كتاب الطهارة – পবিত্রতার অধ্যায়
اَلْمِيَاهُ ثَلَاثَةٌ
اَلْأَوَّلُ: طَهُورٌ, وَهُوَ اَلْبَاقِي عَلَى خِلْقَتِه ِ وَمِنْهُ مَكْرُوهٌ كَمُتَغَيِّرٍ بِغَيْرِ مُمَازِج ٍ وَمُحَرَّمٌ لَا يَرْفَعُ اَلْحَدَثَ, وَيُزِيلُ اَلْخَبَثَ, وَهُوَ اَلْمَغْصُوب ُ وَغَيْرُ بِئْرِ النَّاقَةِ مِنْ ثَمُود
اَلثَّانِي: طَاهِرٌ لَا يَرْفَعُ اَلْحَدَثَ, وَلَا يُزِيلُ اَلْخَبَثَ, وَهُوَ اَلْمُتَغَيِّرُ بِمُمَازِجٍ طَاهِر ٍ وَمِنْهُ يَسِيرٌ مُسْتَعْمَلٌ فِي رَفْعِ حَدَث
اَلثَّالِثُ: نَجِسٌ يَحْرُمُ اِسْتِعْمَالُهُ مُطْلَقًا, وَهُوَ مَا تَغَيَّرَ بِنَجَاسَةٍ فِي غَيْرِ مَحِلِّ تَطْهِير ٍ أَوْ لَاقَاهَا فِي غَيْرِهِ وَهُوَ يَسِيرٌ, وَالْجَارِي كَالرَّاكِد ِ وَالْكَثِيرُ قُلَّتَانِ, وَهُمَا مِائَةُ رِطْلٍ وَسَبْعَةُ أَرْطَالٍ وَسُبْعُ رِطْلٍ بِالدِّمَشْقِيِّ, وَالْيَسِيرُ مَا دُونَهُمَ ا
পানির তিনটি প্রকারভেদ:
১. طَهُورٌ (ত্বহুর)
এটি এমন পানি যা নিজে পবিত্র এবং পবিত্রকরণে সক্ষম। এটি সেই পানি যা তার প্রাকৃতিক অবস্থায় রয়েছে—যেমন: সাগরের পানি, বৃষ্টির পানি, হ্রদ বা নদীর পানি ইত্যাদি। এটি মিষ্টি হতে পারে অথবা লবণাক্ত, এমনকি এর রং বা স্বাদ ভিন্নও হতে পারে—তবুও এটি পবিত্র এবং ব্যবহারযোগ্য।
আবু হুরাইরা رضي الله عنه বলেন, এক ব্যক্তি নবী ﷺ–কে জিজ্ঞেস করল:
“হে আল্লাহর রাসূল! আমরা সাগরপথে সফর করি, আমাদের সঙ্গে সামান্য পানি থাকে। যদি আমরা তা ওজুর জন্য ব্যবহার করি, তবে আমাদের পিপাসার জন্য কিছু থাকবে না। তাহলে কি আমরা সাগরের পানি দিয়ে ওজু করতে পারি?”
নবী ﷺ বললেন: “هُوَ الطَّهُورُ مَاؤُهُ الْحِلُّ مَيْتَتُهُ”
“এর পানি পবিত্র এবং এর মৃত প্রাণী (যেমন মৃত মাছ) হালাল।” [সুনান আন-নাসাঈ]
এই হাদীস প্রমাণ করে যে সাহাবাগণ পানির বিভিন্ন ধরণের ব্যাপারে সচেতন ছিলেন।
এই طَهُور ক্যাটাগরির অন্তর্ভুক্ত আরেকটি ধরণ হলো এমন পানি যা নিজে পবিত্র এবং পবিত্রকরণে সক্ষম, কিন্তু মাকরূহ (অপছন্দনীয়)। যেমন—যে পানির রং বা গন্ধ এমন কিছু দিয়ে পরিবর্তিত হয়েছে যা পানির সাথে মিশে যায় না (যেমন—পাতা, কাঁচ, মরিচ ইত্যাদি)। এটি দ্বারা পবিত্রতা অর্জন সম্ভব হলেও বিকল্প থাকলে তা ব্যবহার করা অনুচিত।
আরেক ধরনের طَهُور পানি আছে যা হারাম। এই পানি Ritual impurity (হাদস) দূর করতে সক্ষম নয়, যদিও তা দ্বারা শারীরিক অপবিত্রতা (খবস) দূর করা যায়। যেমন—চুরি করা পানি, অথবা এমন কূপের পানি যেখান থেকে আল্লাহর শাস্তি নাজিল হয়েছিল (যেমন—ثمود জাতির উটের কূপ ব্যতীত বাকি কূপসমূহ)।
২. طَاهِرٌ (ত্বহির)
এটি নিজে পবিত্র, কিন্তু হাদস বা খবস দূর করতে সক্ষম নয়। এই পানির বৈশিষ্ট্য হল—এতে পবিত্র কোনো দ্রব্য যেমন চা-পাতা, দুধ, মধু ইত্যাদি মিশে গিয়ে পানির স্বাভাবিক অবস্থা পরিবর্তিত হয়েছে।
শরিয়ত আমাদেরকে পবিত্র এবং পবিত্রকরণে সক্ষম পানি ব্যবহার করতে নির্দেশ দিয়েছে। এক্ষেত্রে পানি হয়তো ছিল طَهُور কিন্তু মিশ্রণের কারণে হয়ে গেছে طَاهِر।
উদাহরণ: ওজু করার পর ব্যবহৃত পানি যা শরীর থেকে পড়ে—এই পানি আর ওজুর জন্য ব্যবহারযোগ্য নয়। কারণ এখন এটি طَاهِر, طَهُور নয়।
হাম্বলি মাযহাব-এর মূল মত অনুযায়ী, طَاهِر পানি দিয়ে খবস (ফিল্থ) দূর করা যাবে না। তবে আরেকটি দৃঢ় মত হলো—যেটা আল্লামা আবুল ওফা ইবন আকীল ও ইমাম ইবন তাইমিয়্যাহ رحمهما الله সমর্থন করেছেন—طَاهِر পানি দিয়ে খবস দূর করা যাবে, কিন্তু ওজু বা গোসল করা যাবে না।
৩. نَجِسٌ (নাজিস)
এটি অপবিত্র পানি—যা ব্যবহার করা সম্পূর্ণরূপে হারাম। এই পানি কোনো ইবাদাতে ব্যবহার করা যায় না। যেমন—মূত্র মিশ্রিত পানি। পানির স্বাভাবিক রং/ঘ্রাণ/স্বাদ পরিবর্তিত হয়ে গেছে এমন পানি।
যদি অল্প পরিমাণ পানিতে কোনো নাপাক বস্তু পড়ে, তবে তা নাজিস হয়ে যায়। তবে যদি পানি قُلَّتَانِ পরিমাণ বা তার বেশি হয়, তবে হালকা নাপাকিতে তা প্রভাবিত হয় না (যেমন—মূত্রপাত, বমি ইত্যাদি)। বয়ে চলা পানি (flowing water)–এর হুকুমও একই।
قُلَّتَانِ = আনুমানিক ১৯১ লিটার (বা অনেক আলেমের মতে প্রায় ১৬২ লিটার)
طَهَارَةُ الآنيَةِ (পাত্র ও পশুর পবিত্রতা)
كُلُّ إِنَاءٍ طَاهِرٍ يُبَاحُ اِتِّخَاذُهُ وَاسْتِعْمَالُهُ إِلَّا أَنْ يَكُونَ ذَهَبًا, أَوْ فِضَّةً أَوْ مُضَبَّبًا بِأَحَدِهِمَا, لَكِنْ تُبَاحُ ضَبَّةٌ يَسِيرَةٌ مِنْ فِضَّةٍ لِحَاجَة ٍ وَمَا لَمْ تُعْلَمْ نَجَاسَتُهُ مِنْ آنِيَةِ كُفَّارٍ, وَثِيَابُهُمْ طَاهِرَةٌ, وَلَا يَطْهُرُ جِلْدُ مَيِّتَةٍ بِدِبَاغ ٍ وَكُلُّ أَجْزَائِهَا نَجِسَةٌ إِلَّا شَعْرًا وَنَحْوَه ُ وَالْمُنْفَصِلُ مِنْ حَيٍّ كَمَيْتَتِهِ
প্রতিটি পাত্রই বৈধ, যতক্ষণ না তা সোনা বা রূপা দিয়ে তৈরি। সোনা ও রূপার পাত্র ব্যবহার করা হারাম। তবে অল্প পরিমাণ রূপা ব্যবহার করা বৈধ, যেমন অনেক সময় পাত্র মেরামতের জন্য মানুষ রূপা ব্যবহার করে থাকে।
কেউ প্রশ্ন করতে পারে: এমন অনেক মূল্যবান জিনিস আছে যা সোনা-রূপার চেয়েও দামী, তবুও তা ব্যবহার করা বৈধ—তবে সোনা-রূপা নয় কেন? এর উত্তর হলো, রাসূলুল্লাহ ﷺ কেবল এই দুটি নির্দিষ্ট করে নিষেধ করেছেন। এবং সোনা-রূপা সহজে চেনাও যায়। এই দুটি দুনিয়াতে অবিশ্বাসীদের জন্য নির্ধারিত, আর পরকালে তা থাকবে বিশ্বাসীদের জন্য।
অমুসলিমদের পাত্র ও কাপড় পবিত্র বলেই ধরা হবে, যতক্ষণ না নিশ্চিতভাবে কোনো অপবিত্রতা দেখা যায়। সন্দেহপ্রবণ হওয়া বা অহেতুক খোঁজাখুঁজি করা উচিত নয়। শরীয়তের দৃষ্টিতে এই ধরণের অতিরঞ্জন অপছন্দনীয়। প্রমাণিত হাদীসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ ﷺ কাফির ও ইয়াহুদিদের পাত্র ব্যবহার করেছেন।
সুতরাং আমরা সবকিছুকেই পবিত্র মনে করব যতক্ষণ না আমাদের কাছে তা অপবিত্র প্রমাণিত হয়।
যে প্রাণী ইসলামি নিয়মে জবাই না করে মারা গেছে, তার চামড়া ট্যানিং করলেও তা পবিত্র হয় না। তার গোশতসহ সবকিছুই অপবিত্র ধরা হবে, তবে পশম বা চুলের মতো উপাদান ব্যতিক্রম। চুল শরীর থেকে আলাদা ধরা হয়।
কোনো প্রাণী ইসলামি নিয়মে জবাই করা হলে তার চামড়া, গোশত ইত্যাদি হালাল ও পবিত্র হয়। তবে এ বিধান পানির প্রাণী বা যেসব প্রাণীর দেহে প্রবাহিত রক্ত নেই, তাদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।
জীবিত প্রাণী থেকে কোনো অঙ্গ বিচ্ছিন্ন হলে, তার হুকুম হবে সেই প্রজাতির মৃত প্রাণীর মতো—তা পবিত্র না অপবিত্র, সেটি নির্ভর করে। উদাহরণস্বরূপ, মাছ মরে গেলেও তা পবিত্র, তাই জীবিত মাছ থেকে কোনো অংশ আলাদা হলেও তা পবিত্র। কিন্তু একটি গরুর পা কেটে আলাদা করলে তা অপবিত্র, কারণ মৃত গরু জবাই ছাড়া অপবিত্র।
الاِسْتِنْجَاءُ وَالِاسْتِجْمَارُ (পায়খানার আচার-আচরণ ও পরিচ্ছন্নতা বিধান)
اَلِاسْتِنْجَاءُ وَاجِبٌ مِنْ كُلِّ خَارِجٍ إِلَّا اَلرِّيحَ وَالطَّاهِرَ وَغَيْرَ اَلْمُلَوَّث ِ وَسُنَّ عِنْدَ دُخُولِ خَلَاءٍ قَوْلُ : , بِسْمِ اَللَّهِ اَللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ اَلْخُبُثِ وَالْخَبَائِثِ وَبَعْدَ خُرُوج ٍ مِنْهُ: غُفْرَانَكَ – اَلْحَمْدُ لِلَّهِ اَلَّذِي أَذْهَبَ عَنِّي اَلْأَذَى وَعَافَانِي
وَتَغْطِيَةُ رَأْسٍ وَانْتِعَالٌ, وَتَقْدِيمُ رِجْلِهِ اَلْيُسْرَى دُخُولًا, وَاعْتِمَادُهُ عَلَيْهَا جُلُوسًا, وَالْيُمْنَى خُرُوجًا, عَكْسُ مَسْجِدٍ وَنَعْلٍ وَنَحْوِهِمَا, وَبُعْد ٌ فِي فَضَاءٍ, وَطَلَبُ مَكَانٍ رَخْو ٍ لِبَوْلٍ, وَمَسْحُ اَلذِّكْرِ بِالْيَدِ اَلْيُسْرَى إِذَا اِنْقَطَعَ اَلْبَوْلُ مِنْ أَصْلِهِ إِلَى رَأْسِهِ ثَلَاثًا, وَنَتْرُهُ ثَلَاثًا
وَكُرِهَ دُخُولُ خَلَاءٍ بِمَا فِيهِ ذَكَرُ اَللَّهِ -تَعَالَى – وَكَلَامٌ فِيهِ بِلَا حَاجَةٍ, وَرَفْعُ ثَوْبٍ قَبْلَ دُنُوٍّ مِنَ اَلْأَرْضِ, وَبَوْلٌ فِي شَقّ ٍ وَنَحْوِهِ, وَمَسُّ فَرْجٍ بِيَمِينٍ بِلَا حَاجَةٍ, وَاسْتِقْبَالُ اَلنَّيِّرَيْن ِ وَحَرُمَ اِسْتِقْبَالُ قِبْلَةٍ وَاسْتِدْبَارُهَا فِي غَيْرِ بُنْيَانٍ, وَلُبْثٌ فَوْقَ اَلْحَاجَةِ, وَبَوْلٌ فِي طَرِيقٍ مَسْلُوكٍ وَنَحْوِه ِ وَتَحْتَ شَجَرَةٍ مُثْمِرَةٍ ثَمَرًا مَقْصُودًا
وَسُنَّ اِسْتِجْمَارٌ ثُمَّ اِسْتِنْجَاءٌ بِمَاءٍ, وَيَجُوزُ اَلِاقْتِصَارُ عَلَى أَحَدِهِمَا, لَكِنَّ اَلْمَاءَ أَفْضَلُ حِينَئِذٍ, وَلَا يَصِحُّ اِسْتِجْمَارٌ إِلَّا بِطَاهِرٍ مُبَاحٍ يَابِسٍ مُنَقّ ٍ وَحَرُمَ بِرَوْث ٍ وَعَظْمٍ وَطَعَامٍ وَذِي حُرْمَة ٍ وَمُتَّصِلٍ بِحَيَوَانٍ, وَشُرِطَ لَهُ عَدَمُ تَعَدِّي خَارِجٍ مَوْضِعَ اَلْعَادَة ِ وَثَلَاثُ مَسَحَاتٍ مُنَقِّيَةٍ فَأَكْثَر ُ
প্রত্যেক নিঃসৃত বস্তুর পর ইস্তিঞ্জা করা আবশ্যক, তবে তিনটি জিনিস ছাড়া—
১. বায়ু (এতে কেবল ওজু করতে হবে),
২. যে বস্তু পবিত্র,
৩. যা অপবিত্রতাহীন বা দাগহীন (যেমন: শুকনা পাথর বা কিডনি স্টোন)।
بِسْمِ اللَّهِ، اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْخُبُثِ وَالْخَبَائِثِ
পায়খানায় প্রবেশের আগে সুন্নত হল এই দোয়া পড়া—
“বিসমিল্লাহ। আল্লাহুম্মা ইন্নি আউযু বিকা মিনাল খুবসি ওয়াল খবায়িছ”।
غُفْرَانَكَ. الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي أَذْهَبَ عَنِّي الْأَذَى وَعَافَانِي
প্রস্রাব-পায়খানা থেকে বের হয়ে পড়বে—
“গুফরানাকা। আলহামদু লিল্লাহিল্লাযী অযহাবা ‘আন্নিয়াল আযা ওয়া ‘আফানী”।
টয়লেটের মুস্তাহাব আদবসমূহ:
১. আল্লাহর যিকর করে টয়লেটে প্রবেশ ও বের হওয়া।
২. প্রবেশের সময় মাথা ঢেকে রাখা এবং জুতা পরা, যাতে নাপাকির সংস্পর্শে আসা থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।
৩. বাম পা দিয়ে প্রবেশ করা।
৪. বাম পায়ের উপর কিছুটা ঝুঁকে বসা, কারণ এটাকে পায়খানা সহজে বের হওয়ার জন্য সহায়ক বলা হয়।
৫. ডান পা দিয়ে বের হওয়া, যা মসজিদের বিপরীত নিয়ম (মসজিদে ডান পা দিয়ে প্রবেশ)।
৬. ফাঁকা স্থানে থাকলে দূরে গিয়ে কাজ সম্পন্ন করা।
৭. প্রস্রাবের জন্য নরম জমি খোঁজা, যাতে প্রস্রাব ছিটকে শরীরে না আসে।
৮. প্রস্রাব সম্পূর্ণ হওয়ার পর বাম হাতে লিঙ্গ মুছা তিনবার, গোড়া থেকে মাথা পর্যন্ত, যেন সব ময়লা বের হয়ে যায়।
টয়লেটের নিষিদ্ধ/অপছন্দনীয় বিষয়সমূহ:
১. আল্লাহর নাম রয়েছে এমন কিছু নিয়ে টয়লেটে প্রবেশ করা অপছন্দনীয়। যেমন: ইসলামি বই, দোয়ার বই, ইত্যাদি।
কিন্তু مُصحَف (কুরআন শরীফ) নিয়ে প্রবেশ করা হারাম।
হাদীসের কিতাবও যদি তাতে আল্লাহর নাম থাকে তাহলে হারাম হবে।
“بِلا حاجة” (প্রয়োজন না থাকলে):
যদি প্রবেশ করার সময় আপনার কাছে টাকা থাকে যাতে আল্লাহর নাম লেখা থাকতে পারে, তবে তা নিয়ে প্রবেশ করাও বৈধ, কারণ বাইরে রেখে দেওয়া নিরাপদ নয়।
২. প্রয়োজন ব্যতীত টয়লেটে কথা বলা অপছন্দনীয়, এটি খুবই খারাপ আদব।
৩. টয়লেটে বসার আগেই পোশাক উঠানো অপছন্দনীয়, কারণ এতে অগোছালোভাবে ‘আওরাহ’ (গোপন অঙ্গ) প্রকাশ পায়।
একাকী ঘরেও শুধু আন্ডারওয়্যার পরে ঘুরাফেরা করাও খারাপ আদব, যদিও আপনি একা।
আওরাহ প্রকাশ করার একমাত্র বৈধতা হল— স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে।
৪. মাটির গর্ত বা ফাটলে প্রস্রাব করা অপছন্দনীয়, কারণ এতে ভেতরে থাকা পোকামাকড় বা প্রাণী ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
৫. ডান হাতে যৌনাঙ্গ স্পর্শ করা অপছন্দনীয়, যদি না খুব প্রয়োজন হয়।
৬. খোলা জায়গায় কিবলামুখী হয়ে পায়খানা করা হারাম।
৭. কোনো প্রয়োজন ছাড়া টয়লেটে দীর্ঘ সময় থাকা হারাম (যেমন: টেক্সট করা, বই পড়া ইত্যাদি)।
৮. চলাচলের পথ, যেখানে মানুষ সাধারণত হেঁটে যায়, সেখানে প্রস্রাব করা হারাম।
৯. ফলদ বৃক্ষের নিচে প্রস্রাব করা হারাম, হোক সে ফল খাওয়ার উপযোগী বা অপ্রয়োজ্য— উভয় ক্ষেত্রেই।
পরিচ্ছন্নতার সুপারিশকৃত পদ্ধতি:
- প্রথমে ইসতিজমার (পাথর বা টিস্যু দিয়ে মুছা), তারপর ইস্তিঞ্জা (পানি দিয়ে ধোয়া) করা উত্তম।
- টিস্যু পাথরের হুকুমে, অর্থাৎ প্রথমে তিনবার মুছে, তারপর পানি ব্যবহার করা সর্বোত্তম।
- তবে কেবল একটিই করলেও বৈধ (শুধু পানি বা শুধু টিস্যু)।
- শুধু পানি না থাকলেই টিস্যু ব্যবহার করা যাবে— এটা ভুল ধারণা।
ইস্তিঞ্জার স্তরসমূহ:
১. সর্বোত্তম: ইসতিজমার (মুছা) + ইস্তিঞ্জা (পানি)।
২. শ্রেয়: শুধু পানি ব্যবহার করা।
৩. যথেষ্ট: শুধু টিস্যু বা পাথর ব্যবহার করা।
ইসতিজমার বৈধতার শর্তসমূহ:
- পবিত্র, বৈধ, শুকনো এবং পরিষ্কার করার উপযোগী বস্তু হতে হবে।
- শুধু ভেজা টিস্যু যথেষ্ট নয়, এক্ষেত্রে ইস্তিঞ্জাও করতে হবে।
- নিষিদ্ধ বস্তুসমূহ: গোবর, হাড়, খাবার, পবিত্র বস্তু, জীবন্ত প্রাণীর সঙ্গে যুক্ত কোনো কিছু।
শর্ত:
- নাপাকি তার স্বাভাবিক অবস্থার বাইরে ছড়াবে না (অর্থাৎ গোপনাঙ্গের বাইরে না যায়)।
- কমপক্ষে তিনবার মুছা হবে, এবং যদি মনে হয় আর মুছলে কিছু আসবে না, তাহলে যথেষ্ট।
- টিস্যু বা পাথর কেবল তখনই যথেষ্ট হবে যদি নাপাকি শুধু নিঃসরণপথেই সীমাবদ্ধ থাকে।
- যদি তা পশ্চাৎদেশ বা আশপাশে ছড়িয়ে পড়ে, তাহলে ইস্তিঞ্জা (পানি) করতে হবে— শুধু ইসতিজমা যথেষ্ট নয়।
اَلسِّوَاكُ وَتَوَابِعُهُ (মিসওয়াক ও শরীরের অন্যান্য সুন্নত)
يَسُنُّ اَلسِّوَاكُ بِالْعُودِ كُلَّ وَقْتٍ, إِلَّا لِصَائِمٍ بَعْدَ اَلزَّوَالِ فَيُكْرَه ُ. وَيَتَأَكَّدُ عِنْدَ صَلَاةٍ وَنَحْوِهَا وَتَغَيُّر ِفَمٍ وَنَحْوِهِ
وَسُنَّ بُدَاءَةٌ بِالْأَيْمَنِ فِيهِ, وَفِي طُهْرٍ وَشَأْنِهِ كُلِّهِ, وَادِّهَانٌ غِبًّا, وَاكْتِحَالٌ فِي كُلِّ عَيْنٍ ثَلَاثًا, وَنَظَرٌ فِي مِرْآةٍ, وَتَطَيُّبٌ, وَاِسْتِحْدَاد ٌ وَحَفُّ شَارِب ٍ وَتَقْلِيمُ ظُفُرٍ, وَنَتْفُ إِبِط ٍ وَكُرِهَ قَزَع ٌ وَنَتْفُ شَيْبٍ, وَثَقْبُ أُذُنِ صَبِيٍّ, وَيَجِبُ خِتَانُ ذَكَرٍ وَأُنْثَى : بُعَيْدَ بُلُوغٍ مَعَ أَمِنِ اَلضَّرَرِ, وَيُسَنُّ قَبْلَهُ, وَيُكْرَهُ سَابِعَ وِلَادَتِهِ وَمِنْهَا إِلَيْهِ
মিসওয়াক ব্যবহার সব সময় সুন্নত, তবে যে ব্যক্তি রোজা রাখছেন, তার জন্য জোহর (দুপুর) নামাজের পর মিসওয়াক করা অপছন্দনীয়।
মাযহাব অনুযায়ী রোজাদারদের জন্য জোহরের পরে মিসওয়াক নিষেধ। কিন্তু কিছু হাম্বলি মুফতিদের মত যেমন ইমাম তাকিউদ্দীন ইবনে তাইমিয়াহ رحمه الله বলেছেন, রোজার সময় যেকোন সময় মিসওয়াক করা যায় এবং তা সুন্নত।
শাইখ বাদরান رحمه الله তাঁর হাশিয়্যাহ ‘আখসার আল-মুখতাসারাত‘ এ বলেছেন, “টুথব্রাশ ব্যবহার মিসওয়াক ব্যবহারের মতোই। পেস্টসহ টুথব্রাশ ব্যবহার করা বৈধ।”
মিসওয়াকসহ আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত:
১. মিসওয়াক শুরু করতে হবে মুখের ডান দিক থেকে।
২. মিসওয়াক করার সময় বাম হাত ব্যবহার করা উত্তম, কারণ মুখ থেকে ময়লা সরানো হচ্ছে। ভারসাম্যের সমস্যা হলে ডান হাত ব্যবহার করলেও চলে।
৩. প্রতি দুইদিন অন্তর শরীরের ওপর তেল লাগানো সুন্নত, প্রতিদিন নয়।
৪. প্রতিটি চোখে রাতে তিনবার কাহল (শুরমা) লাগানো সুন্নত।
৫. আয়নায় দেখা সুন্নত, যেন দেহের যেকোন ত্রুটি ঠিক করা যায়।
৬. পারফিউম ব্যবহার করা সুন্নত।
৭. জননাঙ্গের চুল পরিষ্কার করা সুন্নত। হাম্বলিরা বলেন, গুহ্যদারের আশেপাশের চুল পরিষ্কার করাও সুন্নত।
৮. মোচ ছেঁটে খুব ছোট করা সুন্নত, পুরোপুরি ছাটা অপছন্দনীয়। মোচ দৃশ্যমান থাকা উচিত, তবে ছোট। প্রতি শুক্রবার মোচ পরিষ্কার করা মুস্তাহাব।
৯. বগলের চুল তুলে ফেলা এবং নখ কাটা সুন্নত। ৪০ দিন ছেড়ে রাখলে মাকরূহ।
অপছন্দনীয় কাজসমূহ:
১. ক্বযা’ (Qaza’) — মাথার এক অংশ শেভ করে অন্য অংশ রাখা। এটি মাকরূহ তবে হারাম নয়। মাথায় গ্রেড বা ফেড স্টাইল (ধাপে ধাপে কমে যাওয়া) হলে এটি ক্বযা’ বলে গণ্য হবে না।
২. সাদা চুল তুলে ফেলা অপছন্দনীয়।
৩. কিশোর ছেলেদের কান ছিদ্র করানো অপছন্দনীয়।
৪. পুরুষ ও নারীদের জন্য খতনা (সুন্নত) ফরজ। পুরুষের ক্ষেত্রে উপরের চামড়া অপসারণ, নারীর ক্ষেত্রে যোনিপথের উপরের অংশের ছোট চামড়া অপসারণ (ক্লিটোরাল হুড)।
মাযহাবের আনুষ্ঠানিক মত অনুযায়ী খতনা পুরুষ ও নারীদের জন্য ফরজ। অন্য একটি দৃঢ় মত হলো: পুরুষদের জন্য ফরজ, নারীদের জন্য সুন্নত। অধিকাংশ আলেম এই মত অনুসরণ করেন, যা আজকাল ব্যাপক প্রচলিত। এই মতটি মাযহাবের শায়খ ইবনে কুদামাহ رحمه الله এর মত। অবশ্যই ক্ষতি না হওয়ার শর্তে খতনা করা হবে। জন্মের ৭ দিনের মধ্যে খতনা করা অপছন্দনীয় কারণ শিশু তখন দুর্বল থাকে।
খতনা করার সময়:
- বাল্যকাল থেকে বালেগ হওয়ার পূর্বে করানো সুন্নত,
- বালেগ হলে ফরজ হয়ে যায়।
- এটি খুব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যে, কোনো ব্যক্তির উপর কোনো শারীরিক ফরজ তখনই আরোপিত হয় যখন সে বালেগ বয়সে পৌঁছায়।
মাযহাব অনুযায়ী মানুষের বয়সের ৩টি পর্যায় থাকে:
১. ০ থেকে ৭ বছর (হিজরী কালেন্ডার অনুযায়ী) — কোনো হিসাব-নিকাশ হয় না। নেক বা গুনাহ ধরা হয় না, কারণ তারা সঠিকভাবে নিয়ত (ইচ্ছা) করতে পারে না।
২. ৭ বছর থেকে বালেগ হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত — ভালো কাজের জন্য সওয়াব পাওয়া যায়, কারণ এখন তারা সঠিকভাবে নিয়ত করতে পারে। কিন্তু এ সময়ও গুনাহের হিসাব লেখা হয় না।
৩. বালেগ বয়স থেকে পরবর্তি — পূর্ণ হিসাব-নিকাশ গ্রহণ করা হয়। শারীয়াহর সব আইন তাঁর উপর প্রযোজ্য হবে।
শিক্ষার গুরুত্ব:
আমাদের সন্তানদের শেখাতে হবে যে, তারা যখন বালেগ হয় তখনই তারা পুরুষ বা নারী হয়ে যায়, ১৮ বছর বয়সে নয়। এমন মানসিকতা তাদের দ্রুত পরিপক্ক হতে সাহায্য করবে এবং আজকের অনেক ‘দামড়া শিশু’ থেকে রক্ষা করবে।
فُرُوضُ اَلْوُضُوءِ وَسُنَنُهُ (ওজুর ফরজ ও সুন্নত)
فُرُوضُ اَلْوُضُوءِ سِتَّةٌ
غَسْلُ اَلْوَجْهِ مَعَ مَضْمَضَةٍ وَاسْتِنْشَاقٍ، وَغَسْلُ اَلْيَدَيْنِ, وَالرِّجْلَيْنِ وَمَسْحُ جَمِيعِ اَلرَّأْسِ مَعَ اَلْأُذُنَيْنِ, وَتَرْتِيبٌ وَمُوَالَاةٌ
وَالنِّيَّةُ شَرْطٌ لِكُلِّ طَهَارَة ٍ شَرْعِيَّةٍ غَيْرَ إِزَالَةِ خَبَثٍ، وَغُسْلِ كِتَابِيَّة ٍ لِحِلِّ وَطْء ٍ وَمُسْلِمَةٍ مُمْتَنِعَةٍ
وَالتَّسْمِيَةُ وَاجِبَةٌ فِي وُضُوءٍ وَغُسْلٍ وَتَيَمُّمٍ وَغَسْلِ يَدَيْ قَائِمٍ مِنْ نَوْمِ لَيْلٍ نَاقِضٍ لِوُضُوء ٍ وَتَسْقُطُ سَهْوًا وَجَهْلاً
وَمِنْ سُنَنِهِ اِسْتِقْبَالُ قِبْلَةٍ, وَسِوَاكٌ, وَبُدَاءَةٌ بِغَسْلِ يَدِي غَيْرِ قَائِمٍ مِنْ نَوْمِ لَيْلٍ, وَيَجِبُ لَهُ ثَلَاثًا تَعَبُّدًا, وَبِمَضْمَضَةٍ فَاسْتِنْشَاقٍ وَمُبَالَغَةٌ فِيهِمَا لِغَيْرِ صَائِمٍ, وَتَخْلِيلُ شَعْرٍ كَثِيف ٍ وَالْأَصَابِعِ [وغسْلَةٌ ] ثَانِيَةٌ وَثَالِثَةٌ, وَكُرِهَ أَكْثَرُ
وَسُنَّ بَعْدَ فَرَاغِهِ رَفْعُ بَصَرِهِ إِلَى اَلسَّمَاءِ وَقَوْلُ مَا وَرَد َ وَاَللَّهُ أَعْلَمُ
ফরজ, রুকন, ওয়াজিব ও শর্তের মধ্যে পার্থক্য:
- শর্ত (শুরূত): ইবাদত শুরু করার আগে করা জরুরি, না করলে ইবাদত বাতিল।
- ফরজ ও রুকন: দুটির একই অর্থ, ইবাদতের মধ্যে করণীয় মূল কাজ। এগুলো না করলে ইবাদত বাতিল।
- ওয়াজিব: ফরজের নিচের স্তর, এগুলোও অবশ্যই করা উচিত কিন্তু ভুলে গেলে ইবাদত বাতিল হয় না।
নিয়ত (নিয়াহ)
নিয়ত হল প্রত্যেক شرعي (শরীয়) পবিত্রতার (যেমন ওজু, গোসল, তায়াম্মুম) শর্ত, তবে এটি সরাসরি ফরজ তালিকায় নেই কারণ এটি ওয়াজিবের অন্তর্ভুক্ত। নিয়ত ছাড়া ওজু/গোসল/তায়াম্মুম শুদ্ধ হয় না। অকৃপণীয়দের নিয়ত গ্রহণযোগ্য নয়।
ওজুর ফরজসমূহ বিস্তারিত:
ওজু করার বিস্তারিত নিয়ম ও শর্তসমূহ
১. মুখ ধোয়া: মুখ ধোয়ার মধ্যে মুখে পানি ঘুরানো (المضمضة) এবং নাকে পানি দেওয়া (الاستنشاق) অন্তর্ভুক্ত। প্রথমে মুখে পানি ঢুকিয়ে ঘুরানো এবং নাকে পানি দেওয়া সুন্নত, এরপর মুখ ধোয়া। তবে যদি এই ক্রম পাল্টেও নেওয়া হয়, তাহলে সমস্যা নেই, কারণ এগুলো মুখের অংশ হিসেবে বিবেচিত। এটি ইমাম আহমদ رحمه الله এর مفردات (মুফরাদাত) থেকে নেয়া হয়েছে।
এই পর্যায়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিভাষা মনে রাখা প্রয়োজন:
- المضمضة: মুখে পানি দিয়ে ভালোভাবে ঘুরিয়ে দাঁত ও জিভ ভিজিয়ে তা ফেলে দেওয়া।
- الاستنشاق: নাকের ভিতরে পানি টেনে নেওয়া।
- الاستنثار: নাক থেকে পানি বের করে পরিষ্কার করা।
২. হাত ধোয়া: যাতে কনুইসহ সম্পূর্ণ বাহু অন্তর্ভুক্ত থাকে। ওজুর শুরুতে হাত ধোয়া সুন্নত, কিন্তু এখানে (মুখ ধোয়ার পর) আঙ্গুলের ডগা থেকে কনুইসহ ধোয়া ফরজ।
৩. মাথা মাসেহ করা: পুরো মাথায় মাসেহ করা, যার মধ্যে কানও অন্তর্ভুক্ত। চুল যত লম্বাই হোক না কেন, সামনের কপালের চুলগোড়ার দিক থেকে শুরু করে পেছন পর্যন্ত মাসেহ করতে হবে। কেউ চাইলে প্রথমে কান মাসেহ করে, তারপর মাথা মাসেহ করতে পারে, কারণ কানকেও মাথার অংশ হিসেবে ধরা হয়। তবে উত্তম হলো—মাথার পরে কান মাসেহ করা।
৪. গোড়ালিসহ পা ধোয়া।
৫. শরীরের অঙ্গগুলো নির্ধারিত ক্রমানুসারে ধোয়া (ترتيب)।
৬. প্রতিটি অঙ্গ ধোয়ার মধ্যে দীর্ঘ বিরতি না দেওয়া। দীর্ঘ বিরতির মানদণ্ড হলো: পরবর্তী অঙ্গ ধোয়ার সময় যদি আগের অঙ্গ শুকিয়ে যায়, তাহলে ধারাবাহিকতা ভঙ্গ হয়েছে ধরা হবে। তবে ঠাণ্ডার কারণে অঙ্গ শুকিয়ে গেলেও, যদি সময় খুব বেশি না হয়, তাহলে ধারাবাহিকতা ভঙ্গ হয় না।
ওজুর শর্তসমূহ (৮টি)
১. যে কাজ ওজুকে ফরজ করে, তা সম্পন্ন হওয়া।
২. নিয়ত।
৩. মুসলিম হওয়া।
৪. সুস্থ মস্তিষ্ক (আক্ল)।
৫. বিবেচনাশক্তি থাকা (তামইয)।
৬. পবিত্র ও বৈধ পানি।
৭. শরীরে পানি পৌঁছাতে বাধা সৃষ্টি করে এমন কিছু অপসারণ করা।
৮. অপবিত্রতা থেকে পরিশুদ্ধ হওয়া।
নিয়ত সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ বিধান:
যে কোনো শরঈ ইবাদতের জন্য নিয়ত একটি শর্ত, শুধুমাত্র নাপাক দূর করার কাজ ছাড়া। যেমন, কেউ নিয়ত ছাড়া ওজু বা গোসল করলে তা সহিহ হবে না। একজন কাফিরের নিয়ত গ্রহণযোগ্য নয়। তবে ব্যতিক্রম হলো: যদি কোনো ব্যক্তি আহলুল কিতাব নারীর সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়, তাহলে সেই মহিলার জন্য রজঃস্রাব শেষে সহবাসের পূর্বে গোসল করা আবশ্যক। কারণ, স্বামীর যৌন অধিকার স্ত্রীর তুলনায় অধিক গুরুত্বপূর্ণ, যদিও উভয়েরই পরস্পরের প্রতি অধিকার রয়েছে।
নারী-পুরুষের অধিকার সম্পর্কে শরিয়তের দৃষ্টিভঙ্গি:
আমরা মনে রাখব—শরিয়তে অধিকার নির্ধারণ করেন আল্লাহ তাআলা। তা আমাদের মন, মত, আবেগ বা যুক্তির ওপর নির্ভর করে না। বর্তমানে সমাজে এমন ধারণা ছড়িয়ে পড়েছে যেন নারী ও পুরুষ দুটি আলাদা সম্প্রদায়—যাদের মাঝে বিরোধ চলছে। অথচ বাস্তবে একে অপর ছাড়া টিকে থাকা সম্ভব নয়। উপদেশ দেওয়া শাস্তি নয় বরং যদি তা শরিয়তের আলোকে হয়, তাহলে আনন্দের সাথেই গ্রহণ করা উচিত।
কিছু আন্দোলন এই মনোভাব জন্ম দিয়েছে যে, নারী-পুরুষের মাঝে একধরনের যুদ্ধ চলছে। অথচ ইসলামে মুসলিম হওয়া মানেই হলো—আল্লাহর নিকট আত্মসমর্পণ করা। আল্লাহ যদি নারীদের জন্য কিছু বৈধ করেন আর পুরুষদের জন্য নিষিদ্ধ করেন, যেমন—সোনা ও রেশম, তাহলে সেটিই যথেষ্ট। রাসূল ﷺ এসব হুকুমের যৌক্তিকতা বিশ্লেষণ করেননি। সাহাবিগণও কখনো এসব বিষয়ে প্রশ্ন করেননি, কারণ তারা বুঝতেন—ইসলাম মানে পূর্ণ আত্মসমর্পণ।
কোনো কিছু আমাদের অধিকার হয়েছে, কেবল তখনই, যখন আল্লাহ সেটাকে আমাদের অধিকার হিসেবে নির্ধারণ করেছেন। আমাদের নিজস্ব যোগ্যতা নয়। যে ব্যক্তি মনে করে—সবার অধিকার সমান, সে চরম ধোঁকায় আছে। বরং আমাদের উচিত আল্লাহর হুকুম নিয়ে প্রশ্ন না করে, নিজেদের ঈমানের অবস্থা নিয়ে প্রশ্ন করা।
‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম’ বলা ওয়াজিব (৫টি স্থানে):
১. ওজুর শুরুতে
২. গুসলের শুরুতে
৩. তায়াম্মুমে
৪. ঘুম থেকে উঠে হাত ধোয়ার সময় (যদি ঘুম ওজু ভঙ্গকারী হয়)
৫. মৃত ব্যক্তিকে গোসল দেওয়ার সময়
ভুলে গেলে বা জানত না—এমন ক্ষেত্রে ওয়াজিব রহিত হয়।
ওজুর সুন্নতসমূহ:
১. কিবলামুখী হয়ে বসা।
২. মিসওয়াক ব্যবহার করা।
৩. তিনবার করে হাত ধোয়া দিয়ে শুরু করা।
৪. মুখে পানি ঢুকিয়ে ঘুরানো, তারপর নাকে পানি দেওয়া—আর তা জোরালোভাবে করা।
৫. আঙ্গুল ও আঙুলের ফাঁকে, মাথার চুলের মাঝে আঙুল চালিয়ে দেওয়া।
৬. দ্বিতীয় ও তৃতীয়বার ধোয়া; তিনের বেশি হলে তা বাড়াবাড়ি হয়ে যায় এবং তা অপছন্দনীয়।
৭. ওজু শেষ করে আকাশের দিকে তাকিয়ে দোয়া পড়া।
জুতার উপর মুছা – اَلْمَسْحُ عَلَى اَلْخُفَّيْنِ وَالْجَبِيرَةِ وَالْعَمَائِمِ
يَجُوزُ اَلْمَسْحُ عَلَى خُفٍّ وَنَحْوِه ِ وَعِمَامَةِ ذَكَرٍ مُحَنَّكَةٍ أَوْ ذَاتِ ذُؤَابَةٍ, وَخُمُرِ نِسَاءٍ مُدَارَةٍ تَحْتَ حُلُوقِهِنّ َ وَعَلَى جَبِيرَةٍ لَمْ تُجَاوِزْ قَدْرَ اَلْحَاجَةِ إِلَى حَلِّهَا, وَإِنْ جَاوَزَتْهُ أَوْ وَضَعَهَا عَلَى غَيْرِ طَهَارَةٍ لَزِمَ نَزْعُهَا, فَإِنْ خَافَ اَلضَّرَرَ تَيَمَّمَ, مَعَ مَسْحِ مَوْضُوعَةٍ عَلَى طَهَارَةٍ. وَيَمْسَحُ مُقِيمٌ وَعَاصٍ بِسَفَرِهِ مِنْ حَدَثٍ بَعْدَ لُبْسٍ يَوْمًا وَلَيْلَةً، وَمُسَافِرٌ سَفَرَ قَصْرٍ ثَلَاثَةً بِلَيَالِيهَ ا
فَإِنْ مَسَحَ فِي سَفَرٍ ثُمَّ أَقَامَ أَوْ عَكَس َ فَكَمُقِيمٍ, وَشُرِطَ تَقَدُّمُ كَمَالِ طَهَارَة ٍ وَسَتْرُ مَمْسُوحٍ مَحَلَّ فَرْضٍ وَثُبُوتُهُ بِنَفْسِهِ, وَإِمْكَانُ مَشْيٍ بِهِ عُرْفًا وَطَهَارَتُهُ وَإِبَاحَتُهُ
وَيَجِبُ مَسْحُ أَكْثَرِ دَوَائِرِ عِمَامَةٍ, وَأَكْثَرِ ظَاهِرِ قَدَمِ خُفٍّ, وَجَمِيعُ جَبِيرَةٍ، وَإِنْ ظَهَرَ بَعْضُ مَحَلِّ فَرْضٍ أو تمَّتْ اَلْمُدَّةُ اسْتَأْنَفَ اَلطَّهَارَةَ
মোজা, ব্যান্ডেজ এবং অনুরূপ বস্তুর উপর মাসেহ করার বিধান
চামড়ার মোজা বা অনুরূপ কিছু যেমন মোজার স্তর, সাধারণ মোজা, অথবা চিকিৎসার কারণে ব্যবহৃত বাঁধন জাতীয় বস্তু—এসবের উপর মাসেহ করা বৈধ, যদি কিছু শর্ত পূরণ হয়।
মাসেহ করার জন্য প্রয়োজনীয় দুইটি শর্ত:
১. এটি একটি বৈধ চিকিৎসাজনিত প্রয়োজনের কারণে করা হয়ে থাকে।
২. যখন ব্যান্ডেজ বা প্লাস্টার লাগানো হয়, তা শুধুমাত্র আঘাতপ্রাপ্ত অংশেই সীমাবদ্ধ থাকতে হবে। আশেপাশের অপ্রয়োজনীয় অংশ ঢেকে ফেললে, সেই বাড়তি অংশের উপর মাসেহ করা যাবে না এবং তা সাধারণ নিয়মে ধুয়ে ফেলতে হবে।
ব্যান্ডেজ লাগানোর সময় পবিত্রতা থাকা আবশ্যক কি?
মাযহাব অনুসারে, ব্যান্ডেজ বা প্লাস্টার লাগানোর পূর্বে পবিত্রতা (তাহারা) থাকা জরুরি। তবে ইমাম আহমদ رحمه الله, ইবনু তাইমিয়্যাহ رحمه الله এবং ইবনু কুদামাহ رحمه الله-এর একটি বর্ণনায় বলা হয়েছে যে, এটি জরুরি নয়। কেননা এগুলো সাধারণত জরুরি চিকিৎসার ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা হয়, যেখানে পবিত্রতা অর্জনের সময় পাওয়া যায় না।
যদি ব্যান্ডেজ বা প্লাস্টার প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত জায়গা ঢেকে ফেলে?
তাহলে অতিরিক্ত অংশ খুলে ফেলা আবশ্যক। যদি সেই অতিরিক্ত অংশ খুলে ফেলা স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হয়, তাহলে কেবলমাত্র আক্রান্ত স্থানের উপর মাসেহ করতে হবে এবং অতিরিক্ত অংশের জন্য تيمم করতে হবে।
হাম্বলি মাযহাবের مفردات থেকে কিছু মাসআলা:
১. পুরুষদের জন্য এমন পাগড়ি -এর উপর মাসেহ করার অনুমতি রয়েছে, যা চিবুকের নিচ দিয়ে মোড়ানো হয় অথবা যার একটি ঝুলন্ত অংশ থাকে। সাধারণ টুপি বা কুফি এ নিয়মের অন্তর্ভুক্ত নয়।
২. নারীরা তাদের স্কার্ফ বা স্কার্ফর উপর মাসেহ করতে পারবেন যদি তা চিবুকের নিচ দিয়ে মোড়ানো থাকে।
মোজা/পাগড়ি/স্কার্ফর উপর মাসেহ করার সময়সীমা:
- বাসিন্দা: ১ দিন / ২৪ ঘণ্টা
- মুসাফির: ৩ দিন / ৭২ ঘণ্টা
এই শর্তে যে, মোজা বা স্কার্ফ তখনই পরিধান করা হয়েছে, যখন ব্যক্তি পূর্ণ ওজু করেছেন। মাসেহ করার সময় গণনা শুরু হয় ওজু ভঙ্গের সময় থেকে, ওজু করার সময় থেকে নয়। শাইখাইন (ইমাম আবু হানিফা ও ইমাম মালিক رحمهما الله) একমত যে, প্লাস্টারের উপর মাসেহ করার জন্য পূর্বের তাহারা জরুরি নয়।
অবস্থার পরিবর্তন হলে মাসেহের নিয়ম কী?
যদি কেউ বাসিন্দা অবস্থায় মাসেহ শুরু করেন এবং পরে সফরে যান, তাহলে মাযহাব অনুসারে সে বাসিন্দার সময়সীমাই অনুসরণ করবেন। মাঝপথে সফরের সময়সীমায় পরিবর্তন করা যাবে না। তাকে ২৪ ঘণ্টা পর পুনরায় ওজু করতে হবে এবং মোজা পরে নতুনভাবে মুসাফির সময়সীমা শুরু করতে হবে। একজন মুসাফির যদি সফর শেষ করে বাসায় ফিরে আসেন, তাহলে তার মাসেহ ৩ দিনের মতো চলবে না—বরং তখন বাসিন্দার নিয়ম অনুসরণ করে মাসেহ শেষ করবেন।
মোজার উপর মাসেহ করার জন্য ৭টি শর্ত:
১. পানি দিয়ে পূর্ণ পবিত্রতা (তাহারাত) অর্জন করতে হবে। অর্থাৎ, দুই পা ধোয়ার পরেই মোজা পরতে হবে।
২. যে বস্তুর উপর মাসেহ করা হচ্ছে, তা অবশ্যই আঙুল থেকে গোড়ালি পর্যন্ত বাধ্যতামূলকভাবে ঢেকে রাখতে হবে। নিচু মোজা বা এমন মোজা যাতে চামড়া স্পষ্ট দেখা যায়—তা গ্রহণযোগ্য নয়।
৩. তা এমনভাবে পায়ে লাগানো হতে হবে যাতে আলাদা কোনো মাধ্যম ছাড়া তা নিজে নিজেই স্থির থাকে; ঢিলে বা নড়বড়ে হলে চলবে না।
৪. সেই মোজায় বা বস্তুতে স্বাভাবিকভাবে হাঁটা সম্ভব হতে হবে।
৫. বস্তুটি পবিত্র এবং হালাল হতে হবে।
৬. বস্তুটি ব্যবহারের জন্য বৈধ হতে হবে—যেমন চুরি করা না হয়।
৭. বস্তুটি স্বচ্ছ বা অতিরিক্ত পাতলা না হওয়া উচিত, যাতে চামড়া স্পষ্ট দেখা না যায়।
মোজার কাপড়ে পানি ঢুকলে তা সমস্যা নয়। আপনার ওজু বা পবিত্রতার অবস্থান ওই মোজার সাথে সংযুক্ত। যদি কেউ ওজু হারিয়ে ফেলে এবং মোজার উপর মাসেহ করে, এরপর মোজা খুলে ফেলে, তাহলে তার পবিত্রতা নষ্ট হয়ে যাবে।
পাগড়ির মোড়ানো অংশ, স্কার্ফ, পায়ের উপরিভাগ, এবং ব্যান্ডেজ—এগুলো মাসেহ করার সময় বেশিরভাগ অংশে মাসেহ করা ফরজ, কারণ এগুলো আঘাতপ্রাপ্ত স্থানের বিকল্প ধরা হয়।
ওজু ভঙ্গের কারণসমূহ (نواقض الوضوء)
:نَوَاقِضُ اَلْوُضُوءِ ثَمَانِيَةٌ
خَارِجٌ مِنْ سَبِيلٍ مُطْلَقً ا وَخَارِجٌ مِنْ بَقِيَّةِ اَلْبَدَنِ مِنْ بَوْلٍ وَغَائِطٍ وَكَثِيرِ نَجَسِ غَيْرِهمَ وَزَوَالُ عَقْلٍ إِلَّا يَسِيرَ نَوْمٍ مِنْ قَائِمٍ أَوْ قَاعِد ٍ وَغُسْلُ مَيِّت ٍ وَأَكْلُ لَحْمِ إِبِلٍ, وَالرِّدَّةُ, وَكُلُّ مَا أَوْجَبَ غُسْلاً غَيْرَ مَوْتٍ, وَمَسُّ فَرْجِ آدَمِيٍّ مُتَّصِل ٍ أَوْ حَلْقَةِ دُبُرِهِ بِيَدٍ، وَلَمْسُ ذَكَرٍ أَوْ أُنْثَى اَلْآخَرَ لِشَهْوَة ٍ بِلَا حَائِلٍ فِيهِمَا, لَا لِشَعْرٍ وَسِنٍّ وَظُفْرٍ وَلَا بِهَا وَلَا مَنْ دُونَ سَبْعٍ.
وَلَا يَنْتَقِضُ وُضُوءُ مَلْمُوسٍ مُطْلَقًا, وَمَنْ شَكَّ فِي طَهَارَةٍ أَوْ حَدَثٍ بَنَى عَلَى يَقِينِهِ.
وَحَرُمَ عَلَى مُحْدِثٍ مَسُّ مُصْحَفٍ وَصَلَاةٌ وَطَوَافٌ, وَعَلَى جُنُبٍ وَنَحْوِه ِ ذَلِكَ, وَقِرَاءَةُ آيَةِ قُرْآنٍ, وَلُبْث ٌ فِي مَسْجِدٍ بِغَيْرِ وُضُوءٍ.
ওজু ভঙ্গকারী সবগুলো কারণ একত্রে কোনো সহীহ হাদীসে পাওয়া যায় না। বরং আলেমগণ বিভিন্ন হাদীস থেকে এগুলো একত্র করেছেন।
ওজু ভঙ্গকারী ৮টি কারণ:
১. দুই নির্গমন পথ (মলদ্বার ও মূত্রদ্বার) থেকে যেকোনো কিছু বের হওয়া।
লেখক এখানে “مطلقا” শব্দ ব্যবহার করেছেন, যার অর্থ—সেখানে যাই বের হোক না কেন, তা ওজু ভঙ্গ করে। বিষয়টি এটা নয় যে তা পবিত্র কি না; বরং ওজু ভঙ্গ করে কি না সেটিই বিবেচ্য।
মাযহাব অনুসারে নারীর শরীর থেকে নির্গত তরল (discharge) শারঈভাবে পবিত্র, তবে তা ওজু ভঙ্গ করে।
২. শরীরের অন্য কোনো অংশ থেকে পেশাব, পায়খানা অথবা অনেক পরিমাণে অপবিত্র কিছু বের হওয়া—যেমন রক্ত, পুঁজ, বমি ইত্যাদি।
‘অনেক পরিমাণ’ নির্ধারণে ইবনু আব্বাস رضي الله عنه বলেন—ব্যক্তি নিজেই তার অবস্থার সবচেয়ে ভালো বিচারক।
৩. জ্ঞান হারানো বা অচেতন হওয়া।
নেশাগ্রস্ত হওয়া, অজ্ঞান হওয়া, বা যে কোনো অচেতন অবস্থায় পড়া—এসব ওজু ভঙ্গ করে, যত অল্প সময়ের জন্যই হোক।
তবে ব্যতিক্রম হলো—হালকা তন্দ্রা, যদি কেউ বসা বা দাঁড়িয়ে অবস্থায় ঘুমিয়ে পড়ে।
যদি কেউ শুয়ে গিয়ে তন্দ্রায় চলে যায়, তবে তা ওজু ভঙ্গ করবে। স্বপ্ন দেখা গভীর ঘুমের আলামত।
৪. মৃত ব্যক্তিকে গোসল দেওয়া।
ইবনু উমর, ইবনু আব্বাস ও আবু হুরায়রা رضي الله عنهم এই মত পোষণ করেছেন। এটি মাযহাবের مفردات-এর অন্তর্ভুক্ত।
যিনি সরাসরি মৃতদেহ গোসল দেন, তার ওজু করা আবশ্যক; সহকারী নয়।
৫. উটের মাংস খাওয়া।
এটি সহীহ হাদীসে প্রমাণিত। উটের মাংস খেলে ওজু করতে হবে।
৬. ইসলাম ত্যাগ করা (ارتداد)।
যে ব্যক্তি শিরক বা কুফর করে, তার সব আমল বাতিল হয়ে যায়। যেসব কাজের কারণে গোসল ফরজ হয়, সেগুলোর পর ওজুও ফরজ হয়।
৭. মানুষের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ স্পর্শ করা—যদি তা যৌন অঙ্গ হয় এবং সরাসরি স্পর্শ হয়।
নিজের বা অন্য কারো যৌনাঙ্গে সরাসরি হাত দিয়ে স্পর্শ করলে ওজু ভেঙে যায়।
শুধু হাতের স্পর্শে এটি প্রযোজ্য—পা বা উরু দিয়ে নয়।
ইমাম বুখারি বলেছেন, সবচেয়ে বিশুদ্ধ হাদীস হলো—রাসূল ﷺ বলেছেন,
“যদি কারো যৌনাঙ্গ স্পর্শ করো, তাহলে ওজু করো।”
পুরুষের অণ্ডকোষ স্পর্শ করলে ওজু ভঙ্গ হয় না। নারীদের বেলায় বাহ্যিক অংশ (labia) স্পর্শ করলে ওজু ভাঙে না, বরং ভেতরের অংশ স্পর্শ করলেই ওজু ভাঙে।
৮. বিপরীত লিঙ্গের কাউকে সরাসরি (চামড়ায় চামড়ায়) স্পর্শ করা, যদি তা شهـوة (যৌন আকাঙ্ক্ষা) নিয়ে হয়।
ভালোবাসা বা ঘনিষ্ঠতার অনুভূতি থাকলেও, যদি তা যৌন প্রকৃতির না হয়, তাহলে ওজু ভাঙে না।
যদি কাপড় বা পর্দা দিয়ে স্পর্শ করা হয়, তাহলে তা ভাঙবে না।
চুল, দাঁত বা নখ দিয়ে স্পর্শ করলে ওজু ভঙ্গ হয় না—কারণ এগুলো শরীর থেকে হুকমি বিচ্ছিন্ন (حُكْمِي مُنْفَصِل)।
৭ বছরের কম বয়সী শিশুকে স্পর্শ করলে ওজু ভাঙে না, কারণ তাদেরকে কামনার বস্তু ধরা হয় না।
একই লিঙ্গের কাউকে স্পর্শ করলে—even if sexual intent is involved—ওজু ভাঙে না।
যিনি স্পর্শ করেন, তাঁর ওজু ভাঙে; যিনি স্পর্শ হন, তাঁর নয়—যৌন উত্তেজনা বা বয়স বিবেচনায় না নিয়েই।
সন্দেহ হলে করণীয় কী?
যদি কেউ সন্দেহে পড়ে যায়—ওজু আছে কি নেই, তাহলে সেটি আমলে নেওয়া যাবে না। শরিয়তে সন্দেহ নয়, বরং নিশ্চিত জ্ঞান (يقين)—এটাই ভিত্তি। যে অবস্থার ব্যাপারে নিশ্চিত, সেটিই থাকবে—যতক্ষণ না নতুন করে নিশ্চিতভাবে তার বিপরীত প্রমাণ হয়।
ওজু না থাকলে যেসব কাজ নিষিদ্ধ:
- মুসহাফ স্পর্শ করা (পর্দা ছাড়া)
- তাওয়াফ করা
এই নিষেধাজ্ঞা চার মাযহাবের সম্মিলিত মত।
জুনুব বা হায়েয অবস্থায় কুরআন তিলাওয়াতের বিধান:
- পূর্ণ আয়াত তিলাওয়াত করা নিষিদ্ধ।
একজন ব্যক্তি যদি বড় পবিত্রতা হারান (যেমন: জানাবাত, হায়েয), তাহলে তিনি পূর্ণ আয়াত মুখে উচ্চারণ করে তিলাওয়াত করতে পারবেন না। - চার মাযহাবের অধিকাংশ ফকীহ বলেন—এ অবস্থায় মুখে তিলাওয়াত করা যাবে না।
কেবল ইমাম মালিক رحمه الله এর মতে, মুখে তিলাওয়াত করার অনুমতি আছে। - তবে একজন ব্যক্তি চোখে কুরআন দেখতে পারেন, উল্টাতে পারেন, শুনতে পারেন, বা অন্যের তিলাওয়াত সংশোধন করতে পারেন, কিন্তু নিজে থেকে তিলাওয়াত করতে পারবেন না।
মসজিদে প্রবেশের বিধান:
- যারা জুনুব অবস্থায় আছে, তারা মসজিদের ভেতরে অবস্থান করতে পারবেন না, তবে অবিরত হাঁটার মাধ্যমে মসজিদ পার হওয়া বৈধ।
- হায়েয নারীরা, যতক্ষণ না তাদের মাসিক চক্র শেষ হয়, মসজিদে প্রবেশ করতে পারবেন না।
যেসব কারণে গোসল ফরজ হয় (موجبات الغسل):
مُوجِبَاتُ اَلْغُسْلِ سَبْعَةٌ:
خُرُوجُ اَلْمَنِيِّ مِنْ مَخْرَجِهِ بِلَذَّةٍ وَانْتِقَالُه ُوَتَغْيِيبُ حَشَفَة ٍ فِي فَرْجٍ أَوْ دُبُرٍ وَلَوْ لِبَهِيمَةٍ أَوْ مَيِّتٍ بِلَا حَائِلٍ, وَإِسْلَامُ كَافِرٍ, وَمَوْتٌ, وَحَيْضٌ, وَنِفَاسٌ .
وَسُنَّ لِجُمُعَةٍ, وَعِيدٍ, وَكُسُوفٍ, وَاسْتِسْقَاء ٍ وَجُنُونٍ, وَإِغْمَاءٍ لَا اِحْتِلَامَ فِيهِمَا, وَاسْتِحَاضَةٍ لِكُلِّ صَلَاةٍ, وَإِحْرَامٍ, وَدُخُولِ مَكَّةَ, وَحَرَمِهَا, وَوُقُوفٍ بِعَرَفَةَ, وَطَوَافِ زِيَارَةٍ, وَوَدَاعٍ, وَمَبِيتٍ بِمُزْدَلِفَةَ, ورَمْيِ جمارٍ
وَتَنْقُضُ اَلْمَرْأَةُ شَعْرَهَا لِحَيْضٍ وَنِفَاسٍ, لَا جَنَابَةٍ إِذَا رَوَتْ أُصُولَهُ .
وَسُنَّ تَوَضُّؤٌ بِمُدٍّ, وَاغْتِسَالٌ بِصَاع ٍ وَكُرِهَ إِسْرَاف ٌ وَإنْ نَوَى بالغُسْلِ رَفْعَ اَلْحَدَثَيْنِ أَوْ اَلْحَدَثِ ِوَأَطْلَقَ اِرْتَفَعَا.
وَسُنَّ لِجُنُبٍ غَسْلُ فَرْجِهِ, وَالْوُضُوءُ لَأَكْلٍ وَشُرْبٍ وَنَوْمٍ, وَمُعَاوَدَةِ وَطْءٍ، وَالْغُسْلُ لَهَا أَفْضَلُ, وَكُرِهَ نَومُ جُنُبٍ بِلَا وُضُوءٍ .
মোট ৭টি কারণে গোসল ফরজ হয়:
১. শাহওয়াতপূর্ণ ভাবে مني (মনি/বীর্য) নির্গত হওয়া। এর দ্বারা উদ্দেশ্য হল—অর্গাজমের মাধ্যমে নির্গত হওয়া, হোক তা হস্তমৈথুন, শৃঙ্গার (foreplay) বা সহবাসের মাধ্যমে।
২. হাম্বলি মাযহাবের مفردات অনুযায়ী: যদি مني (মনি) মূলস্থানে উঠে আসে কিন্তু বাহিরে না আসে, তাহলেও গোসল ফরজ হয়। যেমন:
- কেউ অর্গাজম অনুভব করে কিন্তু বিভিন্ন কারণে (শরীরের ভঙ্গি, একাধিক বার সহবাস, অঙ্গ চেপে ধরা ইত্যাদি) مني (মনি) বাহির হয়নি।
- যদি স্বামী-স্ত্রী সহবাসের পর স্ত্রীর শরীর থেকে স্বামীর মনি বের হয়, তাহলে স্ত্রীর উপর গোসল ফরজ হবে না, বরং ওজু করতে হবে।
৩. পুরুষের লিঙ্গ (হলের অংশ/খতনা অংশ) কোনো মহিলার যৌনাঙ্গে, পায়ুপথে, মৃত ব্যক্তির দেহে বা জন্তুর শরীরে প্রবেশ করানো (কোনো পর্দা ছাড়া)। এক্ষেত্রে মনি নির্গত হোক বা না হোক, গোসল ফরজ হয়। এই বিধান পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতার জন্য; এর মানে এই নয় যে এসব কাজ বৈধ। যৌনাঙ্গ ছাড়া অন্য প্রবেশ পথগুলোর সবই হারাম। কোনো কাপড় বা অন্তর্বাস পরা অবস্থায় প্রবেশ করলে গোসল ফরজ হবে না, যতক্ষণ না বের হয়।
৪. কোনো অমুসলিম ইসলাম গ্রহণ করলে।
৫. মৃত্যু। মৃত ব্যক্তিকে গোসল দিতে হয়।
৬. হায়েয (মাসিক রজস্রাব)।
৭. نفاس (সন্তান প্রসব-পরবর্তী রক্তস্রাব)। প্রসব-পূর্ব ও পরবর্তী সময়ে যে রক্তস্রাব হয়, তা গোসলকে ফরজ করে।
মোট ১৬টি সময় সময়ে গোসল করা সুন্নত/সুনির্দিষ্টভাবে সুপারিশকৃত (مستحبات الغسل):
১. জুমার নামাজের জন্য
২. ঈদের নামাজের জন্য
৩. সূর্যগ্রহণের নামাজের জন্য
৪. চন্দ্রগ্রহণের নামাজের জন্য
৫. ইস্তিস্কা (বৃষ্টির জন্য দু’আ/নামাজ)
৬. পাগল হওয়া
৭. অচেতন হওয়া, যদি মনি নির্গত না হয়
৮. ইসতিহাযাহ্ (অনিয়মিত রক্তস্রাব); যতক্ষণ না কষ্টসাধ্য হয়, ততক্ষণ প্রতি সালাতের আগে গোসল
৯. ইহরাম বাঁধার সময়
১০. মক্কায় প্রবেশের সময়
১১. হারামে প্রবেশের সময়
১২. আরাফার ময়দানে অবস্থানকালে
১৩. প্রথম তাওয়াফ (تطواف القدوم)
১৪. বিদায়ী তাওয়াফ (تطواف الوداع)
১৫. মুজদালিফায় রাত্রিযাপন
১৬. তিনটি জামরার (স্তম্ভে) পাথর নিক্ষেপের আগে
অধিকাংশ সময়ই এসব গোসল সুন্নাহ দ্বারা প্রমাণিত, কিছু ক্ষেত্রে কিয়াসের মাধ্যমে আলেমগণ তা নির্ধারণ করেছেন। সাধারণত এগুলো এমন সময়, যখন বহু মানুষ আল্লাহর ইবাদতের জন্য একত্র হয়।
নারীদের চুল খোলা সংক্রান্ত বিধান:
- হায়েয ও নেফাস-এর পর গোসল করলে চুলের গোঁড়া পর্যন্ত পানি পৌঁছাতে হবে, এজন্য ব্রেইড (গেঁথে রাখা চুল) খুলে ফেলা জরুরি।
- সহবাস বা অর্গাজমজনিত গোসলের সময় ব্রেইড খোলা জরুরি নয়।
পানি ব্যবহারের পরিমাণ (সুন্নাহ অনুসারে):
- ১ মুদ্দ দিয়ে ওজু
- ১ সা‘ দিয়ে গোসল
পরিমাপ অনুসারে:
- ১ মুদ্দ ≈ ০.৬ লিটার (বা ০.৫১ লিটার)
- ১ সা‘ ≈ ২.৪৩ লিটার (বা ২.০৪ লিটার)
- ১ মুদ্দ = দুই হাতভর্তি পানি
- ১ সা‘ = চার মুদ্দ
একটি গোসল দিয়ে সব অপবিত্রতা দূর করা সম্ভব কি?
হ্যাঁ। যদি কেউ নিয়ত করে যে, এই গোসল দ্বারা সে বড় ও ছোট উভয় ধরনের অপবিত্রতা দূর করতে চায়, তাহলে আলাদা করে ওজু করার প্রয়োজন নেই।
যারা বড় অপবিত্রতায় আছেন, তাদের করণীয়:
- উত্তম হলো তারা নিজ যৌনাঙ্গ ধুয়ে ফেলেন
- খাওয়ার, পান করার অথবা আবার সহবাস করার আগে ওজু করে নেওয়া উত্তম
ইমাম মাজদউদ্দিন আবু আল-বরাকাত ইবন তাইমিয়্যাহ رحمه الله (ইমাম ইবনু তাইমিয়্যাহ رحمه الله-র দাদা ও হাম্বলি মাযহাবের একজন বড় ইমাম) বলেন:
শরীয়ভাবে গোসল সহিহ হওয়ার জন্য যা প্রয়োজন:
- নিয়ত (ইচ্ছা করা)
- পুরো শরীর ধুয়ে ফেলা, মুখ ও নাকসহ
সুন্নাত অনুসারে গোসল করার পদ্ধতি:
১. নিয়ত (ইচ্ছা করা)
২. বিসমিল্লাহ বলা
৩. হাত তিনবার ধোয়া
৪. যদি কোনো নাপাকতা থাকে, তা ধুয়ে ফেলা
৫. পূর্ণ ওজু করা
৬. মাথার চুলের গোঁড়া পর্যন্ত পানি ঢালা – তিনবার
৭. শরীর ধোয়া – তিনবার
৮. دلك (গোসলকালে হাত দিয়ে শরীর ঘষা)
৯. শেষে পা ধুয়ে ফেলা; সম্ভব হলে অন্য স্থানে গিয়ে ধোয়া উত্তম
সর্বদা ডানদিক থেকে শুরু করাই উত্তম।
যে ব্যক্তি জানাবাত অবস্থায় ঘুমাতে চান, তার জন্য ওজু করে নেওয়া মুস্তাহাব (উত্তম)।
তায়াম্মুম – اَلتَّيَمُّمُ وَتَوَابِعُهُ
يَصِحُّ اَلتَّيَمُّمُ بِتُرَابٍ طَهُور ٍ مُبَاحٍ لَهُ غُبَارٌ إِذَا عُدِمَ اَلْمَاءُ لِحَبْس ٍ أَوْ غَيْرِهِ, أَوْ خِيفَ بِاسْتِعْمَالِهِ, أَوْ طَلَبِهِ ضَرَرٌ بِبَدَنٍ أَوْ مَالٍ أَوْ غَيْرِهِمَا, وَيُفْعَلُ عَنْ كُلِّ مَا يُفْعَلُ بِالْمَاء ِ سِوَى نَجَاسَةٍ عَلَى غَيْرِ بَدَنٍ إِذَ ا دَخَلَ وَقْتُ فَرْضٍ َوَأُبِيحُ غَيْرُهُ.
وَإِنْ وَجَدَ مَاءً لَا يَكْفِي طَهَارَتَهُ اِسْتَعْمَلَهُ ثُمَّ تَيَمَّمَ
وَيَتَيَمَّمُ لِلْجُرْحِ عِنْدَ غَسْلِهِ, إِنْ لَمْ يُمْكِنُ مَسْحُهُ بِالْمَاءِ وَيَغْسِلُ اَلصَّحِيحَ
وَطَلَبُ اَلْمَاءِ شَرْطٌ فَإِنْ نَسِيَ قُدْرَتَهُ عَلَيْه ِ وَتَيَمَّمَ أَعَادَ
وَفُرُوضُهُ: مَسْحُ وَجْهِهِ, وَيَدَيْهِ إِلَيَّ كُوعَيهِ, وَفِي أَصْغَرَ تَرْتِيبٌ وَمُوَالَاةٌ أَيْضًا
وَنِيَّةُ اَلِاسْتِبَاحَةِ شَرْط ٌ لِمَا يَتَيَمَّمُ لَهُ, وَلَا يُصَلِّي بِهِ فَرْضًا, إِنْ نَوَى نَفْلاً أَوْ أَطْلَقَ. وَيَبْطُلُ بِخُرُوجِ اَلْوَقْتِ, وَمُبْطِلَاتِ اَلْوُضُوءِ, وَبِوُجُودِ مَاءٍ إِنْ تَيَمَّمَ لِفَقْدِهِ. وَسُنَّ لِرَاجِيهِ تَأْخِيرٌ لِآخِرِ وَقْتِ مُخْتَارٍ
وَمَنْ عَدِمَ اَلْمَاءَ وَالتُّرَابَ أَوْ لَمْ يُمْكِنْهُ اِسْتِعْمَالُهُمَا صَلَّى اَلْفَرْضَ فَقَط ْ عَلَى حَسَبِ حَالِهِ, وَلَا إِعَادَةَ, وَيَقْتَصِرُ عَلَى مُجْزِئٍ, وَلَا يَقْرَأُ فِي غَيْرِ اَلصَّلَاةِ إِنْ كَانَ جُنُبًا.
- তায়াম্মুম হলো পবিত্রতা অর্জনের জন্য মাটি বা মাটির মতো অন্য কোনো প্রাকৃতিক জিনিস ব্যবহার করা। যদিও এগুলো তহুর (পবিত্র ও পরিশোধক) হয়, কিন্তু উদ্দেশ্য শরীর ধোয়া নয়।
- তায়াম্মুম তখন করা যায় যখন পানি না থাকে বা পানির ব্যবহার নিষিদ্ধ হয়, অথবা পানির ব্যবহার করলে শরীর বা সম্পত্তিতে ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
- তায়াম্মুমে মাটি, মাটি বা ধুলোর মতো যেকোনো তহুর জিনিস লাগবে, শুধু ধুলো থাকলেই হবে।
- যেকোনো কাজ যা পানি দিয়ে করা হয়, তায়াম্মুমও সে জন্য করা হয় কিন্তু শরীরের বাইরে থাকা অপবিত্র জিনিসের জন্য তায়াম্মুম করা যায় না।
- সালাতের ওয়াক্ত শুরু হলে তায়াম্মুম করা হয় এবং প্রতিবারও করতে হয় কারণ হাম্বলিরা মনে করে এটা পুরো নাপাকত্ব দূর করে না, শুধুমাত্র নামাজের জন্য পরোক্ষ অনুমতি দেয়।
- পানি কম থাকলে যে পরিমাণ পানি পাওয়া যায় ততটুকু দিয়ে ওজু করে, বাকি অংশ তায়াম্মুম করা যায়। ইবনে তাইমিয়াহ বলছেন সরাসরি তায়াম্মুম করাই ভালো।
তায়াম্মুমের ফরজ কাজ:
১. মুখ মুছে ফেলা (মাসেহ করা)
২. দুই হাত কনুই পর্যন্ত মুছে ফেলা
- মাটি হাতে নিয়ে প্রথমে মুখ মুছে, আবার মাটি নিয়ে হাত কনুই পর্যন্ত মুছা উত্তম।
- ফরজ নয়, তবে অন্য হাদিস অনুসারে সুন্নত।
- তায়াম্মুমে ওজুর নিয়ম (সারিবদ্ধতা ও ক্রম) মেনে চলা উচিত, তবে গোসলের ক্ষেত্রে তা প্রযোজ্য নয়।
- পবিত্রতার উদ্দেশ্য (নিয়ত) থাকা জরুরি।
তায়াম্মুম ভঙ্গকারী বিষয়সমূহ ৫টি:
১. নামাজের সময় শেষ হয়ে গেলে।
২. ওজু ভঙ্গকারী কোনো বিষয় ঘটলে তায়াম্মুমও ভেঙে যায়, কারণ এদের বিধান একই।
৩. যদি ওজুর জন্য পানি পাওয়া যায়, তাহলে তায়াম্মুম করার ছাড় আর থাকে না।
হাম্বলি মাযহাব মতে, যদি কেউ ওজুর জন্য পানি কিংবা তায়াম্মুমের জন্য মাটি—কোনোটাই না পায়, তাহলে সে এ অবস্থাতেই নামাজ আদায় করবে; তবে শুধু ফরজ নামাজ পড়বে এবং শুধুমাত্র ফরজ কাজগুলো করবে। যদি কেউ অপবিত্রতার বড় অবস্থায় থাকে, তাহলে হাম্বলি মাযহাব মতে, সে নামাজ পড়তে পারবে কিন্তু ফরজ নামাজে শুধু সূরা ফাতিহা পাঠ করবে, অন্য কিছু পড়বে না।
৪. যেটির ওপর মাসেহ (মুছে দেয়া) করা হয়েছে সেটি সরিয়ে ফেলা।
৫. যেটার কারণে তায়াম্মুম বৈধ হয়েছিল, সেই অবস্থা বা কারণ শেষ হয়ে যাওয়া।
ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কারকরণ – طَهَارَةُ اَلْأَرْضِ وَالثِّيَابِ
تَطْهُرُ أَرْضٌ وَنَحْوُهَ ا بِإِزَالَةِ عَيْنِ اَلنَّجَاسَةِ وَأَثَرِهَا بِالْمَاءِ, وَبَوْلُ غُلَامٍ لَمْ يَأْكُلْ طَعَامًا بِشَهْوَةٍ, وَقَيْئُهُ يَغْمُرُهُ بِهِ, وَغَيْرُهُمَ ا بِسَبْعِ غَسَلَاتٍ, أَحَدُهَا بِتُرَابٍ وَنَحْوِه ِ فِي نَجَاسَةِ كَلْبٍ وَخِنْزِيرٍ فَقَطْ مَعَ زَوَالِهَا, وَلَا يَضُرُّ بَقَاءُ لَوْنٍ أَوْ رِيحٍ أَوْ هُمَا عَجْزً ا وَتَطْهُرُ خمْرَةٌ اِنْقَلَبْتْ بِنَفْسِهَا خَلًّا, وَكَذَا دَنُّهَا لَا دُهْنٌ وَمُتَشَرِّبٌ نَجَاسَة
وَعُفِيَ فِي غَيْرِ مَائِعٍ وَمَطْعُومٍ عَنْ يَسِيرِ دَمٍ نَجِسٍ وَنَحْوِه ِ مِنْ حَيَوَانٍ طَاهِرٍ لَا دَمَ سَبِيلٍ إِلَّا مِنْ حَيْضٍ, وَمَا لَا نَفْسَ لَه ُ سَائِلَةٌ, وَقَمْلٌ وَبَرَاغِيثُ وَبَعُوضٌ وَنَحْوُهَا طَاهِرَةٌ مُطْلَقً ا وَمَائِعٌ مُسْكِرٌ, وَمَا لَا يُؤْكَلُ مِنْ طَيْرٍ وَبَهَائِمَ مِمَّا فَوْقَ اَلْهِرِّ خِلْقَةً, وَلَبَنٌ وَمَنِيٌّ مِنْ غَيْرِ آدَمِيٍّ وَبَوْلٌ وَرَوْثٌٍ, وَنَحْوُهَا مِنْ غَيْرِ مَأْكُولِ اَللَّحْمِ نَجِسَةٌ, وَمِنْهُ طَاهِرَة ٌ كَمِمَّا لَا دَمَ لَهُ سَائِلٌ . وَيُعْفَى عَنْ يَسِيرِ طِينِ شَارِعٍ عُرْفًا إِنْ عُلِمَتْ نَجَاسَتُهُ وَإِلَّا فَطَاهِرٌ
যদি মেঝেতে কোনো অপবিত্রতা থাকে, তবে তাতে একবার পানি ঢেলে তা ঢেকে ফেলাই যথেষ্ট, এই শর্তে যে অপবিত্রতা দূর হয়ে যায়। এর প্রমাণ হলো সেই বেদুইনের হাদীস, যে মসজিদে প্রস্রাব করেছিল।
যে পুরুষ শিশু কঠিন খাবার খায়নি এবং এখনো খাবারের প্রতি আগ্রহ দেখায়নি, তার প্রস্রাব ও বমি—এই ধরনের অপবিত্রতা কেবল পানি দিয়ে ঢেকে ফেললেই পবিত্র হয়ে যায়; ধোয়া বা ঘষা জরুরি নয়। রং বা গন্ধ কিংবা উভয় থাকলেও যদি তা দূর করা না যায়, তবে তা পবিত্রতার ক্ষতি করে না। কিন্তু স্বাদ থেকে যদি বোঝা যায় যে অপবিত্র বস্তুটি রয়ে গেছে, তবে তা পবিত্রতাকে নষ্ট করে, কারণ স্বাদ ইঙ্গিত দেয় বস্তুটি এখনো বিদ্যমান।
অন্যান্য অপবিত্রতা ধোয়ার ক্ষেত্রে সাতবার ধোয়া আবশ্যক, এবং এটি হাম্বলি মাযহাবের একক মত (মুফরাদাত)। তারা যুক্তি দেন, এমনকি কুকুর, যাকে নিয়ে আলেমদের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে—পবিত্র কি না তা নিয়ে—যদি তা কোনো জিনিস চেটে ফেলে, তবে সেটিকে সাতবার ধোয়া জরুরি হয়; তাহলে যেসব অপবিত্রতা নিশ্চিতভাবে অপবিত্র, তা তো অবশ্যই সাতবার ধোয়া প্রাপ্য।
এই ক্ষেত্রে মাটি ব্যবহার না করেও সাবান ব্যবহার করা যেতে পারে, কারণ এটি পবিত্রতার আরও একটি স্তর নিশ্চিত করে।
শুধু এই যুক্তিতে কুকুর ও শূকরকে নিয়ে তর্ক করা যে এরা জন্মগতভাবে অপবিত্র—এভাবে চিন্তা করা সঠিক নয়। এমনকি কেউ যদি এক হাজার লিটার পানি ও সাবান দিয়ে এক হাজারবার ধোয় এবং জিনিসটিকে ঝকঝকে পরিষ্কার করে ফেলে, তবুও তা অপবিত্রই থাকবে। কেন? কারণ আল্লাহ ও তাঁর রাসূল ﷺ এভাবে বলেছেন। এই দ্বীন যুক্তির নয়, এটি আত্মসমর্পণের দ্বীন।
যে মদ স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভিনেগারে পরিণত হয়, তা এবং তার পাত্র পবিত্র। কিন্তু যদি মানুষের কোনো ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়ার মাধ্যমে তা ঘটে, তাহলে তা পবিত্র ধরা হয় না। তবে কিছু আলেম বলেন, যেহেতু তা আর মদ নয়, তাই তা পবিত্র—এটি মতভেদপূর্ণ বিষয়।
পবিত্র কোনো জন্তুর অল্প পরিমাণ রক্ত যদি খাদ্য বা পানীয়ে মিশে যায়, তাহলে তা গ্রহণযোগ্য নয়। তবে নামাজ ইত্যাদির ক্ষেত্রে কাপড়ে সামান্য রক্ত থাকলে তা মাফযোগ্য। কিন্তু পায়খানার রাস্তা থেকে আসা রক্ত সব অবস্থায় অপবিত্র, শুধু যোনির রক্ত (হায়েজ, নিফাস) ছাড়া।
যেসব প্রাণীর শরীরে প্রবাহিত রক্ত নেই—যেমন উকুন, পিসু, মশা—সেগুলো জীবিত বা মৃত—সবই পবিত্র।
মাসিকের বিষয় – فَصْــــلٌ فِي اَلْحَيْضِ
لَا حَيضَ مَعَ حَمْلٍ, وَلَا بَعْدَ خَمْسِينَ سَنَة ً وَلَا قَبْلَ تَمَامِ تِسْعِ سِنِينَ
وَأَقَلُّهُ يَوْمٌ وَلَيْلَةٌ وَأَكْثَرُهُ خَمْسَةَ عَشَرَ وَغَالِبُهُ سِتٌّ أَوْ سَبْعٌ, وَأَقَلُّ طَهُرٍ بَيْنَ حَيْضَتَيْنِ ثَلَاثَةَ عَشَرَ, وَلَا حَدَّ لِأَكْثَرِهِ, وَحَرُمَ عَلَيْهِمَا فِعْلُ صَلَاةٍ وَصَوْمٍ, وَيَلْزَمُهَا قَضَاؤُه ُ وَيَجِبُ بِوَطْئِهَا فِي اَلْفَرْجِ دِينَارٌ أَوْ نِصْفُه ُ كَفَّارَةً, وَتُبَاحُ اَلْمُبَاشَرَةُ فِيمَا دُونَهُ
وَالْمُبْتَدَأَة ُ تَجْلِسُ أَقَلَّهُ ثُمَّ تَغْتَسِلُ وَتُصَلِّي, فَإِنْ لَمْ يُجَاوِزْ دَمُهَا أَكْثَرَهُ اِغْتَسَلَتْ أَيْضًا إِذَا اِنْقَطَعَ, فَإِنْ تَكَرَّرَ ثَلَاثًا فَهُوَ حَيْضٌ تَقْضِي مَا وَجَبَ فِيهِ, وَإِنْ أَيِسَتْ قَبْلَهُ, أَوْ لَمْ يَعُدْ فَلَا, وَإِنْ جَاوَزَهُ فَمُسْتَحَاضَةٌ تَجْلِسُ اَلْمُتَمَيِّزَ إِنْ كَانَ, وَصَلُحَ فِي اَلشَّهْرِ اَلثَّانِي, وَإِلَّا أَقَلَّ اَلْحَيْضِ حَتَّى تَتَكَرَّرَ اِسْتِحَاضتُهَا ثُمَّ غَالِبَه
وَمُسْتَحَاضَةٌ مُعْتَادَةٌ تُقَدِّمُ عَادَتَهَا, وَيَلْزَمُهَا وَنَحْوَهَا غَسْلُ اَلْمَحَلِّ وَعَصْبُهُ وَالْوُضُوءُ لِكُلِّ صَلَاةٍ إِنْ خَرَجَ شَيْءٌ, وَنِيَّةُ اَلِاسْتِبَاحَةِ, وَحَرُمَ وَطْؤُهَا إِلَّا مَعَ خَوْفِ اَلزِّنَا
وَأَكْثَرُ مُدَّةِ اَلنِّفَاسِ أَرْبَعُونَ يَوْمًا, وَالنَّقَاءُ زَمَنُهُ طُهْر ٌ يُكْرَهُ اَلْوَطْءُ فِيهِ, وَهُوَ كَحَيْضٍ فِي أَحْكَامِهِ غَيْرَ عِدَّةٍ وَبُلُوغ
পবিত্রতা (তাহারাহ) সম্পর্কিত বিষয়ে মাসিক (হায়েয) অধ্যায়টি সাধারণত সবচেয়ে বড় হয়ে থাকে। এটি কঠিন হয়ে যায় কারণ এতে বহু পরিস্থিতি থাকে এবং প্রতিটি পরিস্থিতির জন্য নির্দিষ্ট হুকুম রয়েছে।
গর্ভাবস্থায় মাসিক হয় না। এই সময়ে কোনো রক্ত দেখা গেলে তা মাসিকের রক্ত নয়। ৫০ বছর বয়সের পরে (এ নিয়ে মতভেদ রয়েছে, যেমন ইবন কুদামা বলেছেন ৬০ বছর পর্যন্তও নারীরা মাসিক করতে পারে) এবং ৯ বছরের আগে যদি কোনো রক্ত দেখা যায়, তবে তা মাসিক নয়।
মাসিকের সর্বনিম্ন সময়সীমা এক দিন এক রাত, অর্থাৎ ২৪ ঘণ্টা। যদি কেউ মাত্র এক ঘণ্টা বা অল্প সময়ের জন্য রক্ত দেখে, তবে তা মাসিক নয় এবং তার ইবাদত শুদ্ধ। হানাফি মতে সর্বনিম্ন সময় ৭২ ঘণ্টা। সর্বোচ্চ সময়সীমা ১৫ দিন।
যদি বলা হয়, একজন নারী ১৫ দিন মাসিক করেছেন, তাহলে ধরে নিতে হয় তিনি জীবনের অর্ধেক সময় মাসিক করেছেন। কোনো স্বাভাবিক নারীর ক্ষেত্রে ১৫ দিনের বেশি মাসিক হওয়ার নজির পাওয়া যায়নি।
গড়ে একজন নারীর মাসিক সাধারণত ৬-৭ দিন স্থায়ী হয়।
দুইটি মাসিক চক্রের মাঝে পবিত্রতার সর্বনিম্ন সময় ১৩ দিন। অতএব, যদি একজন নারী ৬ দিন মাসিক করেন এবং এরপর ৬ দিন পবিত্র থাকেন, তারপর আবার রক্ত দেখেন, তবে তা মাসিক নয়। এটি আলী ইবন আবি তালিব رضي الله عنه-এর বর্ণনার ভিত্তিতে।
পবিত্রতার কোনো সর্বোচ্চ সীমা নেই। যতক্ষণ রক্ত দেখা না যায়, ততক্ষণ সে পবিত্র।
এখানে কেবল আমলের শুদ্ধতার প্রশ্ন নয়—শরীয়তের দৃষ্টিতে মাসিকের সময় নারীর জন্য রোযা ও নামাজ হারাম। তিনি নামাজের কাজা করতে বাধ্য নন, কিন্তু রোযার কাজা করতে হবে।
মাসিককালীন নারীর সঙ্গে সহবাস করা হারাম—এ বিষয়ে ইজমা রয়েছে। তবে প্রবেশ ছাড়া অন্য কোনো উপভোগ বৈধ। মাসিক মানে এই নয় যে নারী অশুচি বা দূরে সরিয়ে রাখার কেউ, যেমনটি অনেক সমাজে ভাবা হয়।
যদি কেউ এই সময়ে সহবাস করে, তবে তাকে কাফফারা দিতে হবে—এক দিনার স্বর্ণ বা অর্ধ দিনার।
১ দিনার স্বর্ণ = আনুমানিক ৪.২৫ গ্রাম স্বর্ণ (প্রায় ১৩০ ব্রিটিশ পাউন্ড)। স্বর্ণের মূল্য ওঠানামা করে, তাই কাফফারা দেওয়ার আগে তা যাচাই করতে হবে। এটি হাম্বলি মাযহাবের একক মত। অন্য তিন মাযহাব বলেন, কাফফারা নেই, তবে এ কাজ গুনাহের।
বেশিরভাগ আলেম বলেন, যদি কেউ প্রবল কামনা অনুভব করে এবং নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে না পারে, তবে তার জন্য মাসিকরত স্ত্রীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা করা জায়েজ নয়। এ সময় স্ত্রী নাভি থেকে হাঁটু পর্যন্ত নিজেকে ঢেকে রাখবে এবং তারা বাকি অংশে একে অপরকে উপভোগ করতে পারবে। হাম্বলি মাযহাব এ বিষয়ে কিছুটা শিথিল, তারা বলেন—যতক্ষণ না সহবাস হয়, ততক্ষণ পর্যন্ত উপভোগ বৈধ।
যখন একজন নারী প্রথমবার মাসিক দেখতে শুরু করে, হাম্বলি মাযহাব মতে, তাকে এক দিন এক রাত অপেক্ষা করতে হবে। এ সময় অন্য কোনো ইবাদত না করে ২৪ ঘণ্টা পরে গোসল করে নামাজ, রোযা এবং অন্যান্য ফরজ ইবাদত আদায় করবে। তখনো তার চক্র পরিষ্কার নয়, আর যেটা ফরজ, সেটি এমন কোনো অনির্দিষ্ট বিষয়ে ছেড়ে দেওয়া যায় না।
যদি এই রক্তপাত ১৫ দিনের মধ্যে বন্ধ হয়, তাহলে বন্ধ হওয়ার পর গোসল করে। যদি এই রকম পরিস্থিতি টানা তিন মাস বা তিনটি চক্রে ঘটে, তবে এটিকে তার স্বাভাবিক চক্র হিসেবে গণ্য করা হয়।
উদাহরণস্বরূপ:
মাস ১: ৫ দিন মাসিক
মাস ২: ৬ দিন মাসিক
মাস ৩: ৫ দিন মাসিক
তাহলে বলা হয়, তার স্বাভাবিক চক্র ৫ দিন, এক দিন কমবেশি হতে পারে। যতক্ষণ না এটি ৩ বার পুনরাবৃত্তি হয়, ততক্ষণ তা নিয়মিত চক্র হিসেবে বিবেচিত হয় না। অন্যথায় এটি অনিয়মিত রক্তপাত হিসেবে ধরা হয়, যদিও এটি সাধারণত বিরল।
যদি তার প্রথম মাসিক রমযানে ঘটে এবং সে নিজ চক্র না জেনে রোযা রেখেছিল, তবে সেই রোযাগুলো তাকে পুনরায় রাখতে হবে।
যদি রক্তপাত ১৫ দিনের সীমা অতিক্রম করে, তবে তা অনিয়মিত রক্তপাত (ইস্তিহাদা) বলে গণ্য হবে। যদি সে মাসিক রক্তকে অন্যান্য রক্ত থেকে আলাদা করতে পারে, তবে তা অনুসরণ করবে। যদি পার্থক্য করতে না পারে, তাহলে সে সর্বনিম্ন ২৪ ঘণ্টা বসে থাকবে, এরপর গোসল করে নামাজ, রোযা ইত্যাদি আদায় করবে।
যদি এই অনিয়মিততা ৩ মাস চলতে থাকে, তবে বুঝে নিতে হবে এটি তার স্বাভাবিক চক্র নয়। সে তখন পরিবারের অন্য নারীদের গড় অনুযায়ী (ধরা যাক ৫ বা ৬ দিন) মাসিক গণ্য করবে। এরপর যে রক্ত আসবে, তা ইস্তিহাদা হিসেবে গণ্য হবে।
যদি তার চক্র নির্দিষ্ট হয়ে যায় এবং কোনো কারণে তিনি তার স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে বেশি দিন রক্ত দেখতে পান, তাহলে তাকে তার স্বাভাবিক চক্র মেনে চলতে হবে এবং বাকি সময় ইস্তিহাদা হিসেবে গণ্য করতে হবে। তিনি পবিত্র স্থান ধুয়ে ফেলে প্যাড ব্যবহার করে প্রতিটি নামাজের জন্য ওজু করে নামাজ পড়বেন, কুরআন পড়বেন, ইত্যাদি। প্রতিবার নামাজের সময় নতুন করে ওজু করতে হবে।
প্রসব-পরবর্তী রক্তপাতের (নিফাস) সর্বোচ্চ সময় ৪০ দিন। এর পর রক্ত এলে তা ইস্তিহাদা বলে গণ্য হবে। যদি তা এর আগে বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে পূর্ণ ৪০ দিন অপেক্ষা করতে হবে না, রক্ত বন্ধ হওয়ামাত্রই পবিত্র বলে ধরা হবে। হাম্বলি মাযহাব মতে, এই সময় সহবাস মাকরূহ, কারণ রক্তপতন পুনরায় ফিরে আসতে পারে।
নিফাসের বিধান মাসিকের মতো, ব্যতিক্রম শুধু ইদ্দত ও বালেগ হওয়ার ক্ষেত্রে।
আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, মালয়েশিয়া
২৪ জুমাদা আল-আউয়াল ১৪৩৯
উৎস:
হাম্বলি প্রাইমার “আখসার আল-মুখতসরাত” ইবনে বলবান আল-হাম্বলি কর্তৃক, শেখ জাহেদ ফেত্তাহ (حفظه الله) ও শেখ ডঃ মুহাম্মদ বিন গামাল আল-হাম্বলি (حفظه الله) এর তত্ত্বাবধানে।








No Comment! Be the first one.