“আমি কখনোই পড়ায় পরিতৃপ্ত হই না। যখন আমি প্রথমবার কোনো বই দেখি, তখন মনে হয় যেন আমি একটি ধনভাণ্ডার দেখছি। যদি আমি বলি যে আমি ২০,০০০ খণ্ড পড়েছি, সত্যিকার সংখ্যাটি আরও বেশি—আর আমি এখনো পড়ে চলেছি।” – ইমাম ইবনুল জাওযি رحمه الله
যেমনটা সূর্য ছাড়া রোদ তৈরি হয় না, তেমনি বই না পড়ে লেখক হওয়া যায় না। এটা সম্ভবই না। পূর্ববর্তী আলিমগণ এত বেশি খণ্ডে বই লিখেছেন, কারণ তারা আরও বেশি পড়েছেন। তারা যদি ২০টি বই লিখতেন, তবে ২০০০টি পড়তেন। এজন্যই তো আজও আমরা তাদের বই পড়ি এবং তাদের প্রশংসা করি, বহু বছর পরেও, যখন তাদের দেহ ধুলোয় পরিণত হয়ে গেছে। আপনি যদি তাদের একজন হতে চান, যারা এই দুনিয়ায় একটি উত্তরাধিকার রেখে গিয়েছে, তাহলে পড়া শুরু করুন।
বই পড়া আমার কাছে কী? বই পড়া এমন কিছু যা আপনাকে বহু ভিন্ন জীবন ও বহু ভিন্ন জগত ভ্রমণের সুযোগ দেয়। এটা এমন কিছু যা আপনার মনকে প্রসারিত করে, আর প্রতিবার একটি পৃষ্ঠা উল্টানোর সময় এটি আপনাকে বিনয়ী করে তোলে, আপনাকে জানিয়ে দেয় আপনি কত সামান্য জানেন। এটি যেন একটি ধার দেওয়ার পাথর, যা আপনার সবচেয়ে মূল্যবান জিনিস—আপনার মন—কে শান দেয়।
এটি ইতিহাসের একটি টুকরো, এটি বর্তমানের একটি জার্নাল এবং ভবিষ্যতের একটি পথনকশা। আশ্চর্যজনকভাবে, একই বই ভিন্ন ভিন্ন মানুষের উপর ভিন্ন প্রভাব ফেলে। আপনি শিখেন এবং চিন্তা করেন শুধু মহান ব্যক্তিদের লেখার মধ্য দিয়ে নয়, বরং নির্বোধদের ভুলভ্রান্তির মধ্য দিয়েও। একটি বই হতে পারে কাউকে দেওয়ার জন্য সবচেয়ে চমৎকার উপহার।
আমরা সেই জাতি, যাদের প্রথম আদেশই ছিল: পড়ো! তোমার প্রভুর নামে পড়ো, যিনি সৃষ্টি করেছেন। আমরা কোথায় হারিয়ে গেলাম? নিজের উপকার করুন এবং পড়া শুরু করুন! নিজেকে গড়ে তুলুন এবং শক্তিশালী করুন। তাহলে শুরু করা যাক:
“আমার তো সময়ই নেই”
এটাই সবচেয়ে বেশি প্রচলিত সমস্যা, যখন কাউকে তাদের পাঠাভ্যাস সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হয়। আপনি যদি কোনো দূর দেশে থাকা কোনো প্রাসাদের রাজকন্যা না হন, তবে কেউ এসে আপনার হয়ে পড়বে না। বই পড়া অন্যান্য সব কিছুর মতোই প্রতিশ্রুতি ও অগ্রাধিকার নির্ধারণের বিষয়। কেউ যদি সত্যিই কিছু করতে চায়, তাহলে তারা যেভাবেই হোক না কেন সময় বের করে নেয়, বাধা যতই থাকুক না কেন। আপনাকে জানতে হবে বই পড়া আপনাকে কী উপকার করে এবং এটি আপনাকে একজন মানুষ হিসেবে কিভাবে গড়ে তোলে। তাহলে কীভাবে আপনি আপনার ব্যস্ত সময়সূচিতে পাঠের জন্য সময় বের করতে পারেন?
আপনি যেখানেই যান, বই বা কিন্ডেল (বইয়ের অনলাইন সংস্করণ) সাথে রাখুন। আপনি যদি এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যাতায়াত করেন, বই বের করে পড়ুন। এটি বিরক্তিকর যাতায়াতের সময় পার করতেও সাহায্য করবে এবং আপনাকে উপকৃতও করবে। আপনার মা, স্ত্রী বা বোনেরা কেনাকাটায় ব্যস্ত এবং আপনাকে বাইরে বসে থাকতে হচ্ছে এবং অনন্ত-অসীমের দিকে তাকিয়ে থাকতে হচ্ছে। তাহলে আসুন, সেই অনুসন্ধানী দৃষ্টিকে একটি অসাধারণ বইয়ে নামিয়ে আনি। আপনার বাবা, স্বামী বা ভাই আপনাকে তার ফুটবল খেলায় নিয়ে গেছেন, যেটাতে আপনার বিন্দুমাত্র আগ্রহ নেই। তাহলে বই বের করুন, সেই অযথা পা ঘোরাঘুরি না দেখে পড়তে শুরু করুন।
মূল কথা: সামান্য ফাঁকা সময় পেলেই পড়ুন!
আমরা কখনো কখনো সামাজিক মাধ্যমে এতটাই আসক্ত হয়ে পড়ি যে আমরা শুধু বসে বসে আমাদের নিউজফিড স্ক্রল করি পুরো একটি ফুটবল মাঠের দৈর্ঘ্যজুড়ে, অথবা বারবার রিফ্রেশ করি নতুন কিছু আসার আশায়। কেন সেখানে সময় নষ্ট করবেন, যখন আপনি ঠিক সেই সময় একটি বই খুলে পড়তে পারেন এবং প্রবেশ করতে পারেন একটি নতুন তথ্য, কল্পনা, জ্ঞান অথবা অন্য যেকোনো জগতে।
প্রতিদিন নিজেকে একটি নতুন জগতে নিয়ে যান।
কঠিন পরিশ্রমের একটি দিনের শেষে টেলিভিশনের সামনে অলস হয়ে বসে থাকার পরিবর্তে হাতে তুলে নিন সেই বইটি যেটা আপনি এতদিন ধরে পড়ার জন্য রেখে দিয়েছেন। ঘুমানোর আগে পড়া মনকে শান্ত করে এবং গভীর ঘুম আনতে সাহায্য করে। মোবাইল বা টিভির প্রতি আঠার মতো লেগে থাকা ভালো নয়, কারণ তাদের নীল আলো বরং আপনাকে জাগিয়ে রাখে এবং ঘুমাতে আরও কষ্ট হয়।
আপনার যেসব বিষয়ে আগ্রহ আছে, সেখান থেকেই পড়া শুরু করুন। একবার পড়া শুরু করলে, থামবেন না। কেউই পরাজিতদের পছন্দ করে না, তাদের একজন হবেন না যারা পিঠ দেখিয়ে পালিয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত লড়াই করুন এবং শেষের পুরস্কার অবশ্যই মধুর হবে—যদি না আপনার ডায়াবেটিস থাকে, তাহলে চিনিমুক্ত মধুরতা আশা করুন।
কেউ একজনকে আপনার সঙ্গে একই বই পড়তে বলুন। মানুষ একটি প্রতিযোগিতামূলক প্রাণী। আপনার বন্ধুর অগ্রগতি আপনাকে সচেতন রাখবে, পাশাপাশি আপনি এমন একজনকে পাবেন যার সঙ্গে বইয়ের অসাধারণ অংশগুলো নিয়ে আলোচনা করতে পারবেন।
একটি কিণ্ডল বা অডিওবুকে কিছু টাকা ব্যয় করুন। কিণ্ডল একটি বিদআহ হলেও, এই পর্যায়ে এটি একটি বিদআহ হাসানাহ। আমি অডিওবুক ততক্ষণ পর্যন্ত সুপারিশ করব না যতক্ষণ না এটি আপনার একেবারে শেষ উপায়, কিন্তু কিণ্ডল হতে পারে আপনার সেরা বিনিয়োগ। এটি আপনার না পড়ার সব অজুহাতে একটি তীর ছুঁড়ে দেবে। ছোট, বহনযোগ্য, হাজার হাজার বই ধারণ করতে পারে এবং আরও অনেক কিছু।
সঠিকটি বেছে নেওয়া
অনেকেই বলেন, আপনি কী ধরনের বই পড়বেন তা বেছে নেওয়া ঠিক ততটাই গুরুত্বপূর্ণ, যতটা একজন জীবনসঙ্গী বেছে নেওয়া। কেন? কারণ আপনি যা পড়েন, তা-ই আপনার চিন্তাধারা গঠন করবে এবং দুনিয়াকে দেখার জন্য একটি দৃষ্টিভঙ্গি দেবে। ইতিহাসে আপনি দেখবেন—যখনই কোনো দেশ দখল হয়েছে, তখনই স্কুলের পাঠ্যবইগুলো বদলানো হয়েছে বা পরিবর্তন করা হয়েছে। আজও আপনি যদি কোনো দেশের ইতিহাসের বই হাতে নেন, দেখবেন তাদের দেশকে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ভালো বা নির্যাতিত হিসেবে দেখানো হয়, কখনোই অপকারীর ভূমিকায় নয়। এতে করে মাঝে মাঝে মানুষের মধ্যে একটি মিথ্যা দেশপ্রেম তৈরি হয়।
তাহলে চলুন আসল বিষয়ে আসা যাক—কিভাবে বই বেছে নেবেন?
- আপনি কোন জনরার বই পড়তে চান তার একটা মোটামুটি ধারণা রাখুন। এতে করে পুরো বইয়ের দোকান বা লাইব্রেরি না খুঁজে শুধু কয়েকটি বিভাগেই আপনার খোঁজা সীমিত থাকবে।
- কী পড়বেন তা নিয়ে মানুষদের পরামর্শ নিন। বইয়ের রিভিউ নিয়ে বেশি মাথা ঘামাবেন না, কারণ মানুষ বইয়ের সঙ্গে ভিন্নভাবে সংযোগ স্থাপন করে—তবে যদি সব রিভিউ খারাপ হয়, তাহলে অবশ্যই ভাবুন। এমন কারও পরামর্শ নিন, যিনি বইটি শেষ করেছেন।
- কখনো কখনো বইয়ের প্রচ্ছদ দেখেই সিদ্ধান্ত নিতে হয়। তবে সেটা শুধু তখনই, যখন আপনি হালকা কিছু পড়তে চান এবং মনমতো কিছু পেলে খুশি হবেন বলে ভাবছেন।
একটি বই তুলে নিন:
- পড়ার জায়গায় বসে বইটি একটু পড়ে দেখুন, এটি আপনাকে আকর্ষণ করছে কি না।
- বইয়ের ভূমিকাংশ, সূচিপত্র, ইনডেক্স, এবং ভিতরের কাভার পড়ে একটি ধারণা নিন—বইটি আসলে কী নিয়ে লেখা। কারণ, প্রচ্ছদ ও ঝলমলে ফন্ট মাঝে মাঝে বিভ্রান্ত করতে পারে। বইয়ের ভূমিকা এবং সূচিপত্র—এই দুটি হলো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পৃষ্ঠা।
ধীরে সুস্থে আগানো
আমি এমন অনেককে দেখেছি যারা বইয়ের পুরুত্ব দেখে পড়াই বাদ দিয়ে দেন। আবার কেউ কেউ আছেন যাদের উত্তেজনা বই যত পুরু, ততই বেশি হয়। কারো যদি একেবারেই পড়ার অভ্যাস না থাকে, তাহলে ৫০০ পৃষ্ঠার একটি বইও তাকে ভয় ধরিয়ে দিতে পারে। ছোট কিছু দিয়ে শুরু করুন—ছোট গল্প, ম্যাগাজিন। পুরোটা পড়ে শেষ করার পর যে আনন্দ আর তৃপ্তি আসে, তা আসক্তিকর হতে পারে। যখন আত্মবিশ্বাস গড়ে উঠবে, তখনই আপনি মোটা বই ধরার সাহস পাবেন। যত উঁচু পাহাড়, চূড়ায় ওঠার পর তত বড় পুরস্কার।
আপনার পড়ার গতি এখান থেকে চেক করতে পারেন। যদিও আমার গতি প্রতি মিনিটে ৪২৫ শব্দ, তবে সেটা খুব ভালো কিছু নয় যদি আপনি যা পড়ছেন তা ধরে রাখতে না পারেন। কারও কারও জন্য পড়া মানেই বহু বই শেষ করা নয়, বরং জানালার পাশে বসে বৃষ্টির শব্দে এক কাপ গরম কফি নিয়ে বই পড়া। কয়েক দিনের মধ্যে বই শেষ করতেই হবে—এমন চাপ নেবেন না। কারও বই পড়া শেষ হতে কয়েক দিন, কয়েক সপ্তাহ বা এমনকি কয়েক মাসও লাগতে পারে। আপনি যতক্ষণ পড়ে চলেছেন, দিনরাত—ততক্ষণ আপনি পথেই আছেন।
কিছু সাধারণ পরামর্শ:
- বন্ধুদের দেখাদেখি পড়া শুরু করবেন না। এটা ভালো, তবে এমন কিছু পড়ুন যা আপনি নিজে পড়তে চান। ভিড়ের ভেড়া হবেন না, বাঘ হোন। তবে আপনি যদি এইমাত্র জানতে পারেন যে কয়েকশো পৃষ্ঠা একত্রে বাঁধা জিনিসটিকে বই বলে, তাহলে আপাতত দলে থাকুন।
- আপনি যে জায়গায় পড়ছেন বা যে পরিবেশে পড়ছেন, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। চোখের ওপর দয়া করুন—রাতের গভীরে হালকা আলোয় পড়বেন না। কিণ্ডলে ইলেকট্রনিক কালি ব্যবহৃত হয়, তাই রাতেও পড়লে চোখের ক্ষতি হয় না। এমন জায়গায় পড়ুন যেটি আপনার মনকে আরাম দেয় বা সুখ দেয়। আমার জন্য, যেকোনো জায়গা যেখানে আমি পড়তে পারি, সেটিই সুখের জায়গা।
- প্রতিদিন একটি নির্দিষ্ট সংখ্যক পৃষ্ঠা পড়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করুন। সেটা পার হলে লক্ষ্য একটু বাড়ান। নিজেকে চ্যালেঞ্জ দিন, বেশি পড়ার জন্য নিজেকে চাপ দিন। আপনি যদি লক্ষ্য পূরণ করতে থাকেন এবং মোটা বইগুলোও শেষ করতে পারেন, তাহলে নিজেকে একটি পুরস্কার দিন। আপনার মস্তিষ্ক এই পুরস্কার মনে রাখবে, আপনি না রাখলেও। নতুন কিছু আকর্ষণীয় বই কিনে রাখুন—এতে আপনি আপনার বর্তমান বইটি শেষ করতে আরও উৎসাহ পাবেন। মনে রাখবেন—চিটিং নয়, বর্তমান বইটিকে শেষ পর্যন্ত ভালোবাসা ও মনোযোগ দিন। একজন ভদ্রলোকের মতো আচরণ করুন।
- পড়ায় অভ্যস্ত হয়ে গেলে প্রতিটি শব্দ পড়ার দরকার নেই। একটু গতি নিয়েই পড়ুন, যাতে গুরুত্বপূর্ণ কিছু বাদ না যায়, আর যেখানে কাহিনি জমে ওঠে সেখানে থামুন। উপন্যাস পড়ার ক্ষেত্রে এটি খুবই কার্যকর।
- পড়তে পড়তে যদি বিরক্ত লাগে, থেমে যান। বিরতি নিন বা পরদিন পড়ুন। মন না থাকলে পড়ার কোনো মানেই হয় না। শেখার জন্য পড়ায় ডুবে যেতে হবে, প্রতিটি পৃষ্ঠা উল্টানোকে উপভোগ করতে হবে। কল্পনা করুন আপনি প্রিয়তমার সঙ্গে ডেটে গেছেন আর সে আপনাকেই দেখছে না বা অন্য কিছু ভাবছে। ভালো লাগবে না, তাই তো? অতিরঞ্জন করা হলো ঠিকই, কিন্তু আপনি নিশ্চয়ই বুঝে গেছেন।
- আপনি যা পড়ছেন, তাতে বৈচিত্র্য আনুন। একই ঘরানার বেশি পড়লে বিরক্তি চলে আসে। আগ্রহ কমে যায়, পড়তে আর ইচ্ছা হয় না। ধর্ম, সাহিত্য, ইতিহাস বা যা আপনার ভালো লাগে—ঘুরিয়ে ফিরিয়ে পড়ুন। আগ্রহ ধরে রাখুন, বৈচিত্র্য রাখুন।
যদি আপনি পড়ে মনে রাখতে চান, তাহলে কয়েকটি ছোট কাজ করতে পারেন:
- নোট নিন — কোনো পয়েন্ট যদি গুরুত্বপূর্ণ মনে হয় বা বিশেষভাবে ভালো লাগে, তাহলে তা নিজের ভাষায় লিখে রাখুন (উদ্ধৃতি ছাড়া)। আরেকটা পদ্ধতি হলো, পুরো বই পড়ে একটি সংক্ষিপ্ত সারাংশ লেখা, যা আপনি বইয়ের ভেতরে রেখে দিতে পারেন পরবর্তীতে ফিরে দেখার জন্য। কেউ কেউ বইয়ের পাতায়ই নোট নেয়ার কথা বলেন, কিন্তু আমি এর ঘোর বিরোধী। বই খাতা নয়, এর এই সম্মান প্রাপ্য।
- বইয়ে বর্ণিত দৃশ্য কল্পনায় আঁকুন। মনের মধ্যে সেই দৃশ্যচিত্রটি খেলিয়ে নিন। কোনো পরিচিত বিষয়ের সঙ্গে মিলিয়ে নিন, যেন পরে স্মরণ করা সহজ হয়।
- বইটি সংক্ষেপে বন্ধু বা আত্মীয়কে বলুন। আপনি যদি পুরো বই বুঝে না থাকেন, তাহলে তা সংক্ষেপে বলতে পারবেন না। যদি এটি কোনো কারিগরি (technical) বই হয়, তাহলে চেষ্টা করুন একটি শিশুকে বুঝিয়ে বলতে। আপনি যদি একটি শিশুকে বুঝিয়ে বলতে পারেন, তবে তার মানে আপনি সত্যিই বুঝেছেন এবং মনে রেখেছেন।
- যে লাইন পড়ছেন, তাতে কলম/পেন দিয়ে অনুসরণ করুন। ধীরে পড়ুন, মনোযোগ দিয়ে পড়ার বিষয়টি নিজের মধ্যে গেঁথে ফেলুন। যা পড়েছেন মনে রাখার ক্ষেত্রে পুনরাবৃত্তির চেয়ে ভালো কিছু নেই। যে কোনো হাফেযকে জিজ্ঞেস করুন।
ইসলাম বই পড়াকে অনেক গুরুত্ব দেয়—কারণ ওহির প্রথম শব্দই ছিল: “পড়ো!”
আল্লাহ ﷻ কুরআনে আমাদের চিন্তার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন রেখেছেন:
قُلۡ هَلۡ یَسۡتَوِی الَّذِیۡنَ یَعۡلَمُوۡنَ وَ الَّذِیۡنَ لَا یَعۡلَمُوۡنَ ؕ اِنَّمَا یَتَذَكَّرُ اُولُوا الۡاَلۡبَابِ
“বলুন: যারা জানে এবং যারা জানে না, তারা কি সমান? শুধু বোধসম্পন্নরাই উপদেশ গ্রহণ করে।” [সূরা আল-যুমার: ০৯]
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন: “যে ব্যক্তি জ্ঞান অন্বেষণের উদ্দেশ্যে ঘর থেকে বের হয়, তার এ কর্মে ফেরেশতাগণ সন্তুষ্ট হয়ে তাদের ডানা বিছিয়ে দেয়।” [সুনান ইবনু মাজাহ]
প্রিয় রাসূল ﷺ এর কিছু মুক্তার মতো বাণী, যা আমাদের পথচলায় দিকনির্দেশনা দেবে—
১) اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ عِلْمٍ لَا يَنْفَعُ، وَمِنْ دُعَاءٍ لَا يُسْمَعُ، وَمِنْ قَلْبٍ لَا يَخْشَعُ، وَمِنْ نَفْسٍ لَا تَشْبَعُ
হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই এমন জ্ঞান থেকে যা কোনো উপকারে আসে না, এমন দোয়া থেকে যা কবুল হয় না, এমন হৃদয় থেকে যা ভীত হয় না, এবং এমন আত্মা থেকে যা কখনোই পরিতৃপ্ত হয় না। [সুনান ইবনু মাজাহ]
২) اللَّهُمَّ انْفَعْنِي بِمَا عَلَّمْتَنِي، وَعَلِّمْنِي مَا يَنْفَعُنِي، وَزِدْنِي عِلْمًا
হে আল্লাহ! আপনি আমাকে যা শিখিয়েছেন, তাতে আমাকে উপকার দিন এবং আমাকে এমন জ্ঞান শেখান যা আমার জন্য উপকারী; আর আমার জ্ঞান বৃদ্ধি করুন। [সুনান আত-তিরমিজি]
৩)
سُبْحَانَكَ لَا عِلْمَ لَنَا إِلَّا مَا عَلَّمْتَنَا، إِنَّكَ أَنْتَ الْعَلِيمُ الْحَكِيمُ
আপনি পবিত্র!আপনি যা আমাদের শিখিয়েছেন তার বাইরে, আমাদের কোনো জ্ঞান নেই; নিশ্চয়ই আপনি সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।
[সূরা আল-বাকারা: ৩২]
৪)
رَبِّ اشْرَحْ لِي صَدْرِي، وَيَسِّرْ لِي أَمْرِي، وَاحْلُلْ عُقْدَةً مِنْ لِسَانِي، يَفْقَهُوا قَوْلِي
হে আমার প্রভু! আমার বক্ষ প্রশস্ত করে দিন, আমার কাজ সহজ করে দিন, আমার জিহ্বার জড়তা দূর করে দিন, যেন তারা আমার কথা বুঝতে পারে। [সূরা ত্বাহা: ২৫-২৮]
– নবি মূসা عليه السلام এর দোআ
৫)
رَبِّ زِدْنِي عِلْمًا
হে আমার প্রভু! আমাকে জ্ঞান বৃদ্ধি করে দিন। [সূরা ত্বাহা: ১১৪]
– এটাই একমাত্র বিষয়, যেটার জন্য আল্লাহ আমাদের প্রিয় নবি ﷺ-কে দোআ করতে নির্দেশ দিয়েছেন।
শাইখুল ইসলাম ইবন তাইমিয়্যাহ رحمه الله এর কথাগুলো স্মরণ করুন:
“জ্ঞান অন্বেষণ করো, কারণ আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে জ্ঞান অনুসন্ধান করা—এটাই ইবাদত।
জ্ঞান অর্জনের মাধ্যমে মানুষ আল্লাহকে বেশি ভয় করতে শেখে;
জ্ঞান অন্বেষণ করা জিহাদ,
অজ্ঞ লোকদের তা শেখানো সদকা,
এবং পুনরাবৃত্তি করে শেখা—তাসবিহের মতো।
আল্লাহকে চিনতে ও তাঁর ইবাদত করতে হলে জ্ঞানের মাধ্যমেই তা সম্ভব।”
Mohammad Zahid
Mohammad Zahid ibn Tariq al-Nagrami al-Najdi is a prolific author, editor, and translator with multiple international works. With a strong foundation in both Islāmic scholarship and modern disciplines, he holds certifications in Shariah Auditing and Advisory (CSAA), Project Management (PMP), Blockchain (KBA), Zakat Management (IIIBF), and Waqf Management (IIIBF). He also earned a Master’s Degree in Information Technology (MIT), specializing in IT Project Management (IIUM). Currently serving as a Product Manager at a leading Islāmic FinTech company in Malaysia, Mohammad Zahid seamlessly integrates his expertise in technology with his deep commitment to Islāmic finance and ethics. Beyond his professional pursuits, he has been actively engaged in daʿwah for over a decade, studying under esteemed scholars such as Shaykh Dr. Ibrahim Nuhu, and others across Malaysia, Saudi Arabia, the UAE, and India. His passion for Islāmic education and literary excellence led him to establish InkOfFaith.com, an influential online platform dedicated to reviving the spirit of reading and fostering Islāmic learning among the youth. Mohammad Zahid is also a fellow editor and regular contributor to Dakwah Corner Publications, playing a vital role in producing high-quality Islāmic literature. Driven by a vision to bridge faith, knowledge, and innovation, he contributes meaningfully to the global discourse on Islām, education, and technology.








No Comment! Be the first one.