবেন।
গত শতকে, জার্মানির মিউনিখ বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি ইনস্টিটিউট ৪২,০০০ কপি কুরআন সংগ্রহ করে (হস্তলিখিত ও মুদ্রিত)। এগুলো ইসলামের ১ম শতাব্দী থেকে ১৪তম শতাব্দী পর্যন্ত সময়কালের, এবং পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চল থেকে সংগৃহীত। অর্ধশতাব্দী ধরে গবেষণার পর, গবেষকরা এই সিদ্ধান্তে পৌঁছান—কিছু কপির ভুল কপি ছাড়া বাকির সব কপির পাঠে কোনো ভিন্নতা নেই। যদিও পরবর্তীতে WWII-এর বোমা হামলায় সেই ইনস্টিটিউট ধ্বংস হয়, তবে গবেষণালব্ধ তথ্য আজও সংরক্ষিত।
এর ফলে, কুরআন একমাত্র ধর্মগ্রন্থ যা মূল ভাষা এবং আকারে সম্পূর্ণ রূপে সংরক্ষিত আছে এবং আজও গভীরভাবে অনুধাবনযোগ্য। উভয় মাধ্যমে (মৌখিক ও লিখিত) সংরক্ষিত হয়ে, একে অপরের জন্য যাচাই ও পরিমাপক রূপে কাজ করছে।
বিশ্বখ্যাত গবেষক স্যার উইলিয়াম মুইর বলেন,
“There is probably no other book in the world which has remained twelve centuries (now fourteen) with so pure a text.”
“সম্ভবত পৃথিবীর আর কোনো বই এত শতাব্দী ধরে এত বিশুদ্ধভাবে সংরক্ষিত নেই।”
আল্লাহ কুরআনকে রক্ষা করবেন—এই প্রতিশ্রুতি তিনি রেখেছেন। যদি মুসলমানরা এতটাই অবনত হয় যে তারা নিজের কিতাবকে সম্মান না করে, আল্লাহ তখন কাফেরদের হাত দিয়েই কুরআনের সংরক্ষণ করিয়ে নেন। কারণ সমস্ত শক্তি ও কুদরত শুধুই তাঁর হাতে।
এই পুরো ঘটনাপ্রবাহে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হচ্ছে: কুরআনের প্রকৃত পাঠই এই পান্ডুলিপিতে সংরক্ষিত ছিল—যেটি আজকের কুরআনের সঙ্গে হুবহু মিলে যায়।

Birmingham Qur’an manuscript dated among the oldest in the world.
طه
مَآ أَنزَلْنَا عَلَيْكَ ٱلْقُرْءَانَ لِتَشْقَىٰٓ
إِلَّا تَذْكِرَةً لِّمَن يَخْشَىٰ
تَنزِيلًا مِّمَّنْ خَلَقَ ٱلْأَرْضَ وَٱلسَّمَٰوَٰتِ ٱلْعُلَىٰ
ٱلرَّحْمَٰنُ عَلَى ٱلْعَرْشِ ٱسْتَوَىٰ
لَهُۥ مَا فِى ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَمَا فِى ٱلْأَرْضِ وَمَا بَيْنَهُمَا وَمَا تَحْتَ ٱلثَّرَىٰ
وَإِن تَجْهَرْ بِٱلْقَوْلِ فَإِنَّهُۥ يَعْلَمُ ٱلسِّرَّ وَأَخْفَىٰ
ٱللَّهُ لَآ إِلَٰهَ إِلَّا هُوَ ۖ لَهُ ٱلْأَسْمَآءُ ٱلْحُسْنَىٰ
وَهَلْ أَتَىٰكَ حَدِيثُ مُوسَىٰٓ
إِذْ رَءَا نَارًا فَقَالَ لِأَهْلِهِ ٱمْكُثُوٓا۟ إِنِّىٓ ءَانَسْتُ نَارًا لَّعَلِّىٓ ءَاتِيكُم مِّنْهَا بِقَبَسٍ أَوْ أَجِدُ عَلَى ٱلنَّارِ هُدًى
فَلَمَّآ أَتَىٰهَا نُودِىَ يَٰمُوسَىٰٓ
তা-হা।
আমরা আপনার উপর কুরআন এজন্য অবতীর্ণ করিনি যাতে আপনি কষ্ট পান।
বরং এটি একটি সতর্কতা, তাদের জন্য যারা ভয় করে (আল্লাহকে)।
এটি সেই সত্তার পক্ষ থেকে অবতীর্ণ, যিনি সৃষ্টি করেছেন পৃথিবী এবং সুউচ্চ আসমানসমূহ।
রহমান, তিনি ‘আরশের’ উপরে অবস্থান করেছেন (তাঁর মাহাত্ম্যের উপযোগীভাবে)।
আকাশসমূহে যা কিছু আছে, পৃথিবীতে যা কিছু আছে, এদের মাঝে যা কিছু আছে এবং যা কিছু মাটির নিচে আছে—সবই তাঁর।
আপনি যদি উচ্চস্বরে কথা বলেন, তাহলে জেনে রাখুন—তিনি গোপন কথাও জানেন এবং যা আরও গোপন তারও জ্ঞান রাখেন।
আল্লাহ! তিনি ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই। সর্বোত্তম নামসমূহ তাঁরই।
আপনার কাছে কি মূসা’র কাহিনি পৌঁছেছে ?
যখন তিনি আগুন দেখলেন, তখন তিনি তাঁর পরিবারকে বললেন: “তোমরা এখানে অপেক্ষা করো, আমি একটি আগুন দেখেছি। হয়তো আমি সেখান থেকে তোমাদের জন্য একটি জ্বলন্ত মশাল আনতে পারব অথবা আগুনের পাশে কোনো পথপ্রদর্শক পেয়ে যেতে পারি।”
অতঃপর, যখন তিনি আগুনের কাছে পৌঁছালেন, তখন আহ্বান জানানো হলো: “হে মূসা!”
আল্লাহর সময় নির্ধারণ পরিপূর্ণ। তিনি জানেন আমাদের কখন কী প্রয়োজন— এমনকি তখনও, যখন আমরা নিজেরাই জানি না যে সেটি আমাদের দরকার। আল্লাহ আমাদের মনে করিয়ে দিচ্ছেন—সব সমস্যার সমাধান রয়েছে কুরআনের মধ্যেই। এটি একটি অনন্তকালীন হিদায়াত, এক মহাগ্রন্থ যা অন্ধকার থেকে মানবজাতিকে আলোর পথে আনয়ন করেছিল।
যখন উম্মাহ তার সবচেয়ে নিচু অবস্থানে পৌঁছেছে, তখন আমাদের আর অন্য কোথাও নয়, কবিতা কিংবা বক্তৃতায় নয়—বরং তাকাতে হবে সেই কুরআনের দিকে, যেটি ধুলায় ঢাকা পড়ে আছে আমাদের বুকশেলফে। রমাদান হচ্ছে কুরআনের মাস, কিন্তু এর অর্থ এই নয় যে কেবল রমাদানেই এটি পড়তে হবে—বরং এটি সর্বদা আমাদের হিদায়াতের উৎস।
এই কুরআন এমন এক প্রজন্ম গঠন করেছিল, যারা ছিল ‘সবচেয়ে নিচু’, আর তাদেরকে পরিণত করেছিল, এই পৃথিবীর বুকে পা রাখা ‘সবচেয়ে মহান’ মানুষে।
যেমন উমর رضي الله عنه বলেছিলেন:
“আমরা ছিলাম অপমানিত এক জাতি, আল্লাহ আমাদের ইসলাম দ্বারা সম্মানিত করেছেন। যদি আমরা ইসলাম ছাড়া অন্য কিছুতে সম্মান খুঁজি, আল্লাহ আমাদের আবার অপমানিত করবেন।”
আজ আমরা দেখি—মুসলিমরাই নিজেদের দ্বীনকে পানসে করে উপস্থাপন করছে, যেন তা গ্রহণযোগ্য হয় এবং তারা বাকিদের সঙ্গে খাপ খাইয়ে চলতে পারে। কিন্তু আমাদের দায়িত্ব হলো ইসলামের প্রকৃত বার্তা পৌঁছে দেওয়া— এমন না যে আমরা তা পরিবর্তন করব কিংবা ইচ্ছেমতো ব্যাখ্যা করব।
কারণ ইতিহাসে আমরা দেখি—এই দ্বীন বিকৃত করাই ছিল পূর্ববর্তী জাতিগুলোর ধ্বংসের মূল কারণ। কুরআন এবং ইসলাম আজও অবিকৃত অবস্থায় রয়েছে, আর যারা এটিকে চ্যালেঞ্জ করেছিল—তাদের এখন খোঁজ পাওয়া যায় না।
ইসলাম ও কুরআনকে কারো সামনে প্রমাণ দেওয়ার প্রয়োজন নেই। বরং আমরাই ব্যর্থ হচ্ছি এই দ্বীনকে যথাযথভাবে ধারণ ও উপস্থাপন করতে।
একটা ফুলদানি ভাঙলে তা হয়তো জোড়া লাগানো যায়, কিন্তু তার সৌন্দর্য আর আগের মতো থাকে না। আমরা এখন ইসলাম নামক ফুলদানিকে টুকরো টুকরো করছি, বিকৃতভাবে তা উপস্থাপন করে। ফলে মানুষ ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট না হয়ে দূরে সরে যাচ্ছে।
এখনই সময়—আল্লাহর রজ্জু শক্ত করে ধরার, যাতে করে আমরা আবার ফিরে যেতে পারি সেই গৌরবময় অবস্থানে, যেখানে আমাদের উম্মাহ থাকার যোগ্য।
একবার আমরা এই অবস্থান ফিরে পেলে—সেটাই প্রমাণ করবে যে ইসলাম ও কুরআনই সত্য, এবং আমাদের আর কোনো প্রমাণ খুঁজতে হবে না বা ইসলামকে অন্যদের দৃষ্টিতে গ্রহণযোগ্য করার জন্য বদলাতে হবে না।
শুধু ইসলাম এবং তার হিরোদের ‘জানা’ নয়—বরং তাদের অনুসরণ করা!
Mohammad Zahid
Mohammad Zahid ibn Tariq al-Nagrami al-Najdi is a prolific author, editor, and translator with multiple international works. With a strong foundation in both Islāmic scholarship and modern disciplines, he holds certifications in Shariah Auditing and Advisory (CSAA), Project Management (PMP), Blockchain (KBA), Zakat Management (IIIBF), and Waqf Management (IIIBF). He also earned a Master’s Degree in Information Technology (MIT), specializing in IT Project Management (IIUM). Currently serving as a Product Manager at a leading Islāmic FinTech company in Malaysia, Mohammad Zahid seamlessly integrates his expertise in technology with his deep commitment to Islāmic finance and ethics. Beyond his professional pursuits, he has been actively engaged in daʿwah for over a decade, studying under esteemed scholars such as Shaykh Dr. Ibrahim Nuhu, and others across Malaysia, Saudi Arabia, the UAE, and India. His passion for Islāmic education and literary excellence led him to establish InkOfFaith.com, an influential online platform dedicated to reviving the spirit of reading and fostering Islāmic learning among the youth. Mohammad Zahid is also a fellow editor and regular contributor to Dakwah Corner Publications, playing a vital role in producing high-quality Islāmic literature. Driven by a vision to bridge faith, knowledge, and innovation, he contributes meaningfully to the global discourse on Islām, education, and technology.








No Comment! Be the first one.