জয়নুল আবেদীন আলী ইবনে হুসাইন رضي الله عنه , যিনি ছিলেন রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর প্রপৌত্র, তিনি বলেন:
“ আমাদের নবি ﷺ–এর গাজওয়া (যুদ্ধ অভিযান) ও তাঁর প্রেরিত বাহিনীগুলোর বিবরণও এমনভাবে শেখানো হতো যেমন আমাদেরক কুরআনের একটি সূরা শেখানো হতো।” [আল-জামি লি আখলাকির রাওয়ী]
ইসমাইল ইবনে মুহাম্মদ, যিনি সাহাবি সা‘দ ইবনে আবী ওয়াক্কাস رضي الله عنه-এর দৌহিত্র, বর্ণনা করেন, “আমার পিতা আমাদের নবি ﷺ–এর সীরাত, তাঁর যুদ্ধ ও গাজওয়া শেখাতেন এবং বলতেন, ‘হে আমার সন্তানগণ, এটি তোমাদের পূর্বপুরুষদের সম্মান—এটি স্মরণ করতে ভুলে যেও না!’”
সীরাতের প্রথম লেখকদের একজন ইমাম আয-যুহরী رحمه الله বলেন: “সীরাতের মধ্যে দুনিয়া ও আখিরাত—দু’টো জীবনেরই সর্বোত্তম শিক্ষা রয়েছে।”
আল্লাহ তাআলা বলেন:
لَّقَدْ كَانَ لَكُمْ فِى رَسُولِ ٱللَّهِ أُسْوَةٌ حَسَنَةٌۭ لِّمَن كَانَ يَرْجُوا۟ ٱللَّهَ وَٱلْيَوْمَ ٱلْـَٔاخِرَ وَذَكَرَ ٱللَّهَ كَثِيرًۭا
“নিশ্চয়ই তোমাদের জন্য রাসূলুল্লাহ ﷺ–এর জীবনে রয়েছে উত্তম আদর্শ, তার জন্য, যে আল্লাহ ও আখিরাত দিবসের আশা রাখে এবং আল্লাহকে অধিক স্মরণ করে।” [সূরা আহযাব, ২১]
আল্লাহ তা’আলা কুরআনে রাসূলুল্লাহ ﷺ–এর জীবন নিয়ে শপথ করে উল্লেখ করেছেন, এটি এমন একটি জীবন, যা অসংখ্য প্রজন্মকে জীবন দান করেছে। এটি এমন এক সীরাত, যার সুধা পান করে ইতিহাসের অসংখ্য মানুষের জীবন সিক্ত হয়েছে। কতটাই না নিখুঁত ও পূর্ণাঙ্গ সে জীবন, যার উপর আল্লাহ নিজে সাত আসমানের ওপর থেকে শপথ করেছেন!
নবি ﷺ–এর সীরাত পাঠ ও অনুধাবন হৃদয়ে আনে প্রশান্তি, স্থিতি ও নির্ভরতা। এ সীরাতের অন্যতম মু’জিযা হলো—আপনি যে দৃষ্টিভঙ্গি থেকেই এ জীবনের দিকে তাকান না কেন, আপনি আপনার জন্য একটি আদর্শ দেখতে পাবেন। প্রতিটি কোণ থেকে এটি নিখুঁত ও পূর্ণতা ছড়িয়ে দেয়। তা সে স্বামী, শিক্ষক কিংবা রাজনৈতিক নেতা যেই হোক না কেন—এ জীবনে আপনি তার জন্য আদর্শ খুঁজে পাবেন। অন্য কোনো মানুষের জীবনে আপনি যদি একটি দিক থেকে ভালো কিছু পান, তবে অন্য দিক থেকে দুর্বলতা পাবেনই। কিন্তু আল্লাহ তা’আলা আমাদের রাসূলের জীবনে এমন গুণাবলি একত্রিত করেছেন— এমন পূর্ণতা অন্য কারো মধ্যে খুঁজে পাওয়া সম্ভব নয়।
আল্লাহর সবচেয়ে বড় নেয়ামতের মধ্যে একটি হলো—নবি ﷺ–এর জীবন অত্যন্ত বিস্তারিতভাবে সংরক্ষিত হয়েছে। এমনকি সাহাবিরা এরকম বর্ণনাও করেছেন: “এরপর রাসূলুল্লাহ ﷺ নীরব হয়ে গেলেন।” — [আহমদ]
এটি এমন এক নিখুঁত ও সত্যায়িত দলিল, যাতে তাঁর নীরবতাও লিপিবদ্ধ হয়েছে!
আমরা জানি তাঁর প্রকাশ্য জীবনের সাথে তাঁর ব্যক্তিগত জীবনের সূক্ষ্মতম দিকগুলোও সংরক্ষণ করা হয়েছে। আমরা জানি যে, যখন তিনি ইন্তিকাল করেন, তখন তাঁর দাড়িতে ২০টি সাদা চুল ছিল। আমরা জানি, তাঁর স্যান্ডেলে দুইটি ফিতা ছিল, এমনকি আরও কত কিছুই জানা যায়!
একবার কেউ সলমান আল-ফারসিকে বিদ্রূপ করে বলল, “তোমাদের সাথী তো তোমাদের সবকিছু শিখিয়ে দেন, এমনকি কিভাবে পায়খানা করতে হয় সেটাও!” সলমান رضي الله عنه এতে অপমানিত হননি, বরং গর্বভরে উত্তর দিলেন,
“হ্যাঁ, ঠিক তাই। তিনি আমাদের নিষেধ করেছেন ডান হাতে মল পরিষ্কার করতে, (ইস্তিঞ্জার সময়) কিবলামুখী হয়ে বসতে, গোবর বা হাড় দিয়ে তা পরিস্কার করতে। তিনি বলেছেন, তিন বা ততোধিক পাথর ব্যবহার করতে হবে।” [সহিহ মুসলিম]
নিচে রাসুলুল্লাহ ﷺ–এর সিরাহ বা জীবনি থেকে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলোর একটি সংক্ষিপ্ত সময়রেখা উপস্থাপন করার ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা করা হয়েছে। এখানে আমরা কেবলমাত্র প্রধান ঘটনাগুলোকেই অন্তর্ভুক্ত করেছি। তবে, উল্লেখ্য যে কিছু তারিখ ও মাস নিয়ে আলেমদের মাঝে মতভেদ আছে, কিন্তু এতে সামগ্রিকভাবে সীরাত বুঝতে কোনো বড় প্রভাব পড়ে না।
কিছু সীরাত বিশারদ রাসুলুল্লাহ ﷺ–এর মদিনায় আগমনের (রবিউল আউয়াল মাসে) সময় থেকে বছর গণনা শুরু করেন, আর অধিকাংশ অন্যান্য বিশারদরা মুহাররাম মাস থেকে হিজরি বর্ষ গণনা শুরু করেন। এ কারণে বিভিন্ন আলেমদের বইয়ে কিছুটা পার্থক্য দেখা যায়।
এই গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলো ধারাবাহিকভাবে পড়লে সীরাতকে এক নতুন দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখা যাবে এবং এর প্রতি কৃতজ্ঞতা বাড়বে। এই বরকতপূর্ণ সীরাত, জ্ঞান ও হিকমতের এক অফুরন্ত খনি, যা যতবারই পড়া হোক না কেন, নতুন কিছু শেখা যায়।
আমাদের ইমাম, আহমাদ ইবনে হাম্বাল رحمه الله বলেছেন: “তিন বিষয়ে ইসনাদ (সনদ) থাকে না—তাফসির, মালাহিম (আখেরি যুগের ভবিষ্যদ্বাণীসমূহ), ও মাগাজি (নবিজীর যুদ্ধসমূহ)। কারণ এসব বিষয়ে অধিকাংশ বর্ণনা মারাসিল (মুরসাল বর্ণনা) হিসেবে এসেছে, যেমন উরওয়াহ ইবনে যুবাইর, আশ-শা’বি, আয-যুহরি, মূসা ইবনে উক্বাহ এবং ইবনে ইসহাকের বর্ণনা।” [মাজমু’ আল-ফাতাওয়া]
মাক্কি যুগের ঘটনা:
- রাসুলুল্লাহ ﷺ সোমবার, রবিউল আউয়াল মাসে, হিজরতের ৫২ পূর্বে ফজরের সময় জন্মগ্রহণ করেন; হাস্তিবাহিনীর আক্রমণের ঘটনার ৫০ দিন পর।
- তাঁর বক্ষ প্রথমবার বিদীর্ণ হয় হিজরতের ৪৮ বছর পূর্বে, যখন তাঁর বয়স ছিল ৪ বছর।
- হিজরতের ৪৬ বছর পূর্বে তাঁর মা আমিনা মারা যান; তখন তাঁর বয়স ছিল ৬ বছর।
- হিজরতের ৪৪ বছর পূর্বে তাঁর দাদা আব্দুল মুত্তালিব ইন্তিকাল করেন; তখন তাঁর বয়স ছিল ৮ বছর।
- হিজরতের ৩৯–৪০ বছর পূর্বে, ১২ বছর বয়সে তিনি আবু তালিবের সাথে প্রথমবার শামে সফর করেন।
- ৩১ বছর পূর্বে তিনি হিলফুল ফুযুল চুক্তিতে অংশগ্রহণ করেন।
- ৩৯–২৭ -এর মাঝে তিনি ১২ থেকে ২৫ বছর বয়সে মক্কায় রাখাল হিসেবে কাজ করেন।
- ২৮–২৭ এর মাঝে সফর মাসে ২৫ বছর বয়সে খাদিজা বিনতে খুওয়াইলিদ رضي الله عنها–কে বিয়ে করেন। এটি ছিল নবুয়তের ১৫ বছর পূর্বে।
- হিজরতের ২৮ বছর পূর্ব থেকে ১৩ তম বছর পর্যন্ত ব্যবসায়িক কাজে সক্রিয় ছিলেন।
- ২২ বছর পূর্বে তাঁর কন্যা জয়নব رضي الله عنها জন্মগ্রহণ করেন; তখন তাঁর বয়স ছিল ৩০ বছর।
- ২০ বছর পূর্বে রুকাইয়া رضي الله عنها জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৯ বছর পূর্বে উম্মে কুলসুম رضي الله عنها জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৭ বছর পূর্বে ফাতিমা رضي الله عنها জন্মগ্রহণ করেন।
- হিজরতের ১৭ বছর পূর্বে কা’বাহ পুনঃনির্মাণে অংশগ্রহণ করেন।
- নবুয়তের ৬ মাস পূর্বে মক্কার পাথর ও গাছ তাঁকে সালাম দিত এবং তিনি যে স্বপ্ন দেখতেন তা পরদিন বাস্তব হতো।
- ১২ বছর পূর্বে, সোমবার, রবিউল আউয়াল অথবা রমাদান মাসে, হেরা গুহায় ৪০ বছর বয়সে নবুয়তের দায়িত্ব লাভ করেন।
- জিবরাইল عليه السلام তাঁকে ওজু ও সালাতের পদ্ধতি শেখান। তখন মুসলমানরা সূর্যোদয়ের আগে ২ রাকাত (তাহাজ্জুদ) ও সূর্যাস্তের আগে ২ রাকাত সালাত পড়তেন।
- ওহির ২০ দিন পর আসমান থেকে খবর চুরি করতে চাওয়া শয়তানদের বিরুদ্ধে আগুন ও উল্কাবৃষ্টি ব্যবহার করা শুরু হয়।
- প্রথমদিককার মুসলমানরা আশুরার দিন ও প্রতি মাসে ৩ দিন সিয়াম রাখতেন, যা পরে ঐচ্ছিক করে দেওয়া হয়।
- হিজরতপূর্ব ১২ থেকে ৯ পর্যন্ত ইসলাম প্রচারের গোপন সময় চলছিল।
- হিজরতপূর্ব ৯ বছরে সাফা পাহাড়ে প্রকাশ্যভাবে ইসলাম প্রচার শুরু করেন।
- ইসলামের প্রথম শহিদ ছিলেন সুমাইয়া رضي الله عنها, যিনি হিজরতের ৭ বছর পূর্বে শাহাদাত বরণ করেন।
- ৭ বছর পূর্বে রজব মাসে সাহাবারা প্রথমবার হাবশায় হিজরত (১২ পুরুষ ও ৪ মহিলা) করেন।
- ৭ বছর পূর্বে শাওয়াল মাসে হাবশা দ্বিতীয় হিজরত (৮৩ পুরুষ ও ১৮–১৯ মহিলা) হয়।
- হিজরতপূর্ব ৬ষ্ঠ বছরে জিলহজ মাসে হামজা رضي الله عنه ও উমর رضي الله عنه ইসলাম গ্রহণ করেন।
- ৫ম–৩য় পর্যন্ত বনি হাশিম ও বনি মুত্তালিবদের ওপর কুরাইশদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক বয়কট চলে।
- ৩য় বছরে শাবান বা রমাদানে আবু তালিব ইন্তিকাল করেন।
- একই বছর রমজান মাসে খাদিজা رضي الله عنها ইন্তিকাল করেন।
- একই মাসে তিনি সওদা বিনতে জমআহ رضي الله عنها–কে বিয়ে করেন।
- ৪র্থ–৩য় বছরে কুরাইশদের অনুরোধে রাসুল ﷺ চাঁদ দ্বিখণ্ডিত করেন।
- ৩য় বছরের শাওয়াল মাসে তায়েফ সফর করেন।
- একই মাসে নুসাইবিনের একদল জিন নাহলা উপত্যকায় কুরআন শুনে ইসলাম গ্রহণ করেন।
- ৩য় বছরের শাওয়াল মাসে আয়েশা رضي الله عنها–কে বিয়ে করেন।
- ১.৫–২য় বছরে মি’রাজের পূর্বে তাঁর বক্ষ বিদীর্ণ হয়।
- ১.৫–২য় বছরের মাঝে তিনি মি’রাজে গমন করেন; তখন তাঁর বয়স ছিল ৫১.৯ বছর।
- সেই রাতে পাঁচ ওয়াক্ত সালাত ফরজ হয়, তাহাজ্জুদ ঐচ্ছিক হয়। সব সালাত ছিল ২ রাকাত করে।
- পরদিন জিবরাইল عليه السلام এসে সূর্য মাঝ আকাশে যাওয়ার পর সালাতের সময় ও পদ্ধতি শেখান।
- হিজরতের ১ বছর পূর্বে জিলহজ মাসে প্রথম আকাবা বাইআত সম্পন্ন হয়।
- একই মাসে মুসআব ইবনে উমায়ের رضي الله عنه কে ইয়াসরিবে ইসলাম প্রচারের প্রথম দূত হিসেবে পাঠানো হয়।
- নবুয়তের ১৩ তম বছরে দ্বিতীয় আকাবা বাইআত হয়। তখন রাসুল ﷺ–এর বয়স ছিল ৫২ বছর।
- নবুয়তের ১৩ তম বছর, সফর মাসের শেষ বা রবিউল আউয়ালের শুরুতে রাসুল ﷺ আবু বকর رضي الله عنه–কে সঙ্গে নিয়ে মক্কা থেকে হিজরত করেন।
- নবুয়তের ১৪ তম বছর, রবিউল আউয়াল মাসের ৮ বা ১২ তারিখ, সোমবার, ক্বুবা এলাকায় পৌঁছান। সেটাই ছিল ১ হিজরি।
মাদানি যুগের ঘটনা:
- নবি মুহাম্মদ ﷺ হিজরতের পর রবি আল-আউয়াল ১ম হিজরিতে বনি আমর ইবনে আওফ এলাকায় মসজিদ কুবা নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন, যা ইসলামের প্রথম মসজিদ।
- ১ম হিজরিতে রবি আল-আউয়াল বা রবি আস-সানি মাসে নবি ﷺ বনি সালিম ইবনে আওফ এলাকায় প্রথম জুমার নামাজ আদায় করেন।
- ১ম হিজরিতে রবি আল-আউয়াল বা রবি আস-সানি মাসে মসজিদে নববি নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়।
- ১ম হিজরিতে নবি ﷺ তাঁর পরিবারবাসীর জন্য প্রথম ঘর নির্মাণ করেন, যা ছিল সাওদা رضي الله عنها -এর ঘর।
- নবি ﷺ শাওয়াল ১ম হিজরিতে আয়েশা رضي الله عنها -এর সঙ্গে দাম্পত্য সম্পর্ক পূর্ণ করেন।
- ১ম হিজরিতে আজান ফরজ করা হয়।
- ১ম হিজরিতে বাসিন্দাদের জন্য পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের রাকাআত সংখ্যা বাড়িয়ে চারটি করা হয় (ফজর ও মাগরিব ব্যতীত)।
- ১ম হিজরিতে জিহাদের অনুমতি দেওয়া হয়।
- ২য় হিজরিতে সফর মাসে গাযওয়া আল-আবওয়া সংঘটিত হয় — এটি ছিল মুসলমানদের প্রথম সামরিক অভিযান।
- ২য় হিজরিতে রজব মাসে কিবলা বদল করে বাইতুল মুকাদ্দাস থেকে কাবার দিকে করা হয়।
- ২য় হিজরিতে শাবান মাসে রমজানের রোজা ফরজ হয়।
- ২য় হিজরিতে রমজান মাসে বদর الكبرى যুদ্ধ হয় — এতে ৩১৩ জন সাহাবি অংশ নেন।
- নবি ﷺ-র কন্যা রুকাইয়া رضي الله عنها ২য় হিজরিতে রমজান মাসে ইন্তেকাল করেন।
- ২য় হিজরিতে রমজান মাসে ফিতরার যাকাত ফরজ হয়।
- ২য় হিজরিতে সম্পদের যাকাত ফরজ হয়।
- নবি ﷺ-র চাচা আব্বাস رضي الله عنه ২য় হিজরিতে রমজান বা শাওয়াল মাসে ইসলাম গ্রহণ করেন।
- ১ম হিজরিতে রজব মাসে ফাতিমা رضي الله عنها -এর সঙ্গে আলী رضي الله عنه -এর বিয়ে হয় এবং বদরের যুদ্ধের পর ২য় হিজরিতে দাম্পত্য সম্পর্ক পূর্ণ হয়।
- ২য় হিজরিতে শাওয়াল মাসে বানু কায়নুকা মদিনা থেকে বহিষ্কৃত হয়।
- ২য় হিজরিতে জিলহজ মাসে কুলসুম ইবনে হাদম ও উসমান ইবনে মাজউন رضي الله عنه -এর মৃত্যুর পর জান্নাতুল বাকি কবরস্থান প্রতিষ্ঠিত হয়।
- ২য় হিজরিতে জিলহজ মাসে প্রথমবার ঈদুল আযহা উদযাপন ও কুরবানি দেওয়া হয়।
- ৩য় হিজরিতে উসমান ইবনে আফফান رضي الله عنه -এর সঙ্গে উম্মে কুলসুম رضي الله عنها -এর বিয়ে হয়।
- ৩য় হিজরিতে শাবান মাসে হাফসা رضي الله عنها -এর সঙ্গে নবি ﷺ- এর বিয়ে হয়।
- ৩য় হিজরিতে রমজান মাসে যায়নাব বিনতে খুযায়মা رضي الله عنها -এর সঙ্গে বিয়ে হয়।
- ৩য় হিজরিতে রমজান মাসে হাসান ইবনে আলী رضي الله عنه জন্মগ্রহণ করেন।
- ৩য় হিজরিতে শাওয়াল মাসে ওহুদের যুদ্ধ সংঘটিত হয়, এতে ৬৫০-৭০০ জন সাহাবি অংশ নেন।
- ৪র্থ হিজরিতে রবিউস সানি মাসে যয়নাব বিনতে খুযায়মা رضي الله عنها ইন্তেকাল করেন।
- ৪র্থ হিজরিতে নবি ﷺ-র দৌহিত্র আবদুল্লাহ ইবনে উসমান ইন্তেকাল করেন।
- ৪র্থ হিজরিতে শাবান মাসে দাত আর-রিকাআ যুদ্ধ সংঘটিত হয়, এতে ৪০০-৭০০ জন সাহাবি অংশ নেন।
- ৪র্থ হিজরিতে শাওয়াল মাসে বানু নাযির গোত্রকে ঘেরাও ও বহিষ্কার করা হয়।
- ৪র্থ হিজরিতে শাওয়াল মাসে উম্মে সালামা رضي الله عنها -এর সঙ্গে নবি ﷺ-এর বিয়ে হয়।
- ৪র্থ হিজরিতে মদ্যপান হারাম করা হয়।
- ৪র্থ হিজরিতে রমজান মাসে হুসাইন ইবনে আলী رضي الله عنه জন্মগ্রহণ করেন।
- ৪র্থ হিজরিতে তায়াম্মুমের বিধান আসে।
- ৫ম হিজরিতে জুমাদা সানি মাসে প্রথমবার সূর্যগ্রহণ নামাজ আদায় করা হয়।
- ৫ম হিজরিতে শাওয়াল মাসে খন্দকের যুদ্ধ সংঘটিত হয়, এতে ৩০০০ সাহাবি অংশ নেন।
- ৫ম হিজরিতে জিলক্বদ মাসে বানু কুরাইযা ঘেরাও করা হয়।
- ৫ম হিজরিতে জিলক্বদ মাসে যায়নাব বিনতে জাহশ رضي الله عنها -এর সঙ্গে নবি ﷺ-এর বিবাহ আল্লাহ কর্তৃক নির্ধারিত হয়।
- ৫ম হিজরিতে হিজাবের বিধান আসে।
- ৫ম হিজরিতে শাবান মাসে বনি মুস্তালিক যুদ্ধ সংঘটিত হয়।
- আয়েশা رضي الله عنها -কে নিয়ে অপবাদের ঘটনা ৫ বা ৬ হিজরিতে শাবান মাসে ঘটে।
- ৫ম হিজরিতে নবি ﷺ রাইহানা বিনতে যায়দকে দাসী হিসেবে গ্রহণ করেন।
- ৬ষ্ঠ হিজরিতে শাবান মাসে জুয়াইরিয়া বিনতে হারিস رضي الله عنها -এর সঙ্গে নবি ﷺ-এর বিবাহ হয়।
- ৬ষ্ঠ হিজরিতে জিলক্বদ মাসে নবি ﷺ বনি লাহইয়ানের যুদ্ধে ভ্রমণের দোয়া শিক্ষা দেন।
- ৬ষ্ঠ হিজরিতে জিলক্বদ মাসে উসফানে যুদ্ধের সময় সালাতুল খাওফ (ভয়ের নামাজ) ফরজ হয়।
- ৬ষ্ঠ হিজরিতে জিলক্বদ মাসে রিজওয়ানের অঙ্গীকার ও হুদায়বিয়ার সন্ধি হয়, এতে ১৪০০ জন সাহাবি অংশ নেন।
- ৬ষ্ঠ হিজরিতে নবি ﷺ উম্মে হাবিবা رضي الله عنها -এর সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন, যিনি তখন হাবশায় ছিলেন।
- ৭ম হিজরিতে মুহাররম মাসে ইহুদিদের এক জাদুর প্রভাবে নবি ﷺ আক্রান্ত হন এবং এই সময় ওহি বন্ধ ছিল।
- ৭ম হিজরিতে ও পরবর্তীতে মুহাররম মাসে নবি ﷺ ২২-২৫টি রাষ্ট্রীয় পত্র প্রেরণ করেন।
- ৬ষ্ঠ হিজরিতে মুসলিম নারীদের কাফের পুরুষদের সঙ্গে বিয়ে নিষিদ্ধ হয়।
- ৭ম হিজরিতে জিলক্বদ মাসে নবি ﷺ উমরাহ ক্বাযা সম্পন্ন করেন।
- ৭ম হিজরিতে রবিউল আউয়াল মাসে খায়বার যুদ্ধ হয়, এতে ১৪২০ জন সাহাবি অংশ নেন এবং ২০ জন মহিলা অংশ নেন।
- ৭ম হিজরিতে রবিউল আউয়াল মাসে হাবশা থেকে মুসলিমদের শেষ দল মদিনায় পৌঁছায়।
- ৭ম হিজরিতে নবি ﷺ ইহুদিদের দেওয়া বিষে আক্রান্ত হন।
- ৭ম হিজরিতে গৃহপালিত গাধার মাংস হারাম করা হয়।
- ৭ম হিজরিতে মুত’আ বিয়ে নিষিদ্ধ করা হয়।
- ৭ম হিজরিতে রবিউল আউয়াল মাসে নবি ﷺ সফিয়া বিনতে হুয়াই رضي الله عنها -এর সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন।
- ৭ম হিজরিতে রবিউস সানি মাসে নবি ﷺ সাগরের খাবার (আনবার মাছ) খান।
- ৭ম হিজরিতে জিলক্বদ মাসে নবি ﷺ মায়মূনা বিনতে হারিস رضي الله عنها -এর সঙ্গে বিবাহ করেন।
- ৭ম হিজরিতে নবি ﷺ মিশরের শাসক আল-মুকাউকিস কর্তৃক উপহার স্বরূপ মারিয়া আল-কিবতিয়া নামের এক দাসী গ্রহণ করেন।
- ৭ম হিজরিতে মসজিদে নববি প্রথমবার সম্প্রসারিত হয়।
- ৮ম হিজরির শুরুতে নবি ﷺ-র কন্যা যায়নাব رضي الله عنها ইন্তেকাল করেন।
- ৮ম হিজরিতে নবি ﷺ-র জন্য প্রথম মিম্বার তৈরি করা হয়।
- ৮ম হিজরির শেষভাগে নবি ﷺ-র পুত্র ইব্রাহিম رضي الله عنه জন্মগ্রহণ করেন।
- ৮ম হিজরিতে জুমাদাল উলা মাসে মুতা’ যুদ্ধ হয়, এতে ৩০০০ সাহাবি অংশ নেন।
- ৮ম হিজরিতে রমজান মাসে মক্কা বিজয় হয়, এতে ১০,০০০ সাহাবি অংশ নেন।
- ৮ম হিজরিতে শাওয়াল মাসে হুনাইনের যুদ্ধ ও তায়েফ অবরোধ হয় — এতে ১২,০০০ মুসলিম অংশ নেন।
- ৮ম হিজরিতে জিলক্বদ মাসে নবি ﷺ উমরাহ জাররানাহ আদায় করেন।
- ৯ম হিজরিতে রজব মাসে তাবুক যুদ্ধ হয় — এতে ৩০,০০০ সাহাবি অংশ নেন।
- ৯ম হিজরিতে তাবুক থেকে ফেরার সময় নবি ﷺ-র আদেশে মসজিদে দিরার ধ্বংস করা হয়।
- ৯ম বা ১০ম হিজরিতে হজ ফরজ হয়।
- ৯ম হিজরিকে “আমুল উফুদ” বলা হয়, কারণ আরবের বিভিন্ন প্রতিনিধি নবি ﷺ-র কাছে আসে।
- ৯ম হিজরিতে নবি ﷺ মদিনার মুসলিমদের নিয়ে নাজাশির জন্য গায়েবানা জানাজা পড়ান।
- ৯ম হিজরিতে মু’আয ইবনে জাবাল رضي الله عنه -কে ইয়ামানে পাঠানো হয়।
- ৯ম হিজরিতে জিলহজ মাসে আবু বকর رضي الله عنه -কে হজের আমির নিযুক্ত করা হয় এবং আলী رضي الله عنه -কে পাঠানো হয় ঘোষণা করতে যে কাফেরদের পরবর্তী বছর থেকে হজে অংশ নিতে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
- ৯ম হিজরিতে শাবান মাসে নবি ﷺ-র কন্যা উম্মে কুলসুম رضي الله عنها ইন্তেকাল করেন।
- ১০ম হিজরিতে জিলহজ মাসে নবি ﷺ উমরাহ ও হজ সম্পন্ন করেন।
- ১০ম হিজরিতে রবিউল আউয়াল মাসে নবি ﷺ-র পুত্র ইব্রাহিম رضي الله عنه ইন্তেকাল করেন।
- ১০ম হিজরিতে তাঁর দাসী রাইহানা ইন্তেকাল করেন, যা নবি ﷺ-র ইন্তেকালের ছয় মাস পূর্বে।
- ১১ হিজরিতে সফর মাসে নবি ﷺ-র জীবনের শেষ খুতবা হয়, যখন তিনি অসুস্থ ছিলেন।
- সোমবার, ১২ রবিউল আউয়াল ১১ হিজরিতে নবি ﷺ ইন্তেকাল করেন।
- সোমবার, ১৩ রবিউল আউয়াল ১১ হিজরিতে সাহাবিরা আবু বকর رضي الله عنه -কে খলিফা হিসেবে বায়আত করেন।
- ১১ হিজরিতে রমজান মাসে ফাতিমা رضي الله عنها ইন্তেকাল করেন।
- ১১ হিজরিতে ইয়ামামার যুদ্ধে শহিদদের কারণে প্রথমবার কুরআন সংকলন শুরু হয়।
- ১২ হিজরিতে নবি ﷺ-র দৌহিত্র উমামা رضي الله عنها -এর সঙ্গে আলী رضي الله عنه -এর বিয়ে হয়।
- ১৩ হিজরিতে জুমাদাল আখিরা মাসে আবু বকর رضي الله عنه ইন্তেকাল করেন।
- ১৭ হিজরিতে ওমর رضي الله عنه -এর খিলাফতে হিজরি বর্ষপঞ্জি প্রবর্তন করা হয়।
- ১৭ হিজরিতে নবি ﷺ-র দৌহিত্র উম্মে কুলসুম বিনতে আলী رضي الله عنها -এর সঙ্গে ওমর رضي الله عنه -এর বিয়ে হয়।
- ২৩ হিজরিতে জিলহজ মাসে ওমর رضي الله عنه শহিদ হন।
- ৩৫ হিজরিতে জিলহজ মাসে উসমান رضي الله عنه শহিদ হন।
- ৪০ হিজরিতে রমজান মাসে আলী رضي الله عنه শহিদ হন।
- ৪৯ হিজরিতে রবিউল আউয়াল মাসে হাসান رضي الله عنه ইন্তেকাল করেন।
- ৬১ হিজরিতে মুহাররম মাসে হুসাইন رضي الله عنه শহিদ হন।
উমর ইবনে খাত্তাব رضي الله عنه -এর একটি দোয়া দিয়ে এই সংকলনের সমাপ্তি টানা হলো,
اللَّهُمَّ ارْزُقْنِي شَهَادَةً فِي سَبِيلِكَ، وَاجْعَلْ مَوْتِي فِي بَلَدِ رَسُولِكَ صلى الله عليه وسلم
“হে আল্লাহ! আমাকে আপনার রাস্তায় শহিদ হওয়ার তাওফিক দিন এবং আপনার রাসুল ﷺ-এর নগরীতেই আমাকে মৃত্যু দিন।” [সহিহ বুখারি]
সূত্র: Know Your Heroes | The Building Blocks of Islam: The Prophet ﷺ and His Companions








No Comment! Be the first one.